মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

নথখোলা স্মৃতিসৌধ

Nathkhola Memorial

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
বাসাইল, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
নভেম্বর–মার্চ
পড়তে লাগবে
৩ মিনিট

বাসাইলের কাশিল ইউনিয়নে ঝিনাই নদীর নথখোলা সেতুর পাদদেশে ১৯৭১ সালের কামুটিয়া প্রতিরোধযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ।

পরিচিতি

নথখোলা স্মৃতিসৌধ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নে, ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত নথখোলা সেতুর গোড়ায় অবস্থিত। কামুটিয়া গ্রামের পাশে নদীর এই অংশকে স্থানীয়রা নথখোলা নদী বলেন, তাই সেতু ও স্মৃতিসৌধ দুটোই এই নামে পরিচিত। সেতুতে উঠলেই খোলা আকাশের পটভূমিতে সৌধটি চোখে পড়ে।

এটি মুক্তিযুদ্ধে বাসাইলের প্রথম সফল প্রতিরোধের স্মারক। পথচলতি দর্শনার্থী থেকে শুরু করে ইতিহাসে আগ্রহী মানুষ—সবার কাছেই জায়গাটি শ্রদ্ধা জানানোর স্থান।

ইতিহাস ও নামকরণ

জেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী বাসাইলে ঢোকার উদ্দেশ্যে নথখোলা খেয়াঘাটে পৌঁছালে নদীর এপারে কামুটিয়ায় অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ওপর আক্রমণ চালান। প্রবল প্রতিরোধের মুখে হানাদার বাহিনী ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পিছু হটে। বাসাইলে ঢোকার পথে এটিই ছিল তাদের প্রথম বড় বাধা, আর এই জয় পরবর্তী লড়াইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।

সেই যুদ্ধের শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মরণে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ ১৯৯৮ সালে স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করে। ১৬ নভেম্বর ১৯৯৮ তারিখে কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

যা যা দেখবেন

স্মৃতিসৌধ

নদীর পাড়ে উঁচু হয়ে দাঁড়ানো সৌধটি দূর থেকেই দেখা যায়। সৌধের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নীরবে শ্রদ্ধা জানানোই এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য।

নথখোলা সেতু ও ঝিনাই নদী

সেতু থেকে নদী আর আশপাশের গ্রামের দৃশ্য দেখা যায়। যে খেয়াঘাটকে ঘিরে যুদ্ধ হয়েছিল, তার অবস্থান বুঝতে এই জায়গা থেকে চারপাশটা দেখে নিতে পারেন।

ভ্রমণের সেরা সময়

শুষ্ক মৌসুম (নভেম্বর–মার্চ) যাতায়াতের জন্য সুবিধাজনক। সকালে বা বিকেলে আলো নরম থাকে। কোনো জাতীয় দিবসে সৌধের সামনে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন চললে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত দূরে অপেক্ষা করুন।

থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল শহর থেকে অল্প সময়ে ঘুরে আসা যায়, তাই আলাদা করে রাত থাকার দরকার পড়ে না। প্রয়োজনে টাঙ্গাইল শহরে আবাসিক হোটেল আছে।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • এটি শহীদদের স্মরণে নির্মিত সৌধ; বেদিতে জুতা পায়ে ওঠা, বসা বা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • ছবি তুলুন সংযতভাবে; সৌধকে পেছনে রেখে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গি এড়িয়ে চলুন।
  • সেতুর ওপর গাড়ি চলে, রাস্তার ধারে দাঁড়ানোর সময় সতর্ক থাকুন।
  • নদীর পাড় বর্ষায় পিচ্ছিল থাকে, শিশুদের কাছে রাখুন।
  • আশপাশে ময়লা ফেলবেন না।

নথখোলা স্মৃতিসৌধ-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহর, তারপর বাসাইলের পথে।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    টাঙ্গাইল–বাসাইল সড়কে বাসাইলগামী সিএনজি অটোরিকশায় উঠুন। বাসাইল সদরে পৌঁছানোর প্রায় ৫ কিলোমিটার আগে নথখোলা সেতুর কাছে নামতে হয়; চালককে আগেই "নথখোলা ব্রিজ" বলে রাখুন।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    একই সড়কে সেতুর কাছে নিরাপদ জায়গা দেখে গাড়ি থামান; সেতুর ওপর গাড়ি দাঁড় করাবেন না।

  4. নথখোলা স্মৃতিসৌধ

    বাসাইল উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

নথখোলা স্মৃতিসৌধ কোথায়?

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নে, ঝিনাই নদীর ওপর নথখোলা সেতুর পাদদেশে, কামুটিয়া গ্রামের কাছে।

স্মৃতিসৌধটি কেন নির্মিত হয়েছে?

১৯৭১ সালে কামুটিয়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সফল প্রতিরোধযুদ্ধের শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মরণে।

কে ও কবে এটি নির্মাণ করে?

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ ১৯৯৮ সালে এটি নির্মাণ করে; ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ১৬ নভেম্বর ১৯৯৮।

নথখোলা স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত?

নথখোলা স্মৃতিসৌধ টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলায় অবস্থিত।

নথখোলা স্মৃতিসৌধ-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহর, তারপর বাসাইলের পথে। টাঙ্গাইল শহর থেকে: টাঙ্গাইল–বাসাইল সড়কে বাসাইলগামী সিএনজি অটোরিকশায় উঠুন। বাসাইল সদরে পৌঁছানোর প্রায় ৫ কিলোমিটার আগে নথখোলা সেতুর কাছে নামতে হয়; চালককে আগেই "নথখোলা ব্রিজ" বলে রাখুন। নিজস্ব গাড়িতে: একই সড়কে সেতুর কাছে নিরাপদ জায়গা দেখে গাড়ি থামান; সেতুর ওপর গাড়ি দাঁড় করাবেন না।

নথখোলা স্মৃতিসৌধ ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

নভেম্বর–মার্চ; সকাল বা বিকেল

তথ্যসূত্র

  • নথখোলা স্মৃতিসৌধ — টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
বাসুলিয়া (চাপড়া বিল)
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য•বাসাইল

বাসুলিয়া (চাপড়া বিল)

বাসাইল–নলুয়া সড়ক চাপড়া বিলের বুক চিরে গেছে; বর্ষায় দুই পাশে থইথই পানি, নৌকাভ্রমণ আর হিজলগাছের জন্য এই 'বাসুলিয়া' জমে ওঠে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য•বাসাইল

বংশী নদীর বাঁক

বাসাইল–সখিপুর সীমানা ধরে বয়ে চলা বংশী (বংশাই) নদী এত আঁকাবাঁকা যে শুধু বাসাইল অংশেই প্রায় শতাধিক বাঁক; নদীপাড়ের গ্রামীণ দৃশ্যের জন্য সুন্দর।

ধর্মীয় স্থান•বাসাইল

নবেবছ পাগলের মাজার (চাঁদ শহর), বার্থা

বাসাইলের কাউলজানী ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে নওয়াজেশ আলী ওরফে নবেবছ পাগলের মাজার; বাসাইল 'চাঁদ শহর' হবে—তাঁর এই উক্তি লোকমুখে প্রচলিত, মাঘে ওরস হয়।