মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির, পাকুল্যা

Sri Sri Radha Kalachand Temple, Pakulla

ধরন
ধর্মীয় স্থান
অবস্থান
মির্জাপুর, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
সারা বছর
পড়তে লাগবে
৩ মিনিট

মির্জাপুরের পাকুল্যায় ১১৯৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত রাধা কালাচাঁদ মন্দির; প্রায় ৬০ ফুট উঁচু নতুন মন্দিরের সোনালি কারুকাজে একে অনেকে 'স্বর্ণ মন্দির' বলেন।

পরিচিতি

শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামে, পাকুল্যা বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি পুরোনো হিন্দু মন্দির। ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাছে হওয়ায় যাতায়াত সহজ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানে গীতাপাঠ, মহানাম যজ্ঞ, জন্মাষ্টমী, দোলযাত্রা ও ঝুলনযাত্রাসহ সারা বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। সম্প্রতি পুনর্নির্মিত সোনালি রঙের সুউচ্চ মন্দিরটি দূর থেকেই নজর কাড়ে, তাই একে স্থানীয়ভাবে অনেকে বাংলার "স্বর্ণ মন্দির" বলে ডাকেন।

ইতিহাস ও নামকরণ

মির্জাপুর উপজেলা পোর্টাল অনুযায়ী পাকুল্যার দুই সমাজসেবী রাম মোহন সাহা ও গৌর মোহন সাহা ১১৯৫ বঙ্গাব্দে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন; উইকিপিডিয়া তাঁদের দুই ভাই বলে উল্লেখ করেছে। আদি একতলা পাকা মন্দিরটি দুবার সংস্কার করা হয়।

পরে এলাকার কয়েকজন হিতৈষী মন্দিরটিকে নতুন করে গড়ার উদ্যোগ নেন। দেশ-বিদেশের বেশ কিছু মন্দির ঘুরে দেখে নকশা তৈরি করা হয়, আর নির্মাণে যুক্ত হন ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে আনা কারুশিল্পী, ঢাকার চারুকলার শিল্পী ও দেশের অন্যান্য কারিগর। উইকিপিডিয়া জানায়, সর্বশেষ ১৪২৩ বঙ্গাব্দে (২০১৬ সালে) স্থানীয়রা মন্দিরের অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেন।

যা যা দেখবেন

প্রায় ৬০ ফুট উঁচু নতুন মন্দির

নতুন মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। পুরো কাঠামোয় সোনালি রঙের প্রলেপ দেওয়ায় দূর থেকে মনে হয় সোনায় মোড়ানো।

দেবদেবীর প্রতিকৃতি

মন্দিরের ভেতরে-বাইরে নানা দেবদেবীর প্রতিকৃতি নিপুণ হাতে গড়া হয়েছে। কারুকাজের সূক্ষ্মতা দেখতে কাছ থেকে সময় নিয়ে দেখুন, তবে স্পর্শ করবেন না।

মন্দির প্রাঙ্গণ

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে প্রাঙ্গণে একটি গ্রন্থাগার, নাটমন্দির, শিবমন্দির ও রন্ধনশালা আছে; একটি অতিথিশালা নির্মাণাধীন বলে উল্লেখ আছে।

ভ্রমণের সেরা সময়

সারা বছর যাওয়া যায়। উৎসবের আবহ দেখতে চাইলে জন্মাষ্টমী, ঝুলনযাত্রা বা দোলযাত্রার সময় যেতে পারেন, তবে তখন ভক্তদের ভিড় বেশি থাকে। শীতের সকাল বা বিকেলে শান্তভাবে মন্দির দেখা যায়, আর বিকেলের আলোয় সোনালি রং আরও উজ্জ্বল দেখায়।

খাওয়াদাওয়া

পাকুল্যা বাজার ও মহাসড়কের পাশে সাধারণ খাবারের দোকান পাওয়া যায়। মন্দির চত্বরে বাইরের খাবার নিয়ে ঢোকা থেকে বিরত থাকুন।

থাকার ব্যবস্থা

ঢাকা থেকেও দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। রাতে থাকতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলা সদর বা টাঙ্গাইল শহরে খোঁজ নিন।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • মূল মন্দিরে ঢোকার আগে জুতা খুলে রাখুন এবং শালীন পোশাক পরুন।
  • পূজা বা আরতির সময় নীরব থাকুন, ভক্তদের পথ আটকাবেন না।
  • বিগ্রহ ও গর্ভগৃহের ছবি তোলার আগে মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিন।
  • প্রতিকৃতি ও সোনালি কারুকাজে হাত দেবেন না।
  • উৎসবের দিনে ভিড়ে শিশু ও মূল্যবান জিনিসের দিকে খেয়াল রাখুন।
  • মহাসড়কের পাশে নামার সময় গাড়ি চলাচলের দিকে সতর্ক থাকুন।

শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির, পাকুল্যা-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইলের দিকে এগোলে মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা এলাকা পড়ে। টাঙ্গাইলগামী বাসে পাকুল্যায় নেমে বাজার থেকে মন্দির খুঁজে নেওয়া যায়।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    মহাসড়ক ধরে দক্ষিণে ঢাকার দিকে মির্জাপুর পেরিয়ে পাকুল্যা যেতে হয়। বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পাকুল্যা বাজারে নেমে "কালাচাঁদ মন্দির" বা "স্বর্ণ মন্দির" জিজ্ঞেস করুন।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    মহাসড়ক থেকে পাকুল্যা বাজারের দিকে নেমে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি রাখুন; মহাসড়কের কাঁধে থামাবেন না।

  4. শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির, পাকুল্যা

    মির্জাপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

রাধা কালাচাঁদ মন্দির কোথায় অবস্থিত?

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামে, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাকুল্যা এলাকায়।

মন্দিরটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?

রাম মোহন সাহা ও গৌর মোহন সাহা ১১৯৫ বঙ্গাব্দে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।

একে স্বর্ণ মন্দির বলা হয় কেন?

পুনর্নির্মিত মন্দিরটিতে সোনালি রঙের প্রলেপ দেওয়ায় দূর থেকে সোনায় মোড়ানো মনে হয়। সে কারণেই অনেকে একে স্বর্ণ মন্দির বলেন।

এখানে কোন কোন উৎসব হয়?

জন্মাষ্টমী, দোলযাত্রা ও ঝুলনযাত্রা ছাড়াও গীতাপাঠ ও মহানাম যজ্ঞসহ সারা বছর ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়।

শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির, পাকুল্যা কোথায় অবস্থিত?

শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির, পাকুল্যা টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় অবস্থিত।

শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির, পাকুল্যা-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইলের দিকে এগোলে মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা এলাকা পড়ে। টাঙ্গাইলগামী বাসে পাকুল্যায় নেমে বাজার থেকে মন্দির খুঁজে নেওয়া যায়। টাঙ্গাইল শহর থেকে: মহাসড়ক ধরে দক্ষিণে ঢাকার দিকে মির্জাপুর পেরিয়ে পাকুল্যা যেতে হয়। বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পাকুল্যা বাজারে নেমে "কালাচাঁদ মন্দির" বা "স্বর্ণ মন্দির" জিজ্ঞেস করুন। নিজস্ব গাড়িতে: মহাসড়ক থেকে পাকুল্যা বাজারের দিকে নেমে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি রাখুন; মহাসড়কের কাঁধে থামাবেন না।

শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির, পাকুল্যা ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

সারা বছর; শীতের সকাল-বিকেল, উৎসব দেখতে জন্মাষ্টমী বা দোলযাত্রা

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
মহেড়া জমিদার বাড়ির প্রাসাদের সম্মুখভাগ, মির্জাপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•মির্জাপুর

মহেড়া জমিদার বাড়ি

মির্জাপুরের মহেড়ায় ১৮৯০ সাল নাগাদ গড়া সাহা জমিদারদের প্রাসাদ — চার লজ, বিশাখা সাগর দিঘি আর বাগান; এখন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ভেতরে।

ধর্মীয় স্থান•মির্জাপুর

পাকুল্লা মসজিদ

মির্জাপুরের পাকুল্লায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে তিন গম্বুজের প্রাচীন মসজিদ; মোগল ধাঁচের খাঁজকাটা খিলান আর পলেস্তারার নকশা দেখার মতো।

ঐতিহাসিক স্থাপনা•মির্জাপুর

কুমুদিনী কমপ্লেক্স ও ভারতেশ্বরী হোমস, মির্জাপুর

মির্জাপুরে লৌহজংয়ের তীরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার গড়া কুমুদিনী হাসপাতাল ও ভারতেশ্বরী হোমস—সেবা, নারীশিক্ষা আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এক ঐতিহাসিক চত্বর।