মধুপুরের শালবনের ভেতরে বন বিভাগের লহরিয়া (লৌহরিয়া) হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, যেখানে দেয়ালঘেরা বনে চিত্রা হরিণ লালন করা হয়। বন দেখার পথে ঘুরে আসা যায়।
পরিচিতি
মধুপুর জাতীয় উদ্যানের শালবনের ভেতরে, লহরিয়া (খবরের কাগজে কখনো লৌহরিয়া বা লুহুরিয়া লেখা) বিট এলাকায় বন বিভাগ একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র চালায়। চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা প্রায় ৩৭–৪০ একর বনভূমিতে মূলত চিত্রা হরিণ রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল প্রাকৃতিক শালবনে হরিণের সংখ্যা বাড়ানো।
যাঁরা মধুপুরের বন দেখতে আসেন, তাঁদের অনেকে এই কেন্দ্রেও ঘুরে যান। তবে এটি চিড়িয়াখানা নয়। হরিণগুলো ঘেরা বনের ভেতরে প্রায় স্বাভাবিক পরিবেশে থাকে, তাই সব সময় দেখা পাওয়া যায় না।
ইতিহাস ও নামকরণ
কেন্দ্রটি কবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়:
- বাংলা ট্রিবিউন (২০১৬, বন বিভাগের বরাতে): যাত্রা ১৯৬৬ সালে, প্রায় ৪০ একর জমিতে, শুরুতে দুই জোড়া হরিণ ছাড়া হয়।
- দ্য ডেইলি স্টার (২০১৭, বন কর্মকর্তাদের বরাতে): স্থাপিত ১৯৮২ সালে, মধুপুর জাতীয় উদ্যানের সদর রেঞ্জের লহরিয়া বিটে ৩৭ একর জমিতে, শুরু চার জোড়া চিত্রা হরিণ দিয়ে।
এই কেন্দ্রের নাম এসেছে বন বিভাগের লহরিয়া বিট থেকে।
২০১৬ সালের প্রতিবেদনে কেন্দ্রে ৬৮টি হরিণ ছিল, এর মধ্যে ৬৬টি চিত্রা ও ২টি মায়া হরিণ। ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে চিত্রা হরিণ ছিল ৬৫টি। দুই প্রতিবেদনেই কেন্দ্রের নানা সংকটের কথা আছে: খাবারের ঘাটতি, প্রশিক্ষিত লোকের অভাব, আর জরাজীর্ণ দেয়ালের নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে শেয়াল ঢুকে হরিণের বাচ্চার ক্ষতি করা। বন বিভাগ তখন দেয়াল উঁচু করা, প্রশিক্ষিত লোক নিয়োগ আর ভেতরে ফলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। এখনকার অবস্থা আমরা যাচাই করতে পারিনি।
যা যা দেখবেন
দেয়ালঘেরা শালবন ও চিত্রা হরিণ
কেন্দ্রের ভেতরটা শালবনেরই অংশ। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে গাছের ফাঁকে চিত্রা হরিণের দল চোখে পড়তে পারে। ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে আছে, অনেক দর্শনার্থী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও হরিণ না দেখে ফেরেন। তাই প্রত্যাশা সীমিত রাখুন।
আশপাশের মধুপুর শালবন
কেন্দ্রটি মধুপুরের বৃহত্তর শালবনের ভেতরে। তাই একই দিনে বনের অন্য অংশও ঘুরে দেখা যায়।
ভ্রমণের সেরা সময়
নভেম্বর–মার্চে বনের পথ শুকনো থাকে, হাঁটাও আরামদায়ক। তবে বন কর্মকর্তাদের মতে জানুয়ারি–মার্চে বনে খাবারের ঘাটতি থাকায় বন্যপ্রাণীর জন্য এটি কঠিন সময়। হরিণ দেখার সম্ভাবনা সাধারণত ভোর বা বিকেলে বেশি থাকে।
খাওয়াদাওয়া
বনের ভেতরে খাবারের দোকান আশা করবেন না। পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে নিন, তবে হরিণকে কিছু খাওয়াবেন না। মধুপুর এলাকা আনারসের জন্য বিখ্যাত, মৌসুমে মধুপুর বাজারে পাওয়া যায়।
থাকার ব্যবস্থা
টাঙ্গাইল শহর বা মধুপুর উপজেলা সদর থেকে দিনে গিয়ে ফেরা যায়। মধুপুর সদর ও টাঙ্গাইল শহরে আবাসনের ব্যবস্থা আছে।
ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
- কেন্দ্রটি সংরক্ষিত বনের অংশ। প্রবেশের অনুমতি ও সময়সূচি স্থানীয় বন অফিস থেকে জেনে নিন।
- হরিণকে খাবার দেবেন না, তাড়া করবেন না, জোরে শব্দ করবেন না।
- পলিথিন, প্লাস্টিক বা কোনো ময়লা বনে ফেলবেন না।
- সন্ধ্যার আগে বন থেকে বেরিয়ে আসুন। নির্জন জায়গায় একা ঘুরবেন না।
- বনের ভেতর দিয়ে টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ মহাসড়ক গেছে, তাই রাস্তা পার হওয়ার সময় সাবধান থাকুন। এখানে প্রায়ই বন্যপ্রাণী গাড়িচাপা পড়ে।
- হরিণ দেখা না-ও যেতে পারে। পুরো যাত্রার পরিকল্পনা শুধু এটি ঘিরে করবেন না।
লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, মধুপুর-এ কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল, তারপর টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে মধুপুরের শালবন এলাকা। মধুপুর বা জলছত্রের দিকের বাসে বনের কাছাকাছি নামা যায়।
টাঙ্গাইল শহর থেকে
উত্তর-পূর্বে মধুপুরের দিকে যান। বনের ভেতরের সড়ক থেকে লহরিয়া বিটে কীভাবে যেতে হয়, তা স্থানীয় বন অফিস বা স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন। শেষ অংশ সাধারণত অটোরিকশা বা ভাড়া করা যানে যেতে হয়।
নিজস্ব গাড়িতে
বনের ভেতরের সরু পথে ধীরে চালান, বন্যপ্রাণী পার হতে পারে।
লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, মধুপুর
মধুপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল
ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র কোথায়?
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায়, মধুপুর জাতীয় উদ্যানের শালবনের ভেতরে লহরিয়া বিট এলাকায়।
কেন্দ্রে কী ধরনের হরিণ আছে?
মূলত চিত্রা হরিণ। ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে দুটি মায়া হরিণের কথাও আছে।
কেন্দ্রটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
সূত্রভেদে ১৯৬৬ বা ১৯৮২ সাল বলা হয়েছে। নিশ্চিত হতে বন বিভাগের কাছে জানতে হবে।
সব সময় কি হরিণ দেখা যায়?
না। হরিণগুলো ঘেরা বনের ভেতরে থাকে, তাই দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, মধুপুর কোথায় অবস্থিত?
লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, মধুপুর টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় অবস্থিত।
লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, মধুপুর-এ কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল, তারপর টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে মধুপুরের শালবন এলাকা। মধুপুর বা জলছত্রের দিকের বাসে বনের কাছাকাছি নামা যায়। টাঙ্গাইল শহর থেকে: উত্তর-পূর্বে মধুপুরের দিকে যান। বনের ভেতরের সড়ক থেকে লহরিয়া বিটে কীভাবে যেতে হয়, তা স্থানীয় বন অফিস বা স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন। শেষ অংশ সাধারণত অটোরিকশা বা ভাড়া করা যানে যেতে হয়। নিজস্ব গাড়িতে: বনের ভেতরের সরু পথে ধীরে চালান, বন্যপ্রাণী পার হতে পারে।
লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, মধুপুর ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?
নভেম্বর–মার্চ; ভোর বা বিকেল
তথ্যসূত্র
লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।
সূত্র: লৌহরিয়ায় হরিণ প্রজননকেন্দ্রের বেহাল দশা — বাংলা ট্রিবিউন (১৭ জুন ২০১৬)· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬


