মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

কদিম হামজানি মসজিদ

Kadim Hamzani Mosque

ধরন
ধর্মীয় স্থান
অবস্থান
কালিহাতী, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
নভেম্বর–মার্চ
পড়তে লাগবে
৩ মিনিট

কালিহাতীর সল্লা ইউনিয়নের কদিম হামজানি গ্রামের প্রাচীন জামে মসজিদ। পাশেই আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের সমাধি।

পরিচিতি

কদিম হামজানি মসজিদ (কাদিমহামজানি নামেও লেখা হয়) টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের কদিম হামজানি গ্রামে অবস্থিত। বাংলাপিডিয়ায় কালিহাতীর প্রত্ননিদর্শনের তালিকায় "কদিমহামজানি জামে মসজিদ (সল্লা)" নামে এর উল্লেখ আছে।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় টাঙ্গাইলের মুসলিম ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে আটিয়া ও ধনবাড়ীর মসজিদের পাশে কদিম হামজানির মসজিদের নামও এসেছে। পাশের কবরস্থানে শুয়ে আছেন ভাষা আন্দোলনের সংগঠক শামসুল হক। এ কারণে ইতিহাসে আগ্রহী মানুষের কাছে জায়গাটির আলাদা টান আছে।

ইতিহাস ও নামকরণ

মসজিদটি কে বা কবে নির্মাণ করেছিলেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তারিখ পাওয়া যায়নি। "কদিম" শব্দের অর্থ পুরোনো। গ্রামের নামেই মসজিদের নাম।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক মারা যান ১৯৬৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। বাংলা উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় তিনি কালিহাতীর জোকারচর গ্রামে এক পরিচিতজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়, আর তাঁকে কদিম হামজানি কবরস্থানে দাফন করা হয়। দীর্ঘদিন বিষয়টি প্রায় অজানা ছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালের মে মাসে তাঁর কবরের সন্ধান মেলে।

যা যা দেখবেন

প্রাচীন জামে মসজিদ

এটি গ্রামের সক্রিয় জামে মসজিদ, আর বাংলাপিডিয়া একে কালিহাতীর প্রত্ননিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। স্থাপত্যের খুঁটিনাটি নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো বিবরণ আমরা পাইনি। তাই গিয়ে নিজের চোখে দেখে নেওয়াই ভালো।

শামসুল হকের সমাধি

মসজিদের পাশে কদিম হামজানি কবরস্থানে ভাষা আন্দোলনের সংগঠক ও আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের সমাধি। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনেকে এখানে আসেন।

ভ্রমণের সেরা সময়

শুষ্ক মৌসুম, নভেম্বর থেকে মার্চ, গ্রামের পথে চলাচলের জন্য সুবিধাজনক। নামাজের সময় এড়িয়ে সকাল বা বিকেলে যান।

থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল শহর বা এলেঙ্গা থেকে কয়েক ঘণ্টায় ঘুরে আসা যায়। রাতে থাকতে চাইলে টাঙ্গাইল শহর বা কালিহাতী-এলেঙ্গা এলাকায় খোঁজ নিন।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • মসজিদে শালীন পোশাক পরে যান। জামাতের সময় ভেতরে ঘোরাঘুরি বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন।
  • কবরস্থানে নীরবতা বজায় রাখুন। কবরের ওপর দিয়ে হাঁটবেন না।
  • গ্রামের ভেতরের পথ সরু হতে পারে, স্থানীয়দের কাছে পথ জেনে নিন।
  • বাসিন্দাদের বাড়ির উঠান বা ব্যক্তিগত জায়গায় অনুমতি ছাড়া ঢুকবেন না।
  • কালিহাতী এলাকায় একই দিনে এলেঙ্গা জমিদার বাড়ির মতো অন্য নিদর্শনও দেখে নিতে পারেন।

কদিম হামজানি মসজিদ-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল পেরিয়ে এলেঙ্গায় আসুন।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    এলেঙ্গা হয়ে সল্লা ইউনিয়নে যান। সল্লা এলাকা এলেঙ্গার কাছে, ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়কের পাশে। সেখান থেকে স্থানীয় অটোরিকশা বা রিকশায় "কদিম হামজানি মসজিদ" বা "শামসুল হকের কবর" বলে গ্রামে পৌঁছানো যায়।

  3. কদিম হামজানি মসজিদ

    কালিহাতী উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

কদিম হামজানি মসজিদ কোথায়?

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের কদিম হামজানি গ্রামে।

শামসুল হকের কবর কোথায়?

বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, কদিম হামজানি মসজিদের পাশের কবরস্থানে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জায়গাটি কালিহাতীর জোকারচর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আর কবরের সন্ধান মেলে ২০০৭ সালের মে মাসে।

মসজিদটি কবে তৈরি?

নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে নির্মাণের তারিখ পাওয়া যায়নি।

কদিম হামজানি মসজিদ কোথায় অবস্থিত?

কদিম হামজানি মসজিদ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলায় অবস্থিত।

কদিম হামজানি মসজিদ-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল পেরিয়ে এলেঙ্গায় আসুন। টাঙ্গাইল শহর থেকে: এলেঙ্গা হয়ে সল্লা ইউনিয়নে যান। সল্লা এলাকা এলেঙ্গার কাছে, ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়কের পাশে। সেখান থেকে স্থানীয় অটোরিকশা বা রিকশায় "কদিম হামজানি মসজিদ" বা "শামসুল হকের কবর" বলে গ্রামে পৌঁছানো যায়।

কদিম হামজানি মসজিদ ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

নভেম্বর–মার্চ; নামাজের সময় এড়িয়ে সকাল বা বিকেল

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: Banglapedia — Kalihati Upazila· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
আতিয়া জামে মসজিদের বাইরের দৃশ্য, দেলদুয়ার
ধর্মীয় স্থান•দেলদুয়ার

আতিয়া মসজিদ

দেলদুয়ারের আতিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে সতেরো শতকের মোগল আমলের মসজিদ; টেরাকোটা অলংকরণ আর চালাঘরের মতো বাঁকা কার্নিশের জন্য বিখ্যাত।

মধুপুর শালবনের সবুজ চাঁদোয়া
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য•মধুপুর

মধুপুর জাতীয় উদ্যান

মধুপুর উপজেলার লালমাটির গড়ে শালবনঘেরা দেশের প্রাচীনতম জাতীয় উদ্যান; হনুমান, বানর, পাখি আর হরিণ প্রজনন কেন্দ্র দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীরা আসেন।

মহেড়া জমিদার বাড়ির প্রাসাদের সম্মুখভাগ, মির্জাপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•মির্জাপুর

মহেড়া জমিদার বাড়ি

মির্জাপুরের মহেড়ায় ১৮৯০ সাল নাগাদ গড়া সাহা জমিদারদের প্রাসাদ — চার লজ, বিশাখা সাগর দিঘি আর বাগান; এখন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ভেতরে।