নাগরপুরের গয়হাটায় ১৮৮২ সালে জমিদার কালী কুমার সেন চৌধুরীর গড়া সুউচ্চ সমাধি-মঠ, তাঁর পালক মা উদয়তারা চৌধুরানীর স্মরণে; এখনো এখানে পূজা হয়।
পরিচিতি
গয়হাটার মঠ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নে অবস্থিত একটি সুউচ্চ সমাধি-স্মৃতিসৌধ। গয়হাটার জমিদার কালী কুমার সেন চৌধুরী তাঁর পালক মা উদয়তারা চৌধুরানীর সমাধির ওপর এটি নির্মাণ করেন। নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়নে নির্মাণকাল ১৮৮২ সাল উল্লেখ আছে।
এলাকার মানুষ একে "গয়হাটার মঠ" নামে চেনে। জমিদার আমলের স্মৃতি বহন করা এই স্থাপনায় স্থানীয় হিন্দু ভক্তরা এখনো নিয়মিত পূজা-অর্চনা করেন, তাই এটি একই সঙ্গে ঐতিহাসিক নিদর্শন ও শ্রদ্ধার স্থান।
ইতিহাস ও নামকরণ
উপজেলা পোর্টাল অনুযায়ী দেড় শতাধিক বছর আগে শ্রীকান্ত মুন্সী গয়হাটা জমিদারির গোড়াপত্তন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী উদয়তারা চৌধুরানী নিজেই জমিদারির ভার নেন। নিঃসন্তান উদয়তারা কালী কুমার সেন চৌধুরীকে দত্তক নেন।
কালী কুমার পরে এলাকায় নানা জনহিতকর কাজে হাত দেন—১৮৭৯ সালে গয়হাটা উদয়তারা মাইনর স্কুল, একটি দাতব্য চিকিৎসালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর সমাধির ওপর তিনি এই উঁচু সৌধটি নির্মাণ করেন।
পোর্টালে আরও লেখা আছে, সৌধের ভেতরে শ্বেতপাথরের একটি মূল্যবান শিবলিঙ্গ ছিল, যা একাত্তরের পর চুরি হয়ে যায়। তারপরও ভক্তদের পূজা থেমে থাকেনি।
যা যা দেখবেন
সমাধি-মঠ
গ্রামের মধ্যে আকাশের দিকে উঠে যাওয়া মঠটিই এখানকার মূল দর্শনীয়। জমিদার আমলের সমাধিসৌধ কেমন হতো, তার একটি নিদর্শন এটি।
উদয়তারা নামের স্মৃতি
এলাকার স্কুলের নামে উদয়তারা চৌধুরানীর নাম এখনো টিকে আছে, যা গয়হাটা জমিদার পরিবারের অবদানের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ভ্রমণের সেরা সময়
শুষ্ক মৌসুম (নভেম্বর–মার্চ) গ্রামীণ পথে চলাচলের জন্য সুবিধাজনক। সকালে বা বিকেলে যান; পূজার সময় চললে দূর থেকে দেখে অপেক্ষা করুন।
থাকার ব্যবস্থা
টাঙ্গাইল শহর বা নাগরপুর সদর থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। একই দিনে নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ি ও উপেন্দ্র সরোবরও দেখে নিতে পারেন। রাত থাকতে হলে টাঙ্গাইল শহরে আবাসিক হোটেল আছে।
ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
- এটি একটি সমাধিস্থল ও উপাসনার স্থান; শালীন পোশাক পরুন, জুতা খুলে চত্বরে প্রবেশ করুন।
- পূজার সময় ভক্তদের বিরক্ত করবেন না; ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
- পুরোনো স্থাপনার দেয়ালে চড়বেন না, কিছু লিখবেন না বা ইট খুলবেন না।
- আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দাদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান।
- খোলার সময় ও প্রবেশের নিয়ম স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
গয়হাটার মঠ-এ কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে
ঢাকা থেকে নাগরপুরগামী সরাসরি বাসে উপজেলা সদর, অথবা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া হয়ে নাগরপুর।
টাঙ্গাইল শহর থেকে
সিএনজি অটোরিকশায় নাগরপুর সদরে আসুন। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি নিয়ে গয়হাটা ইউনিয়নে যান; "গয়হাটার মঠ" বললে স্থানীয়রা পথ দেখিয়ে দেবেন।
নিজস্ব গাড়িতে
নাগরপুর সদর থেকে গয়হাটার গ্রামীণ সড়ক সরু হতে পারে; মঠের কাছাকাছি গাড়ি রাখার জায়গা স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন।
গয়হাটার মঠ
নাগরপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল
ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
গয়হাটার মঠ কোথায় অবস্থিত?
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নে।
গয়হাটার মঠ কে নির্মাণ করেন?
গয়হাটার জমিদার কালী কুমার সেন চৌধুরী, তাঁর পালক মা উদয়তারা চৌধুরানীর সমাধির ওপর।
মঠটি কবে নির্মিত?
নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী ১৮৮২ সালে।
গয়হাটার মঠ-এ কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে: ঢাকা থেকে নাগরপুরগামী সরাসরি বাসে উপজেলা সদর, অথবা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া হয়ে নাগরপুর। টাঙ্গাইল শহর থেকে: সিএনজি অটোরিকশায় নাগরপুর সদরে আসুন। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি নিয়ে গয়হাটা ইউনিয়নে যান; "গয়হাটার মঠ" বললে স্থানীয়রা পথ দেখিয়ে দেবেন। নিজস্ব গাড়িতে: নাগরপুর সদর থেকে গয়হাটার গ্রামীণ সড়ক সরু হতে পারে; মঠের কাছাকাছি গাড়ি রাখার জায়গা স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন।
গয়হাটার মঠ ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?
নভেম্বর–মার্চ; সকাল বা বিকেল
তথ্যসূত্র
- গয়হাটার মঠ — নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন
লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।
সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

