নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে সতেরো শতকের শুরুতে মৃধা বংশের আব্দুল মালেক খাঁ মৃধার নির্মিত মোগল ধাঁচের মসজিদ।
পরিচিতি
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে। নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়নের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় মসজিদটির নাম আছে। একসময় যমুনা নদী বয়ে যেত একেবারে মসজিদের পাড় ঘেঁষে।
এটি এখনো একটি সক্রিয় উপাসনালয়। তাই এখানে ঘুরতে যাওয়া মানে আসলে স্থানীয় ধর্মীয় জীবনের এক পুরোনো কেন্দ্রে শ্রদ্ধা নিয়ে যাওয়া। একই এলাকায় "তেবাড়িয়া তিন গম্বুজ মসজিদ" নামে আলাদা একটি মসজিদের কথাও উইকিপিডিয়ায় আছে। দুটোকে গুলিয়ে ফেলবেন না।
ইতিহাস ও নামকরণ
উপজেলা বাতায়ন আর উইকিপিডিয়ার বিবরণ অনুযায়ী মৃধা বংশের আব্দুল মালেক খাঁ মৃধা সতেরো শতকের শুরুর দিকে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এর গড়ন মোগল স্থাপত্যরীতির।
স্থানীয়ভাবে একটি জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। কথিত আছে, যমুনা অনেক দূর থেকে পাড় ভাঙতে ভাঙতে একবার মসজিদের কাছে এসে থেমে যায়। পরে সেখানে চর জেগে নদী আবার দূরে সরে যায়। এলাকার নানা ধর্মের মানুষের কাছে মসজিদটি নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা আজও আছে। স্থানীয় তালুকদার পরিবার বংশ পরম্পরায় এর মোতোয়ালির দায়িত্ব পালন করে আসছে।
যা যা দেখবেন
মোগল ধাঁচের মসজিদ
সতেরো শতকের মোগল রীতিতে গড়া মূল মসজিদ ভবন।
যমুনার পুরোনো পাড়
মসজিদের আশপাশের এলাকায় একসময় যমুনা বইত। এখন নদী দূরে সরে গেছে।
ভ্রমণের সেরা সময়
সারা বছরই যাওয়া যায়। গ্রামীণ পথে চলাফেরা সহজ হয় শুকনো মৌসুমে, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মার্চে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়, বিশেষ করে শুক্রবার জুমার সময়টা এড়িয়ে দর্শন করুন।
থাকার ব্যবস্থা
টাঙ্গাইল শহর থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। কাছের থাকার জায়গা নাগরপুর উপজেলা সদর বা টাঙ্গাইল শহরে।
ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
- শালীন পোশাক পরে যান। নারীরা মাথা ঢেকে নিন।
- মসজিদে ঢোকার আগে জুতা খুলুন, ভেতরে নীরবতা বজায় রাখুন।
- নামাজের সময় ছবি তুলবেন না, মুসল্লিদের সামনে দিয়ে হাঁটবেন না।
- ভেতরে ছবি তোলার আগে মোতোয়ালি বা ইমামের অনুমতি নিন।
- পুরোনো দেয়ালে হাত দিয়ে ঘষা, লেখা বা কিছু লাগানো থেকে বিরত থাকুন।
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ-এ কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইলে এসে নাগরপুরের দিকে যেতে হয়। জেলা তথ্য বাতায়নে নাগরপুরের অন্য দর্শনীয় স্থানের যাতায়াত তথ্যে বলা আছে, ঢাকার মহাখালী থেকে বাসে সরাসরি নাগরপুরে আসা যায়।
টাঙ্গাইল শহর থেকে
সিএনজিতে নাগরপুর উপজেলা সদর, সেখান থেকে সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রাম। শেষ অংশের পথ আর বাহন নাগরপুর থেকে স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন।
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ
নাগরপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল
ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ কোথায়?
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে।
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
মৃধা বংশের আব্দুল মালেক খাঁ মৃধা, সতেরো শতকের শুরুর দিকে। এটি উপজেলা বাতায়ন ও উইকিপিডিয়ার বিবরণ।
মসজিদটি এখন কারা দেখাশোনা করেন?
স্থানীয় তালুকদার পরিবার বংশ পরম্পরায় এর মোতোয়ালির দায়িত্বে আছে।
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত।
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ-এ কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইলে এসে নাগরপুরের দিকে যেতে হয়। জেলা তথ্য বাতায়নে নাগরপুরের অন্য দর্শনীয় স্থানের যাতায়াত তথ্যে বলা আছে, ঢাকার মহাখালী থেকে বাসে সরাসরি নাগরপুরে আসা যায়। টাঙ্গাইল শহর থেকে: সিএনজিতে নাগরপুর উপজেলা সদর, সেখান থেকে সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রাম। শেষ অংশের পথ আর বাহন নাগরপুর থেকে স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন।
তেবাড়িয়া জামে মসজিদ ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?
সারা বছর; নভেম্বর–মার্চ সুবিধাজনক; নামাজের সময় বাদে
তথ্যসূত্র
- নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন — দর্শনীয় স্থান (তেবাড়িয়া জামে মসজিদ)
- উইকিপিডিয়া — তেবাড়িয়া জামে মসজিদ
- উইকিউপাত্ত — Q31728988
- টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন — পর্যটন স্পট (নাগরপুর যাতায়াত)
লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।
সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

