মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

আদম কাশ্মিরী (র.) এর মাজার, আটিয়া

Mazar of Adam Kashmiri, Atia

ধরন
ধর্মীয় স্থান
অবস্থান
দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
সারা বছর
পড়তে লাগবে
৩ মিনিট

দেলদুয়ারের আতিয়ায়, আতিয়া মসজিদের কাছে সুফি সাধক ও আতিয়া পরগনার শাসক শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরীর (র.) মাজার; প্রতিবছর তিন দিনের ওরস হয়।

পরিচিতি

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়ায় শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরীর (র.) মাজার অবস্থিত। ইসলাম প্রচারক এই সুফি সাধক ছিলেন আতিয়া পরগনার শাসক। দেলদুয়ার উপজেলা পোর্টাল জানায়, বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁকে এই পরগনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

মাজারের খুব কাছেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি আতিয়া মসজিদ, যা তাঁর সম্মানে নির্মিত। তাই আতিয়ায় যাঁরা যান, তাঁরা সাধারণত মসজিদ ও মাজার একসঙ্গে দেখেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে আতিয়া গ্রামটি টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে, লৌহজং নদীর তীরে।

ইতিহাস ও নামকরণ

বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী আদম কাশ্মিরী নিজের খরচের জন্য রাজকোষ থেকে সামান্য অর্থ নিয়ে বাকিটা মক্তব, মাদ্রাসা ও রাস্তাঘাটের মতো জনকল্যাণে ব্যয় করতেন। সেখানে আরও বলা আছে, জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে পরগনাটি তাঁকে দান করা হয়েছিল, আর "আতিয়া" শব্দের অর্থও দান। তাঁর আমলে আতিয়ায় উন্নত মানের কাগজ তৈরি হতো বলেও উল্লেখ আছে। জনশ্রুতি আছে, তিনি দেড়শো বছর আয়ু পেয়েছিলেন।

মৃত্যুর আগে তিনি প্রিয় ভক্ত সাঈদ খান পন্নীর হাতে পরগনার শাসনভার তুলে দেন। এই সাঈদ খান পন্নীই করটিয়া জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা, যিনি আদম কাশ্মিরীর সম্মানে মাজারের কাছে আতিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন। দেলদুয়ার উপজেলা পোর্টালে মসজিদ নির্মাণের সাল ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দ বলা হয়েছে। বাংলা উইকিপিডিয়ায় আদম কাশ্মিরীর মৃত্যুসাল ১৬১৩, তবে অন্য সূত্রে ভিন্ন সালও পাওয়া যায়।

যা যা দেখবেন

মাজার

মাজারটি আতিয়া মসজিদের কাছেই। এখানে ভক্তরা জিয়ারত করতে আসেন; দর্শনার্থী হিসেবেও সংযত থেকে শ্রদ্ধা জানানোই রীতি।

পাশের আতিয়া মসজিদ

মাজারের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত আতিয়া মসজিদ মোগল আমলের চার গম্বুজের স্থাপনা, যার দেয়ালে টেরাকোটার নকশা আছে। ১৯৭৮ সালে চালু হওয়া পুরোনো ১০ টাকার নোটে এই মসজিদের ছবি ছাপা হয়েছিল। মসজিদের বিস্তারিত তথ্য আমাদের আতিয়া মসজিদ পাতায় পাবেন।

ভ্রমণের সেরা সময়

বছরের যেকোনো সময় জিয়ারতে যাওয়া যায়, তবে শীতের শুকনো দিনগুলোতে আতিয়া ঘুরে দেখা আরামদায়ক। প্রতিবছর মাজারে তিন দিনের ওরস হয়; ওরসের সময় ভক্তদের ভিড় অনেক বেশি থাকে। ওরসের নির্দিষ্ট তারিখ প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে ঠিক হয়, তাই আগে খোঁজ নিন।

থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল শহর কাছে হওয়ায় দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। রাতে থাকতে হলে টাঙ্গাইল শহরে আবাসনের সুযোগ বেশি।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • শালীন পোশাক পরুন; নারীরা মাথা ঢাকার কাপড় সঙ্গে রাখুন।
  • মাজারে প্রবেশের আগে জুতা খুলুন এবং নীরবতা বজায় রাখুন।
  • জিয়ারতকারীদের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
  • নামাজের ওয়াক্তে পাশের মসজিদে ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুন।
  • আতিয়া মসজিদ সংরক্ষিত পুরাকীর্তি; দেয়াল বা টেরাকোটায় হাত দেবেন না।
  • ওরসের ভিড়ে শিশু ও মূল্যবান জিনিসের দিকে খেয়াল রাখুন।

আদম কাশ্মিরী (র.) এর মাজার, আটিয়া-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে আসুন।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    আতিয়া শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পাথরাইল হয়ে আতিয়ায় যাওয়া যায়; আতিয়া মসজিদে পৌঁছালে মাজার পাশেই।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    আতিয়া মসজিদের কাছে গাড়ি রাখুন; ওরসের দিনে এলাকায় ভিড় বেশি থাকে বলে হাতে সময় রাখুন।

  4. আদম কাশ্মিরী (র.) এর মাজার, আটিয়া

    দেলদুয়ার উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

আদম কাশ্মিরীর মাজার কোথায়?

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়ায়, ঐতিহাসিক আতিয়া মসজিদের কাছে।

আদম কাশ্মিরী (র.) কে ছিলেন?

তিনি ছিলেন ইসলাম প্রচারক সুফি সাধক এবং আতিয়া পরগনার শাসক। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁকে এ পরগনার দায়িত্ব দেন বলে উপজেলা পোর্টাল জানায়।

মাজারে ওরস কবে হয়?

প্রতিবছর এখানে তিন দিনব্যাপী ওরস হয়। নির্দিষ্ট তারিখ স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

আতিয়া মসজিদের সঙ্গে মাজারের সম্পর্ক কী?

আদম কাশ্মিরীর ভক্ত ও উত্তরসূরি সাঈদ খান পন্নী তাঁর সম্মানে মাজারের কাছে আতিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন।

আদম কাশ্মিরী (র.) এর মাজার, আটিয়া কোথায় অবস্থিত?

আদম কাশ্মিরী (র.) এর মাজার, আটিয়া টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় অবস্থিত।

আদম কাশ্মিরী (র.) এর মাজার, আটিয়া-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে আসুন। টাঙ্গাইল শহর থেকে: আতিয়া শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পাথরাইল হয়ে আতিয়ায় যাওয়া যায়; আতিয়া মসজিদে পৌঁছালে মাজার পাশেই। নিজস্ব গাড়িতে: আতিয়া মসজিদের কাছে গাড়ি রাখুন; ওরসের দিনে এলাকায় ভিড় বেশি থাকে বলে হাতে সময় রাখুন।

আদম কাশ্মিরী (র.) এর মাজার, আটিয়া ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

সারা বছর; শীতকাল আরামদায়ক, ওরসের সময় ভিড় বেশি

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
আতিয়া জামে মসজিদের বাইরের দৃশ্য, দেলদুয়ার
ধর্মীয় স্থান•দেলদুয়ার

আতিয়া মসজিদ

দেলদুয়ারের আতিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে সতেরো শতকের মোগল আমলের মসজিদ; টেরাকোটা অলংকরণ আর চালাঘরের মতো বাঁকা কার্নিশের জন্য বিখ্যাত।

ঐতিহাসিক স্থাপনা•দেলদুয়ার

দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি (নর্থ হাউজ)

দেলদুয়ারে গজনবী লোহানি পরিবারের দেয়ালঘেরা একতলা জমিদার বাড়ি 'নর্থ হাউজ'; পারিবারিক কবরস্থান, মসজিদ ও আমবাগানে ঘেরা ঔপনিবেশিক স্থাপনা।

মধুপুর শালবনের সবুজ চাঁদোয়া
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য•মধুপুর

মধুপুর জাতীয় উদ্যান

মধুপুর উপজেলার লালমাটির গড়ে শালবনঘেরা দেশের প্রাচীনতম জাতীয় উদ্যান; হনুমান, বানর, পাখি আর হরিণ প্রজনন কেন্দ্র দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীরা আসেন।