মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ
সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষ

Mawlana Bhashani Mausoleum, Santosh

ছবি: Mzz Tanmay · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

ধরন
ঐতিহাসিক স্থাপনা
অবস্থান
টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল
শহর থেকে (সোজা দূরত্ব)
প্রায় ৩.২ কিমি
সেরা সময়
সারা বছর
পড়তে লাগবে
৫ মিনিট

টাঙ্গাইল শহরের উত্তর-পশ্চিমে সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর সমাধি, পাশেই ঐতিহাসিক দরবার হল ও পীর শাহ জামান দিঘি।

পরিচিতি

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উত্তর-পশ্চিমে সন্তোষে অবস্থিত। জায়গাটি এখন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) অধিভুক্ত এলাকার ভেতরে পড়ে। একই চত্বরে আছে তাঁর তত্ত্বাবধানে গড়া দরবার হল, পীর শাহ জামান দিঘি ও একটি মসজিদ। জেলা প্রশাসনের দর্শনীয় স্থানের তালিকাতেও স্থানটির নাম রয়েছে।

ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ — তিন পর্বের রাজনীতিতেই ভাসানী ছিলেন কৃষক-শ্রমিকের পক্ষের এক প্রভাবশালী কণ্ঠ, মানুষ তাঁকে চেনে ‘মজলুম জননেতা’ নামে। সন্তোষ ছিল তাঁর জীবনের শেষ দিককার কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থান। তাই ইতিহাসে আগ্রহী মানুষ আর তাঁর অনুরাগীদের কাছে এটি শ্রদ্ধা জানানোর জায়গা।

ইতিহাস ও নামকরণ

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, ভাসানী ১৯৩১ সালে সন্তোষের কাগমারীতে বড় একটি কৃষক সম্মেলন করেন। ১৯৪৮ সালে আসাম থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষে ফিরে আসেন। ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাছের কাগমারীতে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন, যেখানে তিনি পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের উদ্দেশে বিখ্যাত ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণ করেন।

দ্য ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে দরবার হলটি তৈরি হয়। ১৯৭১ সালের ৯ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের দাবিতে প্রথম সর্বদলীয় সম্মেলন হয় এই হলেই। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর পাকিস্তানি বাহিনী সন্তোষে তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকায় তিনি মারা যান। তাঁকে সন্তোষে পীর শাহ জামান দিঘির পাশে, দরবার হলের কাছে সমাহিত করা হয়। তাঁর জানাজায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিপুল মানুষ এসেছিলেন। পরে ১৯৯৯ সালে সন্তোষে তাঁর নামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

যা যা দেখবেন

মাজার

চত্বরের কেন্দ্রে ভাসানীর সমাধি। বছরের বেশির ভাগ সময় জায়গাটি শান্ত থাকে; মানুষ এখানে এসে দোয়া ও শ্রদ্ধা জানান।

দরবার হল

ডেইলি স্টারের বর্ণনা অনুযায়ী, কাঠের খুঁটি, টিনের চাল আর ইটের দেয়ালে গড়া এই হলে কয়েকশো মানুষ বসতে পারেন, আর ভেতরে একটি নিচু মঞ্চ আছে, যেখান থেকে ভাসানী বক্তৃতা দিতেন। প্রতিবেদনে কাঠামোটির জীর্ণ দশার কথাও এসেছে।

ভাসানী জাদুঘর

হলের পাশে ১৯৮৬ সালে একটি স্মৃতি জাদুঘর গড়া হয় বলে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। খোলার সময় স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

পীর শাহ জামান দিঘি ও মসজিদ

সুফি সাধক পীর শাহ জামানের নামে পরিচিত দিঘিটি সমাধির পাশেই। চত্বরে একটি মসজিদও আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

প্রায় ৫৮ একরের মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশও চোখে পড়বে। তবে এটি সক্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাই একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলে ঢোকা যাবে না।

ভ্রমণের সেরা সময়

শীতের মাস, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, ঘোরার জন্য আরামদায়ক। প্রতিবছর ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবার্ষিকীতে মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও আলোচনা সভা হয়; বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নেয়। এ উপলক্ষে সন্তোষে কয়েক দিনের ‘ভাসানী মেলা’ও বসে — ২০২৫ সালে মেলা চলেছিল ১১ থেকে ১৭ নভেম্বর। সে সময় প্রচুর ভিড় হয়, তাই নিরিবিলিতে দেখতে চাইলে অন্য সময় যান।

খাওয়াদাওয়া

সন্তোষ টাঙ্গাইল শহরের কাছেই, তাই শহরে সহজে খাবার পাওয়া যায়। ক্যাম্পাসের আশপাশেও ছোট দোকান আছে। টাঙ্গাইলে এলে জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি চমচম চেখে দেখতে পারেন।

থাকার ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। রাতে থাকতে চাইলে টাঙ্গাইল শহরে আবাসনের ব্যবস্থা আছে।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • এটি সমাধিস্থল; শালীন পোশাক পরুন, নিচু স্বরে কথা বলুন।
  • কবরের ওপর বা ঘেরা অংশে পা রাখবেন না; মাজার চত্বরের নিয়ম মেনে চলুন।
  • নামাজের সময় মসজিদ ও আশপাশে বাড়তি সংযম বজায় রাখুন।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা বা হলের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাবেন না।
  • ১৭ নভেম্বরের আশপাশে ভিড় খুব বেশি হয়; শিশু ও মূল্যবান জিনিসের দিকে খেয়াল রাখুন।
  • দরবার হলের কাঠামো পুরোনো ও জীর্ণ; খুঁটি বা দেয়ালে ভর দেবেন না।

মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষ-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    উপজেলা তথ্য বাতায়নের নির্দেশনা অনুযায়ী, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে প্রায় তিন ঘণ্টায় করটিয়া পৌঁছাতে পারেন। করটিয়া থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় সন্তোষ।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    সন্তোষ শহরের উত্তর-পশ্চিম দিকে, খুব কাছেই। শহরের যেকোনো জায়গা থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় ‘ভাসানী হুজুরের মাজার’ বা ‘মাভাবিপ্রবি’ বললেই চালকেরা চেনেন।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    টাঙ্গাইল শহর হয়ে সন্তোষে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যান। ক্যাম্পাসের ভেতরে গাড়ি রাখার নিয়ম ফটকে জেনে নিন।

  4. মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষ

    টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

মওলানা ভাসানীর মাজার কোথায়?

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উত্তর-পশ্চিমে সন্তোষে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এলাকায়, পীর শাহ জামান দিঘির পাশে।

মওলানা ভাসানী কবে মারা যান?

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকায়; পরে তাঁকে সন্তোষে সমাহিত করা হয়।

সন্তোষের দরবার হল কেন বিখ্যাত?

১৯৭০ সালে তৈরি এই হলে ১৯৭১ সালের ৯ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের দাবিতে প্রথম সর্বদলীয় সম্মেলন হয়েছিল। এখান থেকেই ভাসানী বক্তৃতা দিতেন।

কাগমারী সম্মেলন কোথায় হয়েছিল?

সন্তোষের কাছে কাগমারীতে, ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

ভাসানী মেলা কখন হয়?

মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ নভেম্বর ঘিরে কয়েক দিন ধরে সন্তোষে মেলা বসে; সময়সূচি প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে ঘোষিত হয়।

মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষ কোথায় অবস্থিত?

মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষ টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় অবস্থিত। টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্র থেকে সোজা দূরত্বে প্রায় ৩.২ কিমি।

মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষ-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: উপজেলা তথ্য বাতায়নের নির্দেশনা অনুযায়ী, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে প্রায় তিন ঘণ্টায় করটিয়া পৌঁছাতে পারেন। করটিয়া থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় সন্তোষ। টাঙ্গাইল শহর থেকে: সন্তোষ শহরের উত্তর-পশ্চিম দিকে, খুব কাছেই। শহরের যেকোনো জায়গা থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় ‘ভাসানী হুজুরের মাজার’ বা ‘মাভাবিপ্রবি’ বললেই চালকেরা চেনেন। নিজস্ব গাড়িতে: টাঙ্গাইল শহর হয়ে সন্তোষে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যান। ক্যাম্পাসের ভেতরে গাড়ি রাখার নিয়ম ফটকে জেনে নিন।

মওলানা ভাসানীর মাজার, সন্তোষ ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

সারা বছর; নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি আরামদায়ক, ১৭ নভেম্বরের আশপাশে ভিড় বেশি

তথ্যসূত্র

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
বিনোদন ও পার্ক•টাঙ্গাইল সদর

পোড়াবাড়ী (চমচমের গ্রাম)

টাঙ্গাইল সদরের পোড়াবাড়ী—জিআই স্বীকৃত পোড়াবাড়ির চমচমের জন্মভূমি। শহর থেকে অল্প দূরে ধলেশ্বরীর পাড়ের এই গ্রামে মিষ্টির ঐতিহ্যের খোঁজে যান ভোজনরসিকেরা।

বিনোদন ও পার্ক•টাঙ্গাইল সদর

টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান

টাঙ্গাইল শহরের মাঝখানে নিরালা মোড়ের কাছে পৌরসভার উদ্যান; পূর্বে বড় মুক্তমঞ্চ, উত্তরে শহীদ মিনার, মেলা-অনুষ্ঠানে শহরের প্রধান মিলনস্থল।

টাঙ্গাইল শহরের ডিসি লেক
বিনোদন ও পার্ক•টাঙ্গাইল সদর

ডিসি লেক

টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে লেক ও উদ্যান; হাঁটার পথ, বসার জায়গা আর শিশু পার্কসহ শহরবাসীর বিকেলের প্রিয় জায়গা।