মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ

Bongram Mass Grave Memorial

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
নাগরপুর, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
সারা বছর
পড়তে লাগবে
২ মিনিট

নাগরপুরের গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রামে ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় নিহত শহীদদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ।

পরিচিতি

বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নে। নাগরপুর উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলা, দুই তথ্য বাতায়নেই এর নাম দর্শনীয় স্থানের তালিকায় আছে। এটি বিনোদনের জায়গা নয়। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানোর স্থান।

ইতিহাস ও নামকরণ

সরকারি তথ্য বাতায়নের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৭১ সালে বনগ্রাম ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটি। সে বছরের ২৫ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনী হঠাৎ গ্রামটিতে হামলা চালায়। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ গ্রামবাসী মিলিয়ে বহু মানুষ শহীদ হন, পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক ঘরবাড়ি। পরে গ্রামের মানুষ শহীদদের একসঙ্গে একটি কবরে দাফন করেন। সেই জায়গাতেই পরে গণকবর স্মৃতিসৌধ গড়ে ওঠে।

শহীদের সংখ্যা নিয়ে সূত্রভেদে ভিন্নতা আছে। তথ্য বাতায়নের বিবরণে সংখ্যাটি প্রায় ৭৬। প্রথম আলোর নাগরিক সংবাদ বিভাগের একটি লেখায় ৫৭ জন নিহত হওয়া এবং ১২৯টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে এটাও বলা হয়েছে যে নারী-শিশুরাও রেহাই পাননি।

ভ্রমণের সেরা সময়

বছরের যেকোনো সময় শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া যায়। প্রতি বছর ২৫ অক্টোবর এই হত্যাকাণ্ডের দিন। বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) আর স্বাধীনতা দিবসেও (২৬ মার্চ) অনেকে স্মৃতিসৌধে যান। গ্রামীণ পথ বলে বর্ষায় কাদা থাকতে পারে। দিনের আলো থাকতেই যান।

থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল শহর থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। কাছের থাকার জায়গা নাগরপুর উপজেলা সদর বা টাঙ্গাইল শহরে।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • এটি শহীদদের কবর। নীরবতা আর শালীনতা বজায় রাখুন।
  • সমাধিবেদীর ওপর উঠবেন না, বসবেন না।
  • জোরে গান বাজানো বা আনন্দভ্রমণের মতো আচরণ করবেন না।
  • ছবি তুলতে পারেন, তবে সম্মান রেখে। শহীদ পরিবারের কেউ থাকলে আগে অনুমতি নিন।
  • ফুল দিতে চাইলে সঙ্গে নিয়ে যান। আশপাশ পরিষ্কার রাখুন।
  • জায়গাটি গ্রামের ভেতরে। পথ চিনতে গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয়দের সাহায্য নিন।

বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল পৌঁছে সেখান থেকে নাগরপুরে যেতে হয়।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    জেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী টাঙ্গাইল থেকে সিএনজিতে নাগরপুর হয়ে বনগ্রামে যাওয়া যায়। উপজেলা বাতায়ন বলছে, নাগরপুর সদর থেকে গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদ পার হয়ে যেকোনো গাড়িতে গণকবর পর্যন্ত পৌঁছানো যায়।

  3. বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ

    নাগরপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

বনগ্রাম গণকবর কোথায়?

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রামে।

বনগ্রামে কবে হত্যাকাণ্ড ঘটে?

১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর। ওই দিন পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই গ্রামে হামলা চালায়।

বনগ্রামে কতজন শহীদ হন?

সূত্রভেদে সংখ্যা আলাদা। তথ্য বাতায়নের বিবরণে প্রায় ৭৬ জন, প্রথম আলোর নাগরিক সংবাদে ৫৭ জন।

বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত?

বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত।

বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল পৌঁছে সেখান থেকে নাগরপুরে যেতে হয়। টাঙ্গাইল শহর থেকে: জেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী টাঙ্গাইল থেকে সিএনজিতে নাগরপুর হয়ে বনগ্রামে যাওয়া যায়। উপজেলা বাতায়ন বলছে, নাগরপুর সদর থেকে গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদ পার হয়ে যেকোনো গাড়িতে গণকবর পর্যন্ত পৌঁছানো যায়।

বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

সারা বছর; দিনের আলোয়; ২৫ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের দিন

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, নাগরপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

নাগরপুরের পাকুটিয়ায় ধলেশ্বরীর তীরে একই নকশার তিনটি প্রাসাদ নিয়ে গড়া জমিদার বাড়ি; নারীমূর্তি আর লতাপাতার অলংকরণ দেখতে আসেন অনেকে।

নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ি (জমিদার বাড়ি)
ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি)

নাগরপুর সদরে ৫৪ একরজুড়ে গড়া চৌধুরী জমিদারদের বাড়ি — শ্বেতপাথরের মূল ভবনে এখন মহিলা কলেজ, পাশে ঘোড়ার দালান, ঝুলন দালান ও উপেন্দ্র সরোবর।

ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি)

নাগরপুরে চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণে প্রায় ১১ একরের জমিদার আমলের দিঘি; চারপাশে ১২টি বাঁধানো ঘাট বলে লোকমুখে বারো ঘাটলা দিঘি—বিকেলে বেড়ানোর শান্ত জায়গা।