মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

ঐতিহাসিক জাহাজমারা (সিরাজকান্দি)

Jahajmara (Ship-sinking) Battle Site

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
নভেম্বর–মার্চ
পড়তে লাগবে
৩ মিনিট

ভূঞাপুরের সিরাজকান্দিতে ধলেশ্বরীর তীরে ১৯৭১ সালের আগস্টে কাদেরিয়া বাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর অস্ত্রবাহী দুটি জাহাজ ধ্বংস করে; মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় স্থান।

পরিচিতি

ঐতিহাসিক জাহাজমারা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দিতে, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর মিলনস্থলের কাছে ধলেশ্বরীর তীরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের একটি রণাঙ্গন। ১৯৭১ সালের আগস্টে এখানে নোঙর করা পাকিস্তানি বাহিনীর অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জ্বালানিবাহী জাহাজবহরে আক্রমণ চালান কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা। ঘটনাটি ইতিহাসে ‘জাহাজমারা যুদ্ধ’ নামে পরিচিত, আর এলাকাটির নামও সেই সূত্রে জাহাজমারা হয়ে আছে।

জায়গাটি বিনোদনকেন্দ্র নয়, স্মৃতি ও শ্রদ্ধার স্থান। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে গণপূর্ত বিভাগ যুদ্ধক্ষেত্রের কাছে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছে।

ইতিহাস ও নামকরণ

ভূঞাপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, ছোট-বড় সাতটি জাহাজের একটি বহর অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি ও রসদ নিয়ে সিরাজকান্দিতে নোঙর ফেলে। পরিকল্পনা ছিল উত্তরবঙ্গের ফুলছড়ি ঘাট হয়ে এসব সামগ্রী রংপুর, সৈয়দপুরসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছে দেওয়া।

কাদেরিয়া বাহিনীর ভূঞাপুর অঞ্চলের কমান্ডার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ১০ আগস্ট দুটি জাহাজে আক্রমণ করেন, আর ১১ আগস্ট জাহাজ দুটি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। জাহাজ দুটির নাম ছিল এস.টি. রাজন ও এস.ইউ. ইঞ্জিনিয়ার্স এল.সি-৩। ধ্বংসের আগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে; বাকি পাঁচটি জাহাজ পালিয়ে যায়। এই অভিযানের সাহসিকতার জন্য হাবিবুর রহমান বীর বিক্রম খেতাব পান এবং ‘জাহাজমারা হাবিব’ নামে পরিচিত হন।

বাতায়নের হিসাবে এই যুদ্ধে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও সাতজন আহত হন। এর পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী ভূঞাপুরে পাল্টা হামলা চালায়, তাতে আশপাশের জনপদ ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। হারানো অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান এ. এ. কে. নিয়াজি নিজে এসে ১৪ আগস্ট ভূঞাপুর ডাকবাংলোয় অবস্থান করেছিলেন বলে বাতায়নে উল্লেখ আছে, তবে খোয়া যাওয়া অস্ত্র আর উদ্ধার হয়নি।

হস্তগত অস্ত্রে কাদেরিয়া বাহিনীর শক্তি ও মনোবল বহুগুণ বেড়ে যায়। ইতিহাসবিদ ও গণমাধ্যম এই অভিযানকে মুক্তিযুদ্ধের মোড় ঘোরানো ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দেখে।

যা যা দেখবেন

স্মৃতিসৌধ

যুদ্ধক্ষেত্রের কাছে গণপূর্ত বিভাগের নির্মিত স্মৃতিসৌধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা যায়।

ধলেশ্বরীর তীর

যে নদীতীরে জাহাজবহর নোঙর করেছিল, সেই ধলেশ্বরী ও যমুনার মিলনস্থলের দৃশ্য ঘটনাটির ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করে।

ভ্রমণের সেরা সময়

শুকনো মৌসুমে (নভেম্বর–মার্চ) নদীতীরের পথ চলাচলের উপযোগী থাকে। প্রতি বছর ১০–১১ আগস্ট যুদ্ধের বার্ষিকী; স্থানীয়ভাবে কোনো স্মরণ অনুষ্ঠান হয় কিনা আগে জেনে নিতে পারেন। দিনের আলো থাকতে থাকতে ফিরুন।

থাকার ব্যবস্থা

ভূঞাপুর সদর থেকে কাছেই, তাই দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। কাছাকাছি যমুনা সেতু এলাকার সঙ্গে একই দিনে মিলিয়ে নেওয়া যায়; রাতে থাকতে হলে ভূঞাপুর বা টাঙ্গাইল শহরে খোঁজ নিন।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • স্থানটি শহীদদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত; সংযত আচরণ করুন, উচ্চস্বরে গান-বাজনা করবেন না।
  • স্মৃতিসৌধের বেদিতে জুতা পায়ে উঠবেন না, ফুল দিলে নির্ধারিত জায়গায় রাখুন।
  • বর্ষায় নদীর পাড় ভাঙনপ্রবণ ও পিচ্ছিল হয়, কিনারার কাছে যাবেন না।
  • ২০২৫ সালে এলাকায় একটি পুরোনো মর্টার শেল পাওয়ার খবর বেরিয়েছিল; মাটিতে সন্দেহজনক ধাতব কিছু দেখলে হাত দেবেন না, পুলিশকে জানান।
  • স্মৃতিসৌধের সঠিক অবস্থান স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন।

ঐতিহাসিক জাহাজমারা (সিরাজকান্দি)-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে এলেঙ্গা, সেখান থেকে ভূঞাপুর উপজেলা সদরে আসুন।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে ভূঞাপুর। ভূঞাপুর সদর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা টেম্পোতে সিরাজকান্দি যাওয়া যায়; স্থানীয়দের কাছে ‘জাহাজমারা’ বললে পথ দেখিয়ে দেবেন।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    ভূঞাপুর থেকে নদীতীরের দিকে পথ সরু হতে পারে; শেষ অংশ হেঁটে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখুন।

  4. ঐতিহাসিক জাহাজমারা (সিরাজকান্দি)

    ভূঞাপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

জাহাজমারা যুদ্ধ কোথায় হয়েছিল?

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দিতে, যমুনা-ধলেশ্বরীর মিলনস্থলের কাছে ধলেশ্বরীর তীরে।

জাহাজমারা যুদ্ধ কবে হয়?

১৯৭১ সালের ১০ আগস্ট আক্রমণ হয়, আর ১১ আগস্ট জাহাজ দুটি আগুনে ধ্বংস করা হয়।

জাহাজমারা যুদ্ধে কে নেতৃত্ব দেন?

কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার হাবিবুর রহমান, যিনি পরে বীর বিক্রম খেতাব পান এবং ‘জাহাজমারা হাবিব’ নামে পরিচিত।

কয়টি জাহাজ ধ্বংস হয়েছিল?

সাতটি জাহাজের বহরের মধ্যে দুটি—এস.টি. রাজন ও এস.ইউ. ইঞ্জিনিয়ার্স এল.সি-৩।

ঐতিহাসিক জাহাজমারা (সিরাজকান্দি) কোথায় অবস্থিত?

ঐতিহাসিক জাহাজমারা (সিরাজকান্দি) টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলায় অবস্থিত।

ঐতিহাসিক জাহাজমারা (সিরাজকান্দি)-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে এলেঙ্গা, সেখান থেকে ভূঞাপুর উপজেলা সদরে আসুন। টাঙ্গাইল শহর থেকে: শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে ভূঞাপুর। ভূঞাপুর সদর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা টেম্পোতে সিরাজকান্দি যাওয়া যায়; স্থানীয়দের কাছে ‘জাহাজমারা’ বললে পথ দেখিয়ে দেবেন। নিজস্ব গাড়িতে: ভূঞাপুর থেকে নদীতীরের দিকে পথ সরু হতে পারে; শেষ অংশ হেঁটে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখুন।

ঐতিহাসিক জাহাজমারা (সিরাজকান্দি) ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

নভেম্বর–মার্চ; দিনের বেলা। বার্ষিকী ১০–১১ আগস্ট

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
টাঙ্গাইল প্রান্ত থেকে সূর্যাস্তে যমুনা সেতু
বিনোদন ও পার্ক•ভূঞাপুর

যমুনা সেতু

ভূঞাপুর ও সিরাজগঞ্জকে যুক্ত করা প্রায় ৪.৮ কিমি দীর্ঘ যমুনা সেতু ১৯৯৮ সালে চালু হয়; পূর্ব প্রান্ত থেকে বিশাল যমুনা আর দুই সেতুর দৃশ্য দেখা যায়।

যমুনা সেতু ও যমুনা রেলসেতু পাশাপাশি
বিনোদন ও পার্ক•ভূঞাপুর

যমুনা রেলসেতু

যমুনা সেতুর উত্তরে প্রায় ৪.৮ কিমি দীর্ঘ ডুয়েল-গেজ ডাবল লাইনের রেলসেতু; ১৮ মার্চ ২০২৫ উদ্বোধন হয়, টাঙ্গাইল প্রান্তের স্টেশন ইব্রাহিমাবাদ।

ঐতিহাসিক স্থাপনা•ভূঞাপুর

ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থান

ভূঞাপুর সদরের প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছাব্বিশা গ্রাম; ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর এখানে মুক্তিযুদ্ধের সংঘর্ষ ও পরে গণহত্যা হয়।