মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ
যমুনা সেতু ও যমুনা রেলসেতু পাশাপাশি

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

যমুনা রেলসেতু

Jamuna Railway Bridge

ছবি: 9182hasib · CC0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

ধরন
বিনোদন ও পার্ক
অবস্থান
ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল
শহর থেকে (সোজা দূরত্ব)
প্রায় ২৩ কিমি
সেরা সময়
অক্টোবর–মার্চ
পড়তে লাগবে
৪ মিনিট

যমুনা সেতুর উত্তরে প্রায় ৪.৮ কিমি দীর্ঘ ডুয়েল-গেজ ডাবল লাইনের রেলসেতু; ১৮ মার্চ ২০২৫ উদ্বোধন হয়, টাঙ্গাইল প্রান্তের স্টেশন ইব্রাহিমাবাদ।

পরিচিতি

যমুনা রেলসেতু (Jamuna Railway Bridge) দেশের দীর্ঘতম রেলসেতু, যা শুধু ট্রেন চলাচলের জন্যই তৈরি। প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার লম্বা এই সেতু টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরকে নদীর ওপারে সিরাজগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পুরোনো যমুনা সেতুর মোটামুটি ৩০০ মিটার উত্তরে এটি সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আছে।

সেতুতে পাশাপাশি দুটি লাইন, আর প্রতিটি লাইনে ব্রড ও মিটার—দুই গেজের ট্রেনই চলতে পারে। আগে সড়কসেতুর একক লাইনে কম গতিতে ট্রেন পার হতে হতো; নতুন সেতুতে সেই সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ায় ঢাকা থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেলযাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ হয়েছে।

ইতিহাস ও নামকরণ

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। অর্থায়নের বড় অংশ এসেছে জাপানের জাইকার ঋণ থেকে, বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পূর্ব ও পশ্চিম অংশের কাজ দুটি আলাদা প্যাকেজে দুটি জাপানি যৌথ উদ্যোগ সম্পন্ন করে।

নির্মাণকালে নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলসেতু’। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেলওয়ে এর নাম বদলে ‘যমুনা রেলসেতু’ রাখে। একই সময়ে দুই প্রান্তের স্টেশনের নামও বদলানো হয়: টাঙ্গাইল প্রান্তের ‘বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব’ হয় ইব্রাহিমাবাদ, আর সিরাজগঞ্জ প্রান্তের ‘বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম’ হয় সায়দাবাদ।

২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি লাইনে যাত্রীবাহী ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে চলতে শুরু করে, আর ১৮ মার্চ ২০২৫ সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়। সেদিন থেকে পুরোনো সড়কসেতু দিয়ে ট্রেন চলা পুরোপুরি বন্ধ।

যা যা দেখবেন

রং ছাড়া ইস্পাতের সেতু

সেতুটি ওয়েদারিং স্টিল দিয়ে তৈরি, যে ইস্পাত নিজের গায়ে একটি সুরক্ষা-স্তর তৈরি করে বলে মরিচা ঠেকাতে আলাদা রং করতে হয় না। এ কারণে সেতুর গায়ের রং লালচে-বাদামি, যা সড়কসেতুর ধূসর কংক্রিটের পাশে আলাদা করে চোখে পড়ে। দেশে রংবিহীন এই ইস্পাতের ব্যবহারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে সেতুটিকে ধরা হয়।

দ্রুত পারাপার

নতুন সেতুতে ব্রডগেজ ট্রেন ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার আর মিটারগেজ ট্রেন ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলার উপযোগী। উদ্বোধনের দিনের খবর অনুযায়ী, যেখানে আগে নদী পার হতে ২০–২৫ মিনিট লাগত, এখন লাগে দুই-তিন মিনিট।

দুই সেতুর পাশাপাশি দৃশ্য

ট্রেনে বসে সেতু পার হওয়ার সময় দক্ষিণ দিকে তাকালে কংক্রিটের যমুনা সেতু আর নিচে বিস্তীর্ণ নদী দেখা যায়। নদীতীর থেকে দেখলে দুটি সেতু একসঙ্গে ফ্রেমে আসে।

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চের শুকনো মৌসুমে আকাশ পরিষ্কার থাকে, নদীর চর আর সেতুর সারি স্পষ্ট দেখা যায়। ট্রেনে পার হওয়ার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে দিনের আলোয় চলা কোনো ট্রেন বেছে নিন; বিকেলের আলো সবচেয়ে সুন্দর।

খাওয়াদাওয়া

স্টেশন বা সেতু এলাকায় বড় পরিসরে খাবারের ব্যবস্থা নেই। এলেঙ্গা মোড় বা ভূঞাপুর সদরে সাধারণ খাবারের দোকান পাবেন।

থাকার ব্যবস্থা

সাধারণত একদিনের ভ্রমণেই যথেষ্ট। রাতে থাকতে চাইলে ভূঞাপুর সদর, এলেঙ্গা বা টাঙ্গাইল শহর কাছের ভরসা।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • রেলসেতুর ওপর বা রেললাইন ধরে হাঁটা বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ; কোনোভাবেই লাইনে নামবেন না।
  • চলন্ত ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বা জানালা দিয়ে ঝুঁকে ছবি তুলবেন না।
  • অনলাইনে টিকিট কাটার সময় পুরোনো ‘বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব’ নাম নয়, ‘ইব্রাহিমাবাদ’ লিখে খুঁজুন।
  • উদ্বোধনের পর সেতু পারাপারে ভাড়ার সঙ্গে আলাদা মাশুল যোগ হয়েছে; টিকিটের দাম রেলওয়ের সর্বশেষ তালিকায় দেখে নিন।
  • সেতু ও স্টেশন এলাকা রাষ্ট্রীয় স্থাপনা; নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলুন।

যমুনা রেলসেতু-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা ট্রেনে: ঢাকা থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেন ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন পেরিয়ে এই সেতু দিয়ে নদী পার হয়। কোন ট্রেন ইব্রাহিমাবাদে থামে, তা বাংলাদেশ রেলওয়ের সময়সূচিতে দেখে নিন। সড়কপথে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে এলেঙ্গা হয়ে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে এলেই রেলসেতু দেখা যায়।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এলেঙ্গা, সেখান থেকে সেতু এলাকার দিকে গেলে ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন ও রেলসেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছাবেন।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে উঠুন; সেতুতে ওঠার আগে পূর্ব প্রান্তে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি রেখে দূর থেকে রেলসেতু দেখুন।

  4. যমুনা রেলসেতু

    ভূঞাপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

যমুনা রেলসেতু কত কিলোমিটার?

প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার। এটি দেশের দীর্ঘতম রেলসেতু।

যমুনা রেলসেতু কবে উদ্বোধন হয়?

২০২৫ সালের ১৮ মার্চ। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল।

টাঙ্গাইল প্রান্তের স্টেশনের নাম কী?

ইব্রাহিমাবাদ। আগে এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব। ওপারের সিরাজগঞ্জ প্রান্তের স্টেশন এখন সায়দাবাদ।

রেলসেতু আর যমুনা সেতু কি আলাদা?

হ্যাঁ। রেলসেতুটি সড়কের যমুনা সেতুর প্রায় ৩০০ মিটার উত্তরে আলাদা কাঠামো, শুধু ট্রেনের জন্য।

যমুনা রেলসেতু কোথায় অবস্থিত?

যমুনা রেলসেতু টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলায় অবস্থিত। টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্র থেকে সোজা দূরত্বে প্রায় ২৩ কিমি।

যমুনা রেলসেতু-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা ট্রেনে: ঢাকা থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেন ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন পেরিয়ে এই সেতু দিয়ে নদী পার হয়। কোন ট্রেন ইব্রাহিমাবাদে থামে, তা বাংলাদেশ রেলওয়ের সময়সূচিতে দেখে নিন। সড়কপথে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে এলেঙ্গা হয়ে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে এলেই রেলসেতু দেখা যায়। টাঙ্গাইল শহর থেকে: বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এলেঙ্গা, সেখান থেকে সেতু এলাকার দিকে গেলে ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন ও রেলসেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছাবেন। নিজস্ব গাড়িতে: এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে উঠুন; সেতুতে ওঠার আগে পূর্ব প্রান্তে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি রেখে দূর থেকে রেলসেতু দেখুন।

যমুনা রেলসেতু ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

অক্টোবর–মার্চ; দিনের আলোয়, বিশেষ করে বিকেলে

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: প্রথম আলো, বাসস (উদ্বোধন ও নাম পরিবর্তন, ২০২৪–২০২৫); স্থানাঙ্ক Wikidata· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
টাঙ্গাইল প্রান্ত থেকে সূর্যাস্তে যমুনা সেতু
বিনোদন ও পার্ক•ভূঞাপুর

যমুনা সেতু

ভূঞাপুর ও সিরাজগঞ্জকে যুক্ত করা প্রায় ৪.৮ কিমি দীর্ঘ যমুনা সেতু ১৯৯৮ সালে চালু হয়; পূর্ব প্রান্ত থেকে বিশাল যমুনা আর দুই সেতুর দৃশ্য দেখা যায়।

হেমনগর জমিদার বাড়ি (রাজবাড়ি), গোপালপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•গোপালপুর

হেমনগর জমিদার বাড়ি

গোপালপুরের হেমনগরে ১৮৯০ সালে জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর গড়া দোতলা প্রাসাদ, ছাদের দুই পরীর ভাস্কর্যে যার ডাকনাম 'পরীর দালান'—জীর্ণ হলেও কারুকাজে মুগ্ধ করে।

টাঙ্গাইল শহরের ডিসি লেক
বিনোদন ও পার্ক•টাঙ্গাইল সদর

ডিসি লেক

টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে লেক ও উদ্যান; হাঁটার পথ, বসার জায়গা আর শিশু পার্কসহ শহরবাসীর বিকেলের প্রিয় জায়গা।