মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি)

Upendra Sarobar (Baro Ghatla Dighi)

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
নাগরপুর, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
পড়তে লাগবে
৪ মিনিট

নাগরপুরে চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণে প্রায় ১১ একরের জমিদার আমলের দিঘি; চারপাশে ১২টি বাঁধানো ঘাট বলে লোকমুখে বারো ঘাটলা দিঘি—বিকেলে বেড়ানোর শান্ত জায়গা।

পরিচিতি

উপেন্দ্র সরোবর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের কাছে, নাগরপুর চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণ পাশে খনন করা একটি বড় দিঘি। প্রায় ১১ একর জুড়ে বিস্তৃত এই জলাশয়ের চারদিকে বারোটি বাঁধানো ঘাট আছে, তাই এলাকার মানুষ একে "বারো ঘাটলা দিঘি" বা "১২ ঘাটলা দিঘি" নামেই বেশি ডাকেন। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী দিঘিটি কাঠুরি শিব মন্দিরের পাশে, আর মূল প্রবেশপথ পশ্চিম পাড়ে।

নাগরপুরে খোলা জায়গায় বসে প্রকৃতি উপভোগের সুযোগ খুব বেশি নেই, সেদিক থেকে এই দিঘিটি উপজেলার মানুষের প্রিয় বেড়ানোর জায়গা। চৌধুরী বাড়ির ইতিহাস দেখতে এলে পাশেই এই দিঘির পাড়ে কিছুক্ষণ সময় কাটানো যায়।

ইতিহাস ও নামকরণ

দিঘিটি নাগরপুরের চৌধুরী জমিদার পরিবারের কীর্তি। উইকিপিডিয়ার নাগরপুর চৌধুরীবাড়ী নিবন্ধ অনুযায়ী এই পরিবারের উপেন্দ্র মোহন চৌধুরীর বড় ছেলে সতীশ চন্দ্র রায় চৌধুরী জনহিতকর কাজের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে "রায় বাহাদুর" খেতাব পান। সরকারি তথ্য বাতায়নে দিঘি খননের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে "জমিদার রায় বাহাদুর"-কে।

দিঘি খোঁড়ার পেছনে একটি কাহিনি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত, যা জেলা ও উপজেলা পোর্টালে লেখা আছে। কথিত আছে, এক জ্যোৎস্না রাতে জমিদার দেখেন, এলাকার নারীরা রাতের আঁধারে কলসি নিয়ে বিল থেকে খাবার পানি আনছেন। সুপেয় পানির এই কষ্ট দূর করতেই তিনি বিহার থেকে দিঘি খননের অভিজ্ঞ লোক এনে এই সরোবর কাটান। সারা বছর পানি পরিষ্কার রাখতে ভেতরে ছয়টি গভীর ইন্দারা (কুয়া) খোঁড়া হয়, আর পাড়ের শোভা বাড়াতে লাগানো হয় খেজুর গাছ।

পোর্টালে খননকাল ১৩৩৮–১৩৪১ বঙ্গাব্দ (মোটামুটি ১৯৩১–১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ) লেখা আছে।

যা যা দেখবেন

বারোটি ঘাট

দিঘির চারপাশে ছড়ানো প্রশস্ত বাঁধানো ঘাটগুলোই সরোবরের পরিচয়। এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে পাড় ধরে হাঁটলে পুরো দিঘিটা ঘুরে দেখা হয়ে যায়।

খেজুর গাছের সারি

পাড়ঘেঁষা খেজুর গাছ দিঘিটিকে আলাদা চেহারা দিয়েছে। শীতের সকালে গাছগুলোর ছায়া পানিতে পড়ে সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে।

শিব মন্দির

দিঘির পাশে একটি শিব মন্দির আছে। এটি সক্রিয় উপাসনালয়, তাই ঘুরে দেখার সময় সংযত থাকুন।

মাছ ধরা

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী এখানে শখের মাছ শিকারিদের জন্য মাছ ধরার ব্যবস্থা আছে। নিয়ম ও অনুমতির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি

দিঘির উত্তরে জমিদারদের মূল বাড়ি, যেখানে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলে। একই সফরে দুটি জায়গাই দেখা যায়।

ভ্রমণের সেরা সময়

শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) পাড়ে হাঁটার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। বিকেলের নরম আলোয় ঘাটে বসে সময় কাটানো যায়। বর্ষায় দিঘি কানায় কানায় ভরে থাকে, তবে ঘাট পিচ্ছিল হয়ে যায়।

খাওয়াদাওয়া

নাগরপুর বাজারে সাধারণ খাবারের দোকান পাওয়া যায়। দিঘির পাড়ে খাবার খেলে উচ্ছিষ্ট ও প্যাকেট পানিতে ফেলবেন না।

থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল শহর থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। রাত কাটাতে চাইলে টাঙ্গাইল শহরে আবাসিক হোটেলের সুযোগ বেশি।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • দিঘি গভীর; সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না, শিশুদের ঘাটের নিচের ধাপে একা যেতে দেবেন না।
  • বর্ষায় ঘাটের ধাপে শ্যাওলা জমে, পা টিপে নামুন।
  • শিব মন্দির চত্বরে জুতা খুলে ঢুকুন এবং পূজার সময় ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
  • মাছ ধরতে চাইলে আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম জেনে নিন।
  • পানিতে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলবেন না—দিঘিটি একসময় খাবার পানির উৎস হিসেবেই কাটা হয়েছিল।
  • খোলার সময় ও প্রবেশের নিয়ম বদলাতে পারে; যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি)-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা থেকে নাগরপুরগামী সরাসরি বাসে উপজেলা সদরে নামা যায়। আরেকটি পথ মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া হয়ে নাগরপুর। সদর থেকে দিঘি অল্প দূরে, রিকশা বা অটোরিকশায় যাওয়া যায়।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    দক্ষিণ-পশ্চিমে নাগরপুরগামী সিএনজি অটোরিকশায় উপজেলা সদরে আসুন। সেখান থেকে চৌধুরী বাড়ি বা বারো ঘাটলা দিঘির কথা বললে চালকেরা চেনেন।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    নাগরপুর সদরে চৌধুরী বাড়ির দিকে গেলে দক্ষিণ পাশেই দিঘি; মূল প্রবেশপথ পশ্চিম পাড়ে।

  4. উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি)

    নাগরপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

উপেন্দ্র সরোবর কোথায় অবস্থিত?

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায়, নাগরপুর চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণে এবং কাঠুরি শিব মন্দিরের পাশে।

একে বারো ঘাটলা দিঘি বলা হয় কেন?

দিঘির চারপাশে মোট বারোটি বাঁধানো ঘাট আছে, সেখান থেকেই এই নাম।

দিঘিটি কে খনন করান?

নাগরপুরের চৌধুরী জমিদার পরিবারের রায় বাহাদুর খেতাবধারী জমিদার; এলাকার মানুষের খাবার পানির কষ্ট দূর করতে তিনি এটি কাটান বলে প্রচলিত আছে।

দিঘিটি কত বড়?

সরকারি তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী প্রায় ১১ একর।

উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি) কোথায় অবস্থিত?

উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত।

উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি)-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা থেকে নাগরপুরগামী সরাসরি বাসে উপজেলা সদরে নামা যায়। আরেকটি পথ মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া হয়ে নাগরপুর। সদর থেকে দিঘি অল্প দূরে, রিকশা বা অটোরিকশায় যাওয়া যায়। টাঙ্গাইল শহর থেকে: দক্ষিণ-পশ্চিমে নাগরপুরগামী সিএনজি অটোরিকশায় উপজেলা সদরে আসুন। সেখান থেকে চৌধুরী বাড়ি বা বারো ঘাটলা দিঘির কথা বললে চালকেরা চেনেন। নিজস্ব গাড়িতে: নাগরপুর সদরে চৌধুরী বাড়ির দিকে গেলে দক্ষিণ পাশেই দিঘি; মূল প্রবেশপথ পশ্চিম পাড়ে।

উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি) ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি; বিকেলে, সূর্যাস্তের আগে

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, নাগরপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

নাগরপুরের পাকুটিয়ায় ধলেশ্বরীর তীরে একই নকশার তিনটি প্রাসাদ নিয়ে গড়া জমিদার বাড়ি; নারীমূর্তি আর লতাপাতার অলংকরণ দেখতে আসেন অনেকে।

নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ি (জমিদার বাড়ি)
ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি)

নাগরপুর সদরে ৫৪ একরজুড়ে গড়া চৌধুরী জমিদারদের বাড়ি — শ্বেতপাথরের মূল ভবনে এখন মহিলা কলেজ, পাশে ঘোড়ার দালান, ঝুলন দালান ও উপেন্দ্র সরোবর।

ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ

নাগরপুরের গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রামে ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় নিহত শহীদদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ।