ভূঞাপুর সদরের প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছাব্বিশা গ্রাম; ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর এখানে মুক্তিযুদ্ধের সংঘর্ষ ও পরে গণহত্যা হয়।
পরিচিতি
ছাব্বিশা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি গ্রাম, যা এখন ভূঞাপুর পৌরসভার অংশ। মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামটি গোবিন্দাসী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর এখানে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ হয়, আর তার পরপরই হানাদাররা গ্রামের নিরীহ মানুষের ওপর গণহত্যা চালায়। ভূঞাপুর উপজেলা পোর্টাল এই ঘটনাকে উপজেলার স্মরণীয় স্থানের তালিকায় রেখেছে। জায়গাটি ঘুরে দেখার নয়, বরং শহীদদের স্মরণ করার স্থান।
ইতিহাস ও নামকরণ
উপজেলা পোর্টালের বিবরণ অনুযায়ী, সেদিন বেলা আনুমানিক এগারোটার দিকে সিরাজগঞ্জ থেকে পাকিস্তানি বাহিনী যমুনা নদী পার হয়ে গাবসারার কালিপুরে নামে। একটি দল গোবিন্দাসী ও শালদাইর হয়ে এসে ছাব্বিশার পশ্চিমে শালদাইর সেতুর কাছে অবস্থান নেয়। আরেকটি দল কালিগঞ্জ, জিগাতলা-বাগবাড়ি হয়ে খুপিবাড়ির খাল ধরে গ্রামের উত্তর-পশ্চিমে পৌঁছায়।
হানাদারদের নামার খবর পেয়ে কালিগঞ্জে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা পূর্ব দিকে সরে এসে প্রতিরোধের সুবিধাজনক জায়গা হিসেবে ছাব্বিশায় অবস্থান নেন। দুই পক্ষের মধ্যে বিকেল প্রায় চারটা পর্যন্ত গুলিবিনিময় চলে। প্রবল আক্রমণের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা সরে যেতে বাধ্য হন, এরপর পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামে ঢুকে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। পোর্টালে সেদিন নিহত ৩২ জনের নাম সংরক্ষিত আছে, যাঁদের মধ্যে নারী, শিশু ও দিনমজুরও ছিলেন।
ভ্রমণের সেরা সময়
বছরের যেকোনো সময় শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া যায়। ১৭ নভেম্বর এই গণহত্যার দিন; সেদিন স্থানীয়ভাবে কোনো স্মরণ অনুষ্ঠান হয় কিনা, তা উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কাছে জেনে নিতে পারেন। দিনের আলোয় যাওয়াই ভালো।
থাকার ব্যবস্থা
জায়গাটি ভূঞাপুর সদরের খুব কাছে, তাই আলাদা থাকার প্রয়োজন নেই। টাঙ্গাইল শহর থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়।
ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
- এটি গণহত্যার স্মৃতিবিজড়িত স্থান; নীরবতা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখুন।
- শহীদ পরিবারের সদস্যরা আশপাশে থাকতে পারেন; তাঁদের সঙ্গে কথা বলার আগে অনুমতি নিন এবং সংবেদনশীল থাকুন।
- এখানে আনন্দভ্রমণের ভঙ্গিতে ছবি বা ভিডিও করবেন না।
- স্মৃতিচিহ্ন বা কবরের ওপর বসবেন না, কিছু লিখবেন না।
- গ্রামের বসতবাড়ির গোপনীয়তা রক্ষা করুন।
ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থান-এ কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে এসে সেখান থেকে উত্তর-পশ্চিমে ভূঞাপুরের পথ ধরুন।
টাঙ্গাইল শহর থেকে
বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভূঞাপুর সদরে যান। সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছাব্বিশা গ্রাম; রিকশা বা অটোরিকশায় অল্প সময়েই পৌঁছানো যায়।
ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থান
ভূঞাপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল
ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
ছাব্বিশা গণহত্যা কবে হয়েছিল?
১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে দিনভর সংঘর্ষের পর পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামে গণহত্যা চালায়।
ছাব্বিশা কোথায় অবস্থিত?
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। গ্রামটি এখন ভূঞাপুর পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত।
সেদিন কতজন শহীদ হন?
ভূঞাপুর উপজেলা পোর্টালে সেদিন নিহত ৩২ জনের নাম তালিকাভুক্ত আছে।
ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থান কোথায় অবস্থিত?
ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থান টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলায় অবস্থিত।
ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থান-এ কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে এসে সেখান থেকে উত্তর-পশ্চিমে ভূঞাপুরের পথ ধরুন। টাঙ্গাইল শহর থেকে: বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভূঞাপুর সদরে যান। সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছাব্বিশা গ্রাম; রিকশা বা অটোরিকশায় অল্প সময়েই পৌঁছানো যায়।
ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থান ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?
সারা বছর, দিনের আলোয়; ১৭ নভেম্বর গণহত্যা দিবস
তথ্যসূত্র
- ছাব্বিশার গণহত্যা — ভূঞাপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন
লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।
সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

