মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ
নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ি (জমিদার বাড়ি)

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি)

Nagarpur Zamindar Bari (Chowdhury Bari)

ছবি: Yusuf Hossain Lanin · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
নাগরপুর, টাঙ্গাইল
শহর থেকে (সোজা দূরত্ব)
প্রায় ২২ কিমি
সেরা সময়
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
পড়তে লাগবে
৪ মিনিট

নাগরপুর সদরে ৫৪ একরজুড়ে গড়া চৌধুরী জমিদারদের বাড়ি — শ্বেতপাথরের মূল ভবনে এখন মহিলা কলেজ, পাশে ঘোড়ার দালান, ঝুলন দালান ও উপেন্দ্র সরোবর।

পরিচিতি

নাগরপুর জমিদার বাড়ি স্থানীয়ভাবে চৌধুরী বাড়ি নামে পরিচিত। এটি নাগরপুর উপজেলা সদরে, নাগরপুর বাজার থেকে হাসপাতাল রোড ধরে এগোলে নাগরপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রাঙ্গণে। জেলা প্রশাসনের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় এর নাম আছে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর এই জমিদারি কমপ্লেক্সে পাশ্চাত্য ও মোগল রীতির মিশেলে গড়া মূল ভবন ছাড়াও ঝুলন দালান, ঘোড়ার দালানসহ কয়েকটি স্থাপনা ছড়িয়ে আছে, আর দক্ষিণে আছে বিশাল উপেন্দ্র সরোবর। ভবনগুলোর অনেক অংশ এখন জরাজীর্ণ, তবু এক বিকেলে নাগরপুরের জমিদারি ইতিহাসের একটা পূর্ণ ছবি এখানে পাওয়া যায়।

ইতিহাস ও নামকরণ

জেলা ও উপজেলা তথ্য বাতায়নের বিবরণ অনুযায়ী, সুবিদ্ধা খাঁর সূত্র ধরে চৌধুরী বংশ নাগরপুরে জমিদারি শুরু করে। বংশের প্রথম পুরুষ যদুনাথ চৌধুরী প্রায় ৫৪ একর জমির ওপর জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর তিন ছেলে ছিলেন উপেন্দ্র মোহন, জগদীন্দ্র মোহন ও শশাঙ্ক মোহন চৌধুরী।

উপেন্দ্র মোহনের বড় ছেলে সতীশ চন্দ্র রায় চৌধুরী জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিতে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ‘রায় বাহাদুর’ খেতাব পান। ছোট ছেলে সুরেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন শৌখিন ও খেলাপাগল মানুষ — উপমহাদেশের বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে তাঁর নাম পাওয়া যায়। কথিত আছে, রায় বাহাদুর নাগরপুরকে কলকাতার আদলে সাজানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তৎকালীন সরকার চৌধুরী বাড়ির সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। পরে মূল ভবনে নাগরপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

যা যা দেখবেন

মূল ভবন ও বৈঠকখানা

পাশ্চাত্য ও মোগল ধাঁচ মিলিয়ে গড়া মূল অট্টালিকার ভেতরের কাজ শ্বেতপাথরের। বৈঠকখানা ভবনটি ছিল সুরেশ চৌধুরীর প্রিয় আড্ডার জায়গা; এর ওপরে ছিল নহবতখানা, যেখান থেকে ভোরে সানাইয়ের সুর ভেসে আসত বলে বর্ণনা পাওয়া যায়।

ঝুলন দালান

চৌধুরী পরিবারের নিত্যপূজা হতো এই দালানে। শ্রাবণের পূর্ণিমা তিথিতে এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাটক ও যাত্রা মঞ্চস্থ হতো। স্বাধীনতার পর পরিবারের শেষ প্রতিনিধি মিলন দেবী এখানেই বিগ্রহ রক্ষা করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন।

ঘোড়ার দালান

জমিদারি ও ব্যবসার কাজে পোষা ঘোড়া আর সেগুলোর দেখভালকারীদের থাকার জন্য তৈরি কারুকাজ করা ভবন।

রংমহল ও চিড়িয়াখানার স্মৃতি

রংমহলের পাশে একসময় একটি চিড়িয়াখানা ছিল — ময়ূর, কাকাতুয়া, হরিণ, ময়নার পাশাপাশি শেষ দিকে বাঘ ও সিংহও রাখা হয়েছিল বলে বর্ণনা আছে। এখন তার কোনো চিহ্ন নেই। উইকিপিডিয়ায় পরীর দালান ও বাঘের দালান নামে আরও দুটি স্থাপনার উল্লেখ আছে।

উপেন্দ্র সরোবর

চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণে প্রায় ১১ একরজুড়ে বিশাল এই দিঘি। জেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, প্রজাদের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে রায় বাহাদুর বিহার থেকে দিঘি খননের কারিগর এনে এটি খনন করান। চারপাশে বারোটি বাঁধানো ঘাট আর পানি পরিষ্কার রাখতে ছয়টি গভীর কুয়া তৈরি করা হয়েছিল, পাড়ে লাগানো হয়েছিল খেজুরগাছ। দিঘির পাশে একটি শিব মন্দিরও আছে।

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি শুকনো ও আরামদায়ক আবহাওয়ায় ঘোরা সহজ। কলেজ খোলা থাকার দিনে প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে, তাই বিকেলের দিকে বা ছুটির সময় গেলে শান্তভাবে দেখা যায় — তবে প্রবেশের অনুমতি আগে নিশ্চিত করুন।

খাওয়াদাওয়া

নাগরপুর বাজারে সাধারণ খাবারের দোকান পাওয়া যায়। জেলার পরিচিত মিষ্টি চমচমের খোঁজও স্থানীয় দোকানে নিতে পারেন।

থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল শহর থেকে দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা যায়। রাতে থাকতে চাইলে টাঙ্গাইল শহরই সবচেয়ে সুবিধাজনক।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • মূল ভবন এখন কলেজ; প্রাঙ্গণে ঢোকার আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিন এবং ক্লাস চলাকালে বিঘ্ন ঘটাবেন না।
  • জীর্ণ ভবনে ওঠা বা ভেতরে ঢোকা ঝুঁকিপূর্ণ; ভাঙা সিঁড়ি ও ছাদের নিচে দাঁড়াবেন না।
  • কিছু অংশে সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে, প্রবেশের নিয়ম মেনে চলুন।
  • শিব মন্দির ও ঝুলন দালান উপাসনার সঙ্গে জড়িত; জুতা খোলা ও শালীনতার নিয়ম মানুন।
  • দিঘির ঘাটে নামার সময় শিশুদের দিকে খেয়াল রাখুন; বর্ষায় ঘাট পিচ্ছিল থাকে।
  • দেয়ালে নাম লেখা বা কারুকাজ ভাঙা থেকে বিরত থাকুন।

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি)-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে পৌঁছে সেখান থেকে নাগরপুরগামী বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উপজেলা সদরে যান।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    টাঙ্গাইল–আরিচা সড়ক ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমে নাগরপুর সদর। নাগরপুর বাজার থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় হাসপাতাল রোড ধরে মহিলা কলেজ পর্যন্ত গেলেই চৌধুরী বাড়ি। উপেন্দ্র সরোবর সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে, টাঙ্গাইল–আরিচা সড়কের পূর্ব পাশে।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    নাগরপুর বাজার পার হয়ে হাসপাতাল রোডে ঢুকুন; কলেজ প্রাঙ্গণে গাড়ি রাখার আগে অনুমতি নিন।

  4. নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি)

    নাগরপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

নাগরপুর জমিদার বাড়ি কোথায়?

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরে, নাগরপুর বাজার থেকে হাসপাতাল রোডে নাগরপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে।

নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কে প্রতিষ্ঠা করেন?

চৌধুরী বংশের প্রথম পুরুষ যদুনাথ চৌধুরী প্রায় ৫৪ একর জমির ওপর এই জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।

চৌধুরী বাড়ির মূল ভবনে এখন কী আছে?

১৯৪৭-এর পর সরকার সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে; মূল ভবনে এখন নাগরপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ।

উপেন্দ্র সরোবর কোথায়?

চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণে, প্রায় ১১ একর জায়গাজুড়ে। এর চারপাশে বারোটি ঘাট আছে।

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) কোথায় অবস্থিত?

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত। টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্র থেকে সোজা দূরত্বে প্রায় ২২ কিমি।

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি)-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে পৌঁছে সেখান থেকে নাগরপুরগামী বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উপজেলা সদরে যান। টাঙ্গাইল শহর থেকে: টাঙ্গাইল–আরিচা সড়ক ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমে নাগরপুর সদর। নাগরপুর বাজার থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় হাসপাতাল রোড ধরে মহিলা কলেজ পর্যন্ত গেলেই চৌধুরী বাড়ি। উপেন্দ্র সরোবর সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে, টাঙ্গাইল–আরিচা সড়কের পূর্ব পাশে। নিজস্ব গাড়িতে: নাগরপুর বাজার পার হয়ে হাসপাতাল রোডে ঢুকুন; কলেজ প্রাঙ্গণে গাড়ি রাখার আগে অনুমতি নিন।

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি; বিকেল

তথ্যসূত্র

  • নাগরপুর চৌধুরী বাড়ী (জমিদার বাড়ি) — টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন
  • নাগরপুর চৌধুরীবাড়ী — নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন
  • উপেন্দ্র সরোবর — টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন
  • উপেন্দ্র সরোবর (দিঘি) — নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন
  • দর্শনীয় স্থানের তালিকা — টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন
  • নাগরপুর চৌধুরীবাড়ী — বাংলা উইকিপিডিয়া
  • Wikidata Q31724955

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: জেলা প্রশাসনের দর্শনীয় স্থানের তালিকা (tangail.gov.bd); অবস্থান Wikidata Q31724955; সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
ধর্মীয় স্থান•নাগরপুর

নাগরপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান

নাগরপুরের মামুদনগরে প্রায় চার একর জমিতে দানশীল ভজ গোবিন্দ সাহার নামে পরিচিত কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান, এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান শ্মশান।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, নাগরপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

নাগরপুরের পাকুটিয়ায় ধলেশ্বরীর তীরে একই নকশার তিনটি প্রাসাদ নিয়ে গড়া জমিদার বাড়ি; নারীমূর্তি আর লতাপাতার অলংকরণ দেখতে আসেন অনেকে।

আতিয়া জামে মসজিদের বাইরের দৃশ্য, দেলদুয়ার
ধর্মীয় স্থান•দেলদুয়ার

আতিয়া মসজিদ

দেলদুয়ারের আতিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে সতেরো শতকের মোগল আমলের মসজিদ; টেরাকোটা অলংকরণ আর চালাঘরের মতো বাঁকা কার্নিশের জন্য বিখ্যাত।