মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর (পানির ট্যাংক সংলগ্ন)

Tangail Town Killing Field (Water Tank)

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
সারা বছর, দিনের আলোয়
পড়তে লাগবে
৩ মিনিট

টাঙ্গাইল শহরে জেলা প্রশাসনের উত্তরে পানির ট্যাংকের পাশে ১৯৭১-এর বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ, যেখানে জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরিচিতি

টাঙ্গাইল শহরের পানির ট্যাংক এলাকার এই বধ্যভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার একটি চিহ্নিত স্থান। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জায়গাটি জেলা প্রশাসনের উত্তর দিকে, পানির ট্যাংকের পাশে। শহীদদের স্মরণে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে।

এটি বেড়ানোর জায়গা নয়, শ্রদ্ধা জানানোর জায়গা। জেলা প্রশাসনের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় "পানির ট্যাংক বধ্যভূমি" নামে এটি রয়েছে। শহরের মধ্যে হওয়ায় টাঙ্গাইলে এলে যে কেউ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে এখানে নীরবে দাঁড়াতে পারেন।

ইতিহাস ও নামকরণ

দৈনিক প্রথম আলোর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ধারাবাহিকে (মার্চ ২০২৪) বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর শহরের পানির ট্যাংকের কাছে অনেকগুলো গর্তের সন্ধান মেলে। জায়গাগুলো ছিল ডিসির কোয়ার্টারের পেছনে আর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কোয়ার্টারের সামনে। এসব গর্তে বহু মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়। সেই থেকে জায়গাটি বধ্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত। কাছের পানির ট্যাংকের নামেই এটি পরিচিত।

বাংলাপিডিয়ার টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিবন্ধে এই বধ্যভূমি আর উপজেলার একটি স্মৃতিসৌধের কথা আছে। একই নিবন্ধে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রায় ১৭ হাজার মুক্তিযোদ্ধা এই উপজেলার নানা জায়গায় যুদ্ধ করেছিলেন।

যা যা দেখবেন

শহীদ স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ

বধ্যভূমিতে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ আছে। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের পক্ষে প্রথমে এখানেই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ নানা স্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান। বোঝাই যায়, জেলার আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনে জায়গাটির গুরুত্ব কতখানি।

ভ্রমণের সেরা সময়

বছরের যেকোনো দিন দিনের আলোয় যাওয়া যায়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সকালে এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন হয়। সেদিন গেলে ভিড় থাকবে, তবে আনুষ্ঠানিক আয়োজনটি দেখা যাবে।

থাকার ব্যবস্থা

জায়গাটি টাঙ্গাইল শহরেই, তাই আলাদা থাকার পরিকল্পনা লাগে না। শহরে থাকার ব্যবস্থা আছে।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • নীরবতা বজায় রাখুন। উচ্চস্বরে কথা বলবেন না, গান বাজাবেন না।
  • স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে উঠবেন না, বসবেন না। জুতা পরে বেদিতে যাবেন না।
  • সেলফি বা হাসিঠাট্টার ছবি তোলা এখানে বেমানান। ছবি তুললে সংযত থাকুন।
  • ফুল দিতে চাইলে সঙ্গে নিয়ে যান। ফুল দেওয়ার পর পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।
  • এলাকাটি সরকারি দপ্তর ও কোয়ার্টারের পাশে। বাসিন্দাদের গোপনীয়তা ও চলাচলের পথ খেয়াল রাখুন।

বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর (পানির ট্যাংক সংলগ্ন)-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে বাসে বা গাড়িতে টাঙ্গাইল শহরে আসুন।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় গিয়ে "পানির ট্যাংক" বা "পানির ট্যাংক বধ্যভূমি" বললে রিকশা বা অটোরিকশার চালকেরা চিনবেন। শহরের ভেতর থেকে অল্প সময়ের পথ।

  3. বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর (পানির ট্যাংক সংলগ্ন)

    টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

টাঙ্গাইল শহরের বধ্যভূমি কোথায়?

টাঙ্গাইল শহরে জেলা প্রশাসনের উত্তর দিকে, পানির ট্যাংকের পাশে। স্থানীয়ভাবে জায়গাটি পানির ট্যাংক বধ্যভূমি নামে পরিচিত।

এখানে কী ঘটেছিল?

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী টাঙ্গাইলে হত্যাযজ্ঞ চালায়। স্বাধীনতার পর এখানে কয়েকটি গর্তে বহু মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়।

এখানে কবে শ্রদ্ধা জানানো হয়?

স্বাধীনতা দিবসের সকালে জেলা প্রশাসন রাষ্ট্রের পক্ষে এখানকার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। বছরের অন্য সময়েও যে কেউ গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর (পানির ট্যাংক সংলগ্ন) কোথায় অবস্থিত?

বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর (পানির ট্যাংক সংলগ্ন) টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় অবস্থিত।

বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর (পানির ট্যাংক সংলগ্ন)-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে বাসে বা গাড়িতে টাঙ্গাইল শহরে আসুন। টাঙ্গাইল শহর থেকে: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় গিয়ে "পানির ট্যাংক" বা "পানির ট্যাংক বধ্যভূমি" বললে রিকশা বা অটোরিকশার চালকেরা চিনবেন। শহরের ভেতর থেকে অল্প সময়ের পথ।

বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর (পানির ট্যাংক সংলগ্ন) ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

সারা বছর, দিনের আলোয়; ২৬ মার্চ সকালে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া — টাঙ্গাইল সদর উপজেলা· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
করটিয়া জমিদার বাড়ি (পন্নী পরিবারের প্রাসাদ)
ঐতিহাসিক স্থাপনা•টাঙ্গাইল সদর

করটিয়া জমিদার বাড়ি

টাঙ্গাইল সদরের করটিয়ায় পন্নী জমিদারদের প্রাচীরঘেরা বাড়ি; আছে রোকেয়া মহল, লোহার ঘর, দাউদ মহল আর সা'দত কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চাঁদ মিয়ার স্মৃতি।

সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার
ঐতিহাসিক স্থাপনা•টাঙ্গাইল সদর

মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষ

টাঙ্গাইল শহরের উত্তর-পশ্চিমে সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর সমাধি, পাশেই ঐতিহাসিক দরবার হল ও পীর শাহ জামান দিঘি।

টাঙ্গাইল শহরের ডিসি লেক
বিনোদন ও পার্ক•টাঙ্গাইল সদর

ডিসি লেক

টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে লেক ও উদ্যান; হাঁটার পথ, বসার জায়গা আর শিশু পার্কসহ শহরবাসীর বিকেলের প্রিয় জায়গা।