মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

ঘোড়ার দালান

Ghorar Dalan (Horse Stable Building)

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
নাগরপুর, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
পড়তে লাগবে
২ মিনিট

নাগরপুর চৌধুরী বাড়ির অংশ এই কারুকাজ করা দালান জমিদারদের ঘোড়া ও সহিসদের থাকার জন্য তৈরি — চৌধুরী বাড়ি দেখার সময় একসঙ্গে দেখা যায়।

পরিচিতি

ঘোড়ার দালান নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়ি (নাগরপুর জমিদার বাড়ি) কমপ্লেক্সের একটি স্থাপনা। জমিদারদের পোষা ঘোড়া আর সেগুলোর তদারকিতে থাকা লোকজনের থাকার জন্য এটি তৈরি হয়েছিল।

কাজের দিক থেকে আস্তাবল হলেও দালানটি শৈল্পিক কারুকাজে সাজানো — এ থেকেই বোঝা যায়, জমিদার পরিবার দৈনন্দিন প্রয়োজনের ভবনেও সৌন্দর্যের দিকে নজর দিত। আলাদা গন্তব্য হিসেবে নয়, চৌধুরী বাড়ি, ঝুলন দালান ও উপেন্দ্র সরোবরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখাই সুবিধাজনক।

ইতিহাস ও নামকরণ

নাগরপুর উপজেলা ও জেলা তথ্য বাতায়নের বিবরণ অনুযায়ী, জমিদারি পরিচালনা আর ব্যবসার কাজে চৌধুরী বাড়িতে সুঠাম ঘোড়া পোষা হতো। সেই ঘোড়াদের রাখার কাজ থেকেই ভবনটির নাম হয়েছে ‘ঘোড়ার দালান’। চৌধুরী বংশ ঊনবিংশ শতাব্দীতে এখানে জমিদারি গড়ে তোলে, আর ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর সরকার তাদের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে।

যা যা দেখবেন

কারুকাজ করা দালান

দালানের গায়ের অলংকরণই এখানে মূল আকর্ষণ। কাছ থেকে দেখলে জমিদার আমলের নির্মাণশৈলীর খুঁটিনাটি চোখে পড়ে।

আশপাশের স্থাপনা

একই কমপ্লেক্সে চৌধুরী বাড়ির শ্বেতপাথরের মূল ভবন (এখন নাগরপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ), ঝুলন দালান আর দক্ষিণে উপেন্দ্র সরোবর রয়েছে।

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি শুকনো মৌসুমে ঘোরা আরামদায়ক। দিনের আলো থাকতে থাকতে যান, যাতে কারুকাজ ভালোভাবে দেখা যায়।

থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল শহর থেকে দিনের ভ্রমণেই দেখে আসা যায়; রাতে থাকতে হলে টাঙ্গাইল শহর সুবিধাজনক।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • পুরোনো ভবন; ভেতরে ঢোকা বা দেয়ালে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
  • কমপ্লেক্সের অংশে কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে; প্রবেশের অনুমতি ও নিয়ম মেনে চলুন।
  • কারুকাজে হাত দেওয়া, দাগ কাটা বা নাম লেখা থেকে বিরত থাকুন।
  • তথ্যগুলো সরকারি তথ্য বাতায়ন থেকে নেওয়া, সরেজমিন যাচাই বাকি; প্রবেশের নিয়ম স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

ঘোড়ার দালান-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে এসে নাগরপুরগামী বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উপজেলা সদরে যান।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    টাঙ্গাইল–আরিচা সড়ক ধরে নাগরপুর সদর। নাগরপুর বাজার থেকে হাসপাতাল রোড ধরে নাগরপুর মহিলা কলেজের দিকে গেলে চৌধুরী বাড়ি কমপ্লেক্স; রিকশা বা অটোরিকশাই যথেষ্ট।

  3. ঘোড়ার দালান

    নাগরপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

ঘোড়ার দালান কোথায়?

নাগরপুর উপজেলা সদরে, নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি (জমিদার বাড়ি) কমপ্লেক্সের ভেতরে।

ঘোড়ার দালান কেন তৈরি হয়েছিল?

জমিদারি ও ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ঘোড়া এবং সেগুলোর দেখভালকারীদের থাকার জন্য।

ঘোড়ার দালানের সঙ্গে আর কী দেখা যায়?

চৌধুরী বাড়ির মূল ভবন, ঝুলন দালান আর উপেন্দ্র সরোবর একসঙ্গে ঘুরে দেখা যায়।

ঘোড়ার দালান কোথায় অবস্থিত?

ঘোড়ার দালান টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত।

ঘোড়ার দালান-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে এসে নাগরপুরগামী বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উপজেলা সদরে যান। টাঙ্গাইল শহর থেকে: টাঙ্গাইল–আরিচা সড়ক ধরে নাগরপুর সদর। নাগরপুর বাজার থেকে হাসপাতাল রোড ধরে নাগরপুর মহিলা কলেজের দিকে গেলে চৌধুরী বাড়ি কমপ্লেক্স; রিকশা বা অটোরিকশাই যথেষ্ট।

ঘোড়ার দালান ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি; দিনের আলোয়

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, নাগরপুর
ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

নাগরপুরের পাকুটিয়ায় ধলেশ্বরীর তীরে একই নকশার তিনটি প্রাসাদ নিয়ে গড়া জমিদার বাড়ি; নারীমূর্তি আর লতাপাতার অলংকরণ দেখতে আসেন অনেকে।

নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ি (জমিদার বাড়ি)
ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

নাগরপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি)

নাগরপুর সদরে ৫৪ একরজুড়ে গড়া চৌধুরী জমিদারদের বাড়ি — শ্বেতপাথরের মূল ভবনে এখন মহিলা কলেজ, পাশে ঘোড়ার দালান, ঝুলন দালান ও উপেন্দ্র সরোবর।

ঐতিহাসিক স্থাপনা•নাগরপুর

উপেন্দ্র সরোবর (বারো ঘাটলা দিঘি)

নাগরপুরে চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণে প্রায় ১১ একরের জমিদার আমলের দিঘি; চারপাশে ১২টি বাঁধানো ঘাট বলে লোকমুখে বারো ঘাটলা দিঘি—বিকেলে বেড়ানোর শান্ত জায়গা।