মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

জমিদার বাড়ি, প্রাচীন মসজিদ, শালবন, বিল আর যমুনা — কোথায় যাবেন, কোন পথে, কোন ঋতুতে।

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে টাঙ্গাইল সহজে যাওয়া যায়। এক দিনে ঘুরতে চাইলে দেলদুয়ার–মির্জাপুরের জমিদার বাড়ি ও আতিয়া মসজিদ সবচেয়ে সুবিধাজনক। বর্ষায় বাসুলিয়া আর যমুনার পাড়, শীতে মধুপুরের শালবন আর জমিদার বাড়িগুলো দেখার সেরা সময়। নিচে ৭টি তৈরি রুট আর ৫৩টি স্থানের গাইড দেওয়া আছে।

পরিকল্পনা

এক দিনের রুট

কাছাকাছি স্থানগুলো একসাথে সাজানো। স্থানের মাঝের দূরত্ব মানচিত্রে সোজা দূরত্ব — রাস্তায় কিছুটা বেশি হবে।

জমিদার বাড়ি ও প্রাচীন মসজিদ

করটিয়া থেকে আতিয়া, দেলদুয়ার হয়ে মহেড়া আর মির্জাপুর — ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাছেই এক দিনের ঐতিহ্য-ভ্রমণ

  1. ১করটিয়া জমিদার বাড়িটাঙ্গাইল সদর
  2. ↓ প্রায় ০.৫ কিমি২সরকারি সা'দত কলেজ, করটিয়াটাঙ্গাইল সদর
  3. ↓ প্রায় ৭.৮ কিমি৩আতিয়া মসজিদদেলদুয়ার
  4. ৪আদম কাশ্মিরী (র.) এর মাজার, আটিয়াদেলদুয়ার
  5. ৫দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি (নর্থ হাউজ)দেলদুয়ার
  6. ৬মহেড়া জমিদার বাড়িমির্জাপুর
  7. ↓ প্রায় ৩.৫ কিমি৭পাকুল্লা মসজিদমির্জাপুর
  8. ↓ প্রায় ৯ কিমি৮কুমুদিনী কমপ্লেক্স ও ভারতেশ্বরী হোমস, মির্জাপুরমির্জাপুর

৮টি স্থান

মধুপুরের শালবন ও আনারসের দেশ

জাতীয় উদ্যান, রাবার বাগান আর আনারসের হাট — উত্তর টাঙ্গাইলের সবুজ দিন

  1. ১মধুপুর জাতীয় উদ্যানমধুপুর
  2. ২লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, মধুপুরমধুপুর
  3. ৩দোখলা রেস্ট হাউসমধুপুর
  4. ৪মধুপুরের রাবার বাগান (পীরগাছা/সন্তোষপুর)মধুপুর
  5. ↓ প্রায় ৭.৬ কিমি৫জলছত্র আনারসের হাটমধুপুর
  6. ৬ভগবৎ দত্তের দিঘি, শোলাকুড়িমধুপুর
  7. ৭ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল ও মসজিদধনবাড়ী

৭টি স্থান

নাগরপুরের জমিদারি পথ

পাকুটিয়া, চৌধুরী বাড়ি, বারো ঘাটলা দিঘি আর পুরোনো মঠ-মসজিদ

  1. ১পাকুটিয়া জমিদার বাড়িনাগরপুর
  2. ↓ প্রায় ১২ কিমি২নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি)নাগরপুর
  3. ৩উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি)নাগরপুর
  4. ৪ঘোড়ার দালাননাগরপুর
  5. ৫গয়হাটার মঠনাগরপুর
  6. ৬তেবাড়িয়া জামে মসজিদনাগরপুর

৬টি স্থান

গোপালপুর–ধনবাড়ী

২০১ গম্বুজ মসজিদ থেকে হেমনগরের পরীর দালান, শেষে ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল

  1. ১২০১ গম্বুজ মসজিদগোপালপুর
  2. ↓ প্রায় ৩.৫ কিমি২হেমনগর জমিদার বাড়িগোপালপুর
  3. ↓ প্রায় ১৫ কিমি৩ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল ও মসজিদধনবাড়ী

৩টি স্থান · মোট সোজা দূরত্ব প্রায় ১৯ কিমি

যমুনার পাড়

সড়ক ও রেলসেতু, নদীর বিকেল আর মুক্তিযুদ্ধের জাহাজমারা

  1. ১যমুনা সেতুভূঞাপুর
  2. ↓ প্রায় ১.১ কিমি২যমুনা রেলসেতুভূঞাপুর
  3. ৩ঐতিহাসিক জাহাজমারা (সিরাজকান্দি)ভূঞাপুর
  4. ৪ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থানভূঞাপুর

৪টি স্থান

টাঙ্গাইল শহরের বিকেল

ডিসি লেক, পার্ক আর সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার — শহরে থেকেই আধবেলা

  1. ১ডিসি লেকটাঙ্গাইল সদর
  2. ২বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর (পানির ট্যাংক সংলগ্ন)টাঙ্গাইল সদর
  3. ৩এসপি পার্কটাঙ্গাইল সদর
  4. ৪টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানটাঙ্গাইল সদর
  5. ৫মনতলা ট্যুরিস্ট জোনটাঙ্গাইল সদর
  6. ৬মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষটাঙ্গাইল সদর
  7. ↓ প্রায় ২.৮ কিমি৭পোড়াবাড়ী (চমচমের গ্রাম)টাঙ্গাইল সদর

৭টি স্থান

কখন যাবেন

ঋতু অনুযায়ী গন্তব্য

শীতে (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি)

প্রতিটি স্থানের পাতায় লেখা "সেরা সময়" থেকে সাজানো।

যাতায়াত

ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল

সড়কপথে

রেলপথে (টাঙ্গাইল স্টেশন)

ট্রেনছাড়েটাঙ্গাইলেসময় লাগে
ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯)ঢাকা সকাল ৬:০০সকাল ৭:৪৭১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট
একতা এক্সপ্রেস (৭০৫)ঢাকা সকাল ১০:১৫দুপুর ১২:০৩১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩)ঢাকা দুপুর ২:৩০বিকাল ৪:২৬১ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট
সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৭৬)ঢাকা বিকাল ৪:১৫সন্ধ্যা ৬:১১১ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট
চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪)ঢাকা রাত ৭:৩০রাত ৯:২৬১ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট
দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৭)ঢাকা রাত ৮:৪৫রাত ১০:৩২১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট
লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১)ঢাকা রাত ৯:৪৫রাত ১১:৩২১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট
পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯)ঢাকা রাত ১০:৪৫রাত ১২:৩২১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট

সূত্র: বাংলাদেশ রেলওয়ে — পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের সময়সূচি, টাইম টেবিল নং ৫৪ (কার্যকর ১০.০৩.২০২৫); 'আন্তঃনগর ট্রেনের তালিকা' ও 'আন্তঃনগর ট্রেনের সংক্ষিপ্ত সময়সূচি' পাতা থেকে হাতে পড়ে মেলানো। সব ট্রেন ও সাপ্তাহিক বন্ধ →

উপজেলা অনুযায়ী

কোন উপজেলায় কী দেখবেন

টাঙ্গাইল সদর১১টি স্থান
কালিহাতী১টি স্থান
গোপালপুর২টি স্থান
ঘাটাইল৫টি স্থান
দেলদুয়ার৩টি স্থান
ধনবাড়ী১টি স্থান
নাগরপুর৯টি স্থান
বাসাইল৪টি স্থান
ভূঞাপুর৪টি স্থান
মধুপুর৭টি স্থান
মির্জাপুর৪টি স্থান
সখিপুর২টি স্থান

না দেখলেই নয়

টাঙ্গাইলের প্রধান আকর্ষণ

সব দর্শনীয় স্থান
আতিয়া জামে মসজিদের বাইরের দৃশ্য, দেলদুয়ার
ধর্মীয় স্থান•দেলদুয়ার

আতিয়া মসজিদ

দেলদুয়ারের আতিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে সতেরো শতকের মোগল আমলের মসজিদ; টেরাকোটা অলংকরণ আর চালাঘরের মতো বাঁকা কার্নিশের জন্য বিখ্যাত।

ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল
ঐতিহাসিক স্থাপনা•ধনবাড়ী

ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল ও মসজিদ

ধনবাড়ী উপজেলা সদরে নওয়াব আলী চৌধুরীর পারিবারিক প্রাসাদ, ৩০ বিঘার দিঘি আর চিনিটিকরি মোজাইকের তিন গম্বুজ মসজিদ—একদিনে ঘুরে আসার মতো ঐতিহ্য।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, নাগরপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

নাগরপুরের পাকুটিয়ায় ধলেশ্বরীর তীরে একই নকশার তিনটি প্রাসাদ নিয়ে গড়া জমিদার বাড়ি; নারীমূর্তি আর লতাপাতার অলংকরণ দেখতে আসেন অনেকে।

মধুপুর শালবনের সবুজ চাঁদোয়া
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য•মধুপুর

মধুপুর জাতীয় উদ্যান

মধুপুর উপজেলার লালমাটির গড়ে শালবনঘেরা দেশের প্রাচীনতম জাতীয় উদ্যান; হনুমান, বানর, পাখি আর হরিণ প্রজনন কেন্দ্র দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীরা আসেন।

মহেড়া জমিদার বাড়ির প্রাসাদের সম্মুখভাগ, মির্জাপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•মির্জাপুর

মহেড়া জমিদার বাড়ি

মির্জাপুরের মহেড়ায় ১৮৯০ সাল নাগাদ গড়া সাহা জমিদারদের প্রাসাদ — চার লজ, বিশাখা সাগর দিঘি আর বাগান; এখন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ভেতরে।

টাঙ্গাইল প্রান্ত থেকে সূর্যাস্তে যমুনা সেতু
বিনোদন ও পার্ক•ভূঞাপুর

যমুনা সেতু

ভূঞাপুর ও সিরাজগঞ্জকে যুক্ত করা প্রায় ৪.৮ কিমি দীর্ঘ যমুনা সেতু ১৯৯৮ সালে চালু হয়; পূর্ব প্রান্ত থেকে বিশাল যমুনা আর দুই সেতুর দৃশ্য দেখা যায়।

টাঙ্গাইল ভ্রমণ: সাধারণ প্রশ্ন

টাঙ্গাইলে ঘোরার মতো জায়গা কী কী?

টাঙ্গাইলে ৫৩টি দর্শনীয় স্থানের গাইড আমাদের সাইটে আছে — যেমন আতিয়া মসজিদ, ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল ও মসজিদ, পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, মধুপুর জাতীয় উদ্যান, মহেড়া জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়ি, প্রাচীন মসজিদ, মধুপুরের শালবন আর যমুনার পাড় এ জেলার প্রধান আকর্ষণ।

ঢাকা থেকে এক দিনে টাঙ্গাইল ঘুরে আসা যায়?

হ্যাঁ। দেলদুয়ার–মির্জাপুরের জমিদার বাড়ি ও আতিয়া মসজিদ ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাছেই, তাই সকালে রওনা দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে ফেরা যায়। মধুপুর বা গোপালপুরের মতো উত্তরের উপজেলা ঘুরতে চাইলে এক রাত থাকলে স্বস্তিতে দেখা যায়।

ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে কোন কোন ট্রেন যায়?

বাংলাদেশ রেলওয়ের সময়সূচি অনুযায়ী টাঙ্গাইল স্টেশনে থামে এমন ঢাকা থেকে ছাড়া ট্রেন: ধূমকেতু এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস। বিস্তারিত সময় ও সাপ্তাহিক বন্ধ ট্রেনের পাতায় দেখুন।

টাঙ্গাইল ভ্রমণের সেরা সময় কখন?

জমিদার বাড়ি, মসজিদ ও বনাঞ্চল ঘোরার জন্য শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) আরামদায়ক। বাসুলিয়ার মতো বিল আর যমুনার রূপ দেখতে বর্ষা ও শরৎ (জুলাই–অক্টোবর) সবচেয়ে ভালো।

টাঙ্গাইলে গিয়ে কী খাবেন?

টাঙ্গাইলের সবচেয়ে পরিচিত খাবার পোড়াবাড়ির চমচম; মৌসুমে মধুপুরের আনারসও বিখ্যাত। শহর ও উপজেলা সদরে রেস্তোরাঁর তালিকা আমাদের প্রতিষ্ঠান বিভাগে আছে।