
আতিয়া মসজিদ
দেলদুয়ারের আতিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে সতেরো শতকের মোগল আমলের মসজিদ; টেরাকোটা অলংকরণ আর চালাঘরের মতো বাঁকা কার্নিশের জন্য বিখ্যাত।
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জমিদার বাড়ি, প্রাচীন মসজিদ, শালবন আর যমুনার তীর — ঘুরে আসুন টাঙ্গাইল।

দেলদুয়ারের আতিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে সতেরো শতকের মোগল আমলের মসজিদ; টেরাকোটা অলংকরণ আর চালাঘরের মতো বাঁকা কার্নিশের জন্য বিখ্যাত।

ধনবাড়ী উপজেলা সদরে নওয়াব আলী চৌধুরীর পারিবারিক প্রাসাদ, ৩০ বিঘার দিঘি আর চিনিটিকরি মোজাইকের তিন গম্বুজ মসজিদ—একদিনে ঘুরে আসার মতো ঐতিহ্য।

নাগরপুরের পাকুটিয়ায় ধলেশ্বরীর তীরে একই নকশার তিনটি প্রাসাদ নিয়ে গড়া জমিদার বাড়ি; নারীমূর্তি আর লতাপাতার অলংকরণ দেখতে আসেন অনেকে।

মধুপুর উপজেলার লালমাটির গড়ে শালবনঘেরা দেশের প্রাচীনতম জাতীয় উদ্যান; হনুমান, বানর, পাখি আর হরিণ প্রজনন কেন্দ্র দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীরা আসেন।

মির্জাপুরের মহেড়ায় ১৮৯০ সাল নাগাদ গড়া সাহা জমিদারদের প্রাসাদ — চার লজ, বিশাখা সাগর দিঘি আর বাগান; এখন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ভেতরে।

ভূঞাপুর ও সিরাজগঞ্জকে যুক্ত করা প্রায় ৪.৮ কিমি দীর্ঘ যমুনা সেতু ১৯৯৮ সালে চালু হয়; পূর্ব প্রান্ত থেকে বিশাল যমুনা আর দুই সেতুর দৃশ্য দেখা যায়।
ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘি বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তর দিকে একটি বিনোদন পার্ক; উপজেলা তথ্য বাতায়নের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় প্রথম নাম এটিই।
দেলদুয়ারের আতিয়ায়, আতিয়া মসজিদের কাছে সুফি সাধক ও আতিয়া পরগনার শাসক শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরীর (র.) মাজার; প্রতিবছর তিন দিনের ওরস হয়।
টাঙ্গাইল শহরের পুরোনো অংশ আদি টাঙ্গাইলে বায়তুল আমান মসজিদ, স্থানীয়ভাবে চাপড়া মসজিদ নামে পরিচিত—সক্রিয় মসজিদ, শহরকেন্দ্র থেকে রিকশায় যাওয়া যায়।
নাগরপুরে চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণে প্রায় ১১ একরের জমিদার আমলের দিঘি; চারপাশে ১২টি বাঁধানো ঘাট বলে লোকমুখে বারো ঘাটলা দিঘি—বিকেলে বেড়ানোর শান্ত জায়গা।
টাঙ্গাইল শহরের সেন্ট্রাল জেল সড়কের পাশে একটি বিনোদন পার্ক; যাওয়ার আগে খোলার সময়, প্রবেশ ফি ও চালু রাইড স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
ভূঞাপুরের সিরাজকান্দিতে ধলেশ্বরীর তীরে ১৯৭১ সালের আগস্টে কাদেরিয়া বাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর অস্ত্রবাহী দুটি জাহাজ ধ্বংস করে; মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় স্থান।
কালিহাতীর সল্লা ইউনিয়নের কদিম হামজানি গ্রামের প্রাচীন জামে মসজিদ। পাশেই আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের সমাধি।

টাঙ্গাইল সদরের করটিয়ায় পন্নী জমিদারদের প্রাচীরঘেরা বাড়ি; আছে রোকেয়া মহল, লোহার ঘর, দাউদ মহল আর সা'দত কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চাঁদ মিয়ার স্মৃতি।
মধুপুরের কাকরাইদে বিএডিসির বীজ উৎপাদন খামার — জেলা প্রশাসনের দর্শনীয় স্থানের তালিকাভুক্ত সবুজ ক্যাম্পাস, রাবার বাগানের পথে পড়ে।
সখিপুরের বহেড়াতৈল বাজারের পাশে কাদেরিয়া বাহিনীর শপথ স্তম্ভ; এখানে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করার শপথ নিতেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন।
মির্জাপুরে লৌহজংয়ের তীরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার গড়া কুমুদিনী হাসপাতাল ও ভারতেশ্বরী হোমস—সেবা, নারীশিক্ষা আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এক ঐতিহাসিক চত্বর।
নাগরপুরের গয়হাটায় ১৮৮২ সালে জমিদার কালী কুমার সেন চৌধুরীর গড়া সুউচ্চ সমাধি-মঠ, তাঁর পালক মা উদয়তারা চৌধুরানীর স্মরণে; এখনো এখানে পূজা হয়।
ঘাটাইলের পূর্বাঞ্চলে ধলাপাড়া ইউনিয়নের গুপ্তবৃন্দাবন—প্রাচীন তমাল গাছকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধার স্থান, যেখানে চৈত্রে বারুণী মেলা বসে।
নাগরপুর চৌধুরী বাড়ির অংশ এই কারুকাজ করা দালান জমিদারদের ঘোড়া ও সহিসদের থাকার জন্য তৈরি — চৌধুরী বাড়ি দেখার সময় একসঙ্গে দেখা যায়।
ভূঞাপুর সদরের প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছাব্বিশা গ্রাম; ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর এখানে মুক্তিযুদ্ধের সংঘর্ষ ও পরে গণহত্যা হয়।

মধুপুরের জলছত্র আনারসের প্রধান পাইকারি হাট; মৌসুমে জিআই-স্বীকৃত মধুপুরের আনারস এখান থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে যায়।
টাঙ্গাইল শহরের মসজিদ রোডে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মসজিদ — কীভাবে যাবেন এবং নামাজের সময় দর্শনার্থীরা কোন আদব মেনে চলবেন।
টাঙ্গাইল শহরের মাঝখানে নিরালা মোড়ের কাছে পৌরসভার উদ্যান; পূর্বে বড় মুক্তমঞ্চ, উত্তরে শহীদ মিনার, মেলা-অনুষ্ঠানে শহরের প্রধান মিলনস্থল।

টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে লেক ও উদ্যান; হাঁটার পথ, বসার জায়গা আর শিশু পার্কসহ শহরবাসীর বিকেলের প্রিয় জায়গা।
নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে সতেরো শতকের শুরুতে মৃধা বংশের আব্দুল মালেক খাঁ মৃধার নির্মিত মোগল ধাঁচের মসজিদ।
দেলদুয়ারে গজনবী লোহানি পরিবারের দেয়ালঘেরা একতলা জমিদার বাড়ি 'নর্থ হাউজ'; পারিবারিক কবরস্থান, মসজিদ ও আমবাগানে ঘেরা ঔপনিবেশিক স্থাপনা।
মধুপুর জাতীয় উদ্যানের গভীরে বন বিভাগের দোখলা রেস্ট হাউস। শালবনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার পথ সুন্দর, আর রাতে থাকতে আগে বন বিভাগের অনুমতি লাগে।
ঘাটাইলের ধলাপাড়ায় বংশাই নদীর কাছে চৌধুরী পরিবারের দুশো বছরের পুরোনো বাড়ি, আটচালা কাচারি ঘর ও ১৩২৩ বঙ্গাব্দে গড়া কারুকার্যময় জামে মসজিদ।
বাসাইলের কাশিল ইউনিয়নে ঝিনাই নদীর নথখোলা সেতুর পাদদেশে ১৯৭১ সালের কামুটিয়া প্রতিরোধযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ।
বাসাইলের কাউলজানী ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে নওয়াজেশ আলী ওরফে নবেবছ পাগলের মাজার; বাসাইল 'চাঁদ শহর' হবে—তাঁর এই উক্তি লোকমুখে প্রচলিত, মাঘে ওরস হয়।
নাগরপুরের মামুদনগরে প্রায় চার একর জমিতে দানশীল ভজ গোবিন্দ সাহার নামে পরিচিত কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান, এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান শ্মশান।

নাগরপুর সদরে ৫৪ একরজুড়ে গড়া চৌধুরী জমিদারদের বাড়ি — শ্বেতপাথরের মূল ভবনে এখন মহিলা কলেজ, পাশে ঘোড়ার দালান, ঝুলন দালান ও উপেন্দ্র সরোবর।
মির্জাপুরের পাকুল্লায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে তিন গম্বুজের প্রাচীন মসজিদ; মোগল ধাঁচের খাঁজকাটা খিলান আর পলেস্তারার নকশা দেখার মতো।
টাঙ্গাইল সদরের পোড়াবাড়ী—জিআই স্বীকৃত পোড়াবাড়ির চমচমের জন্মভূমি। শহর থেকে অল্প দূরে ধলেশ্বরীর পাড়ের এই গ্রামে মিষ্টির ঐতিহ্যের খোঁজে যান ভোজনরসিকেরা।
বাসাইল–সখিপুর সীমান্তে দাড়িয়াপুরের লালমাটির টিলায় লোকসাধক ফাইলা পাগলার মাজার; মাজার ঘিরে তিন দিনের মেলায় মুর্শিদি-মারফতি গানের আসর বসে।
বাসাইল–সখিপুর সীমানা ধরে বয়ে চলা বংশী (বংশাই) নদী এত আঁকাবাঁকা যে শুধু বাসাইল অংশেই প্রায় শতাধিক বাঁক; নদীপাড়ের গ্রামীণ দৃশ্যের জন্য সুন্দর।
টাঙ্গাইল শহরে জেলা প্রশাসনের উত্তরে পানির ট্যাংকের পাশে ১৯৭১-এর বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ, যেখানে জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
নাগরপুরের গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রামে ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় নিহত শহীদদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ।

বাসাইল–নলুয়া সড়ক চাপড়া বিলের বুক চিরে গেছে; বর্ষায় দুই পাশে থইথই পানি, নৌকাভ্রমণ আর হিজলগাছের জন্য এই 'বাসুলিয়া' জমে ওঠে।
মধুপুর গড়ের শোলাকুড়ি গ্রামে সুলতানি আমলের সামন্ত রাজা ভগবৎ দত্তের নামে পরিচিত বিশাল দিঘি; পাড়ের প্রাচীন মন্দিরে বৈশাখী পূর্ণিমায় শিবপূজা ও মেলা হয়।

টাঙ্গাইল শহরের উত্তর-পশ্চিমে সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর সমাধি, পাশেই ঐতিহাসিক দরবার হল ও পীর শাহ জামান দিঘি।

মধুপুর গড়ে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চারটি রাবার বাগান, প্রায় ৭,৫০০ একর; পীরগাছা-সন্তোষপুরে সারি সারি গাছ আর ভোরে কষ সংগ্রহ দেখা যায়।
টাঙ্গাইল সদরের গালা ইউনিয়নে গালা রোডের কাছে গাছপালাঘেরা খোলা জায়গা মনতলা; যাওয়ার পথ আর আগে থেকে কী জেনে নেবেন, তা এখানে।

ঘাটাইলের পূর্বাঞ্চলে মধুপুর গড়ের লালমাটির টিলাময় এলাকা মাইধারচালা; ব্রাহ্মণশাসন বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্বে, জেলা ও উপজেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকাভুক্ত।

যমুনা সেতুর উত্তরে প্রায় ৪.৮ কিমি দীর্ঘ ডুয়েল-গেজ ডাবল লাইনের রেলসেতু; ১৮ মার্চ ২০২৫ উদ্বোধন হয়, টাঙ্গাইল প্রান্তের স্টেশন ইব্রাহিমাবাদ।
মধুপুরের শালবনের ভেতরে বন বিভাগের লহরিয়া (লৌহরিয়া) হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, যেখানে দেয়ালঘেরা বনে চিত্রা হরিণ লালন করা হয়। বন দেখার পথে ঘুরে আসা যায়।
নাগরপুরে উপেন্দ্র সরোবরের (বারো ঘাটলা দিঘি) পাশে পুরোনো শিব মন্দির; প্রতি বছর শিব চতুর্দশীতে এলাকার হাজারো ভক্ত এখানে পূজা দেন।
মির্জাপুরের পাকুল্যায় ১১৯৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত রাধা কালাচাঁদ মন্দির; প্রায় ৬০ ফুট উঁচু নতুন মন্দিরের সোনালি কারুকাজে একে অনেকে 'স্বর্ণ মন্দির' বলেন।
১৯২৬ সালে ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর প্রতিষ্ঠিত করটিয়ার সা'দত কলেজ, যাকে 'বাংলার আলীগড়' বলা হয়। প্রায় শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাস টাঙ্গাইল সদরে।

ঘাটাইলের সাগরদিঘি ইউনিয়নের ১২.৮০ একরের প্রাচীন দিঘি; স্থানীয় পাল বংশীয় সাগর রাজা খনন করেন বলে জানা যায়, পশ্চিম পাড়ে ঘাটের ধ্বংসাবশেষ।

গোপালপুরের হেমনগরে ১৮৯০ সালে জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর গড়া দোতলা প্রাসাদ, ছাদের দুই পরীর ভাস্কর্যে যার ডাকনাম 'পরীর দালান'—জীর্ণ হলেও কারুকাজে মুগ্ধ করে।

গোপালপুরের পাথালিয়ায় ঝিনাই নদীর তীরে ২০১টি গম্বুজ ও ৪৫১ ফুট উঁচু মিনারের মসজিদ; স্থাপত্য দেখতে দেশজুড়ে মানুষ আসেন।