মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

ভগবৎ দত্তের দিঘি, শোলাকুড়ি

Bhagabat Datta Dighi, Sholakuri

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
মধুপুর, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
পড়তে লাগবে
৩ মিনিট

মধুপুর গড়ের শোলাকুড়ি গ্রামে সুলতানি আমলের সামন্ত রাজা ভগবৎ দত্তের নামে পরিচিত বিশাল দিঘি; পাড়ের প্রাচীন মন্দিরে বৈশাখী পূর্ণিমায় শিবপূজা ও মেলা হয়।

পরিচিতি

ভগবৎ দত্তের দিঘি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি গ্রামে, মধুপুর শালবনের গারো-অধ্যুষিত এলাকার ভেতর দিয়ে যাওয়া পাহাড়ি পথের ধারে অবস্থিত। মধুপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী পীরগাছা মিশন থেকে আরও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা লালমাটির রাস্তা পেরোলে দিঘিটির দেখা মেলে।

দিঘিটি সুলতানি আমলের সামন্ত রাজা ভগবৎ দত্তের নামে পরিচিত। পাড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রাচীন মন্দির আছে, যা স্থানটিকে ধর্মীয় দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ করেছে। মধুপুর জাতীয় উদ্যান, দোখলা আর পীরগাছা ঘুরতে আসা ভ্রমণকারীরা একই পথে এটিও দেখে নিতে পারেন।

ইতিহাস ও নামকরণ

উপজেলা পোর্টালে দিঘিটিকে সুলতানি আমলের সামন্ত রাজা ভগবৎ দত্তের দিঘি বলা হয়েছে। রাজা ভগবৎ দত্ত বা দিঘি খননের সময়কাল নিয়ে এর বাইরে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য আমরা পাইনি।

যা যা দেখবেন

বিশাল দিঘি

শালবনঘেরা পাহাড়ি এলাকায় এত বড় জলাশয় চোখে পড়ার মতো। পাড় ধরে হাঁটলে চারপাশের গ্রাম আর বনের দৃশ্য দেখা যায়।

প্রাচীন মন্দির

দিঘির পাড়ের মন্দিরে প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমায় শিবপূজা হয় এবং মেলা বসে। এটি সক্রিয় উপাসনালয়, তাই সংযত আচরণ জরুরি।

পথের দৃশ্য

দিঘিতে যাওয়ার পথে পড়ে পীরগাছার গারো পল্লী, ক্রাইস্ট মিশন ও গির্জা, আর আশপাশে সরকারি রাবার বাগান। উপজেলা পোর্টাল অনুযায়ী রাবার বাগানে খুব ভোরে শ্রমিকেরা গাছের বাকল কেটে কাঁচা রাবার সংগ্রহ করেন—ভোরে রওনা দিলে এই দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকে।

ভ্রমণের সেরা সময়

বৈশাখী পূর্ণিমায় (সাধারণত এপ্রিল-মে) মন্দিরের পূজা ও মেলার সময় জায়গাটি সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে। নিরিবিলি ভ্রমণের জন্য শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) ভালো। বর্ষায় লালমাটির পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল ও কাদাময় হয়, আর বনে জোঁকের উপদ্রব বাড়ে।

খাওয়াদাওয়া

মধুপুর আনারসের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত; মৌসুমে পথের ধারের বাজারে টাটকা আনারস মেলে। গ্রামের ভেতরে খাবারের দোকান কম, তাই পানি ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখুন।

থাকার ব্যবস্থা

মধুপুর উপজেলা সদর বা টাঙ্গাইল শহর থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। উপজেলা পোর্টাল অনুযায়ী মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দোখলায় বন বিভাগের বিশ্রামাগার ও কটেজ আছে, যা আগাম বুকিং দিয়ে ব্যবহার করা যায়; বুকিংয়ের নিয়ম বন বিভাগ থেকে জেনে নিন।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • মন্দির চত্বরে জুতা খুলে প্রবেশ করুন এবং পূজার সময় ভক্তদের বিরক্ত করবেন না।
  • পথটি গারো জনগোষ্ঠীর গ্রামের ভেতর দিয়ে গেছে; বাসিন্দাদের অনুমতি ছাড়া ছবি তুলবেন না, বাড়ির আঙিনায় ঢুকবেন না।
  • বনাঞ্চলে আরামদায়ক কাপড় ও জুতা পরুন, প্যান্ট মোজার ভেতরে গুঁজে নিন—জোঁক ও পোকামাকড় থেকে বাঁচতে।
  • রোদচশমা, টুপি ও পানির বোতল সঙ্গে রাখুন; বর্ষায় রেইনকোট নিন।
  • দিঘি গভীর হতে পারে; পানিতে নামবেন না।
  • সন্ধ্যার আগে বনপথ পেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করুন।

ভগবৎ দত্তের দিঘি, শোলাকুড়ি-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল, তারপর টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ সড়কে মধুপুর। মধুপুর সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে রসুলপুরে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটক।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    মধুপুর হয়ে রসুলপুর ফটক। ফটক পেরিয়ে দোখলার পথ ধরে পীরগাছা মিশন পর্যন্ত যান, সেখান থেকে আরও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শোলাকুড়ি। এই অংশে সিএনজি, ইজিবাইক বা ভাড়া করা গাড়ি নেওয়াই সুবিধাজনক।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    বনের ভেতরের সরু, আঁকাবাঁকা পথে ধীরে চালান; বর্ষায় উঁচু গাড়ি ভালো। বনের গভীরে ঢোকার আগে প্রয়োজনে বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয় থেকে অনুমতির বিষয়টি জেনে নিন।

  4. ভগবৎ দত্তের দিঘি, শোলাকুড়ি

    মধুপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

ভগবৎ দত্তের দিঘি কোথায়?

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি গ্রামে, পীরগাছা মিশন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পেরিয়ে।

দিঘিটি কার নামে?

উপজেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী সুলতানি আমলের সামন্ত রাজা ভগবৎ দত্তের নামে।

এখানে কোন উৎসব হয়?

দিঘির পাড়ের প্রাচীন মন্দিরে বৈশাখী পূর্ণিমায় শিবপূজা হয় ও মেলা বসে।

ভগবৎ দত্তের দিঘি, শোলাকুড়ি কোথায় অবস্থিত?

ভগবৎ দত্তের দিঘি, শোলাকুড়ি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় অবস্থিত।

ভগবৎ দত্তের দিঘি, শোলাকুড়ি-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল, তারপর টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ সড়কে মধুপুর। মধুপুর সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে রসুলপুরে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটক। টাঙ্গাইল শহর থেকে: মধুপুর হয়ে রসুলপুর ফটক। ফটক পেরিয়ে দোখলার পথ ধরে পীরগাছা মিশন পর্যন্ত যান, সেখান থেকে আরও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শোলাকুড়ি। এই অংশে সিএনজি, ইজিবাইক বা ভাড়া করা গাড়ি নেওয়াই সুবিধাজনক। নিজস্ব গাড়িতে: বনের ভেতরের সরু, আঁকাবাঁকা পথে ধীরে চালান; বর্ষায় উঁচু গাড়ি ভালো। বনের গভীরে ঢোকার আগে প্রয়োজনে বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয় থেকে অনুমতির বিষয়টি জেনে নিন।

ভগবৎ দত্তের দিঘি, শোলাকুড়ি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি; উৎসব দেখতে বৈশাখী পূর্ণিমায়

তথ্যসূত্র

  • দর্শনীয় স্থান — মধুপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
মধুপুর শালবনের সবুজ চাঁদোয়া
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য•মধুপুর

মধুপুর জাতীয় উদ্যান

মধুপুর উপজেলার লালমাটির গড়ে শালবনঘেরা দেশের প্রাচীনতম জাতীয় উদ্যান; হনুমান, বানর, পাখি আর হরিণ প্রজনন কেন্দ্র দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীরা আসেন।

মধুপুরের রাবার বাগান (পীরগাছা/সন্তোষপুর)
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য•মধুপুর

মধুপুরের রাবার বাগান (পীরগাছা/সন্তোষপুর)

মধুপুর গড়ে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চারটি রাবার বাগান, প্রায় ৭,৫০০ একর; পীরগাছা-সন্তোষপুরে সারি সারি গাছ আর ভোরে কষ সংগ্রহ দেখা যায়।

জলছত্র আনারসের হাট
বিনোদন ও পার্ক•মধুপুর

জলছত্র আনারসের হাট

মধুপুরের জলছত্র আনারসের প্রধান পাইকারি হাট; মৌসুমে জিআই-স্বীকৃত মধুপুরের আনারস এখান থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে যায়।