বাসাইল–সখিপুর সীমান্তে দাড়িয়াপুরের লালমাটির টিলায় লোকসাধক ফাইলা পাগলার মাজার; মাজার ঘিরে তিন দিনের মেলায় মুর্শিদি-মারফতি গানের আসর বসে।
পরিচিতি
ফাইলা পাগলার মাজার সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুরে, বাসাইল–সখিপুর সীমান্তের লালমাটির উঁচু জমিতে অবস্থিত। বাসাইল উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। বাসাইল উপজেলা তথ্য বাতায়নের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় এর নাম রয়েছে।
মাজারটিকে ঘিরে প্রতিবছর তিন দিনের মেলা বসে। দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্ত আসেন, রাতভর চলে মুর্শিদি ও মারফতি গানের আসর। টাঙ্গাইলের লোকধর্ম আর গ্রামীণ মেলার সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখতে চাইলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
ইতিহাস ও নামকরণ
উপজেলা তথ্য বাতায়নের বিবরণ অনুযায়ী, ফাইলা পাগলার জন্ম বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দেউলী গ্রামে, এক খন্দকার পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর আচরণ ছিল খ্যাপাটে; ডাকনাম ‘ফাইলা’-র সঙ্গে ‘পাগলা’ জুড়ে যায়, আর এক সময় আসল নাম হারিয়ে এ নামেই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পারিবারিক শোকের পর তিনি ঘর ছেড়ে দাড়িয়াপুরের পাহাড়ি এলাকায় চলে আসেন এবং সেখানকার এক আদিবাসী পরিবারের আশ্রয়ে থাকতেন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, তাঁর বোনা ধানের খেতে দ্বিগুণ ফসল হয়েছিল এবং সাপে কাটা এক শিশুকে তিনি সুস্থ করে তোলেন — এসব কাহিনি থেকেই তাঁর ভক্তকুল গড়ে ওঠে। মৃত্যুর পর আত্মীয়রা তাঁকে দেউলীতে নিতে চাইলেও ভক্তদের অনুরোধে দাড়িয়াপুরেই সমাহিত করা হয়।
যা যা দেখবেন
মাজার
লালমাটির টিলার ওপর সাধকের সমাধি। ভক্তরা এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিন দিনের মেলা
মেলার সময় মাজার প্রাঙ্গণ ও আশপাশ লোকে লোকারণ্য হয়। মুর্শিদি-মারফতি গানের আসর এই মেলার প্রধান আকর্ষণ।
পথের দৃশ্য
গিলাবাড়ি হয়ে বংশাই নদী পার হয়ে লালমাটির পথ ধরে যেতে হয় — মধুপুর গড় অঞ্চলের উঁচু-নিচু লাল মাটির ভূপ্রকৃতি পথেই চোখে পড়ে।
ভ্রমণের সেরা সময়
মেলা দেখতে চাইলে সেই সময়টাই সেরা, তবে মেলার মাস ও তারিখ সূত্রে পাওয়া যায়নি — যাওয়ার আগে বাসাইল বা সখিপুরে স্থানীয়ভাবে জেনে নিন। শুকনো মৌসুমে (নভেম্বর–মার্চ) লালমাটির পথ চলাচলের জন্য সুবিধাজনক; বর্ষায় কাদা ও নদী পারাপারে ভোগান্তি হতে পারে।
থাকার ব্যবস্থা
টাঙ্গাইল শহর বা বাসাইল থেকে দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা যায়। রাতে থাকতে হলে টাঙ্গাইল শহর সবচেয়ে সুবিধাজনক।
ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
- এটি ভক্তদের শ্রদ্ধার স্থান; শালীন পোশাক পরুন এবং মাজারের নিয়ম মেনে চলুন।
- মেলার ভিড়ে শিশু, মোবাইল ও টাকাপয়সার দিকে খেয়াল রাখুন।
- গানের আসর বা প্রার্থনারত মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
- বংশাই নদী পারাপারে নৌকা ব্যবহার করলে ভারসাম্য রেখে বসুন; বর্ষায় বাড়তি সতর্ক থাকুন।
- রাতে ফেরার যানবাহন কম থাকতে পারে, ফেরার ব্যবস্থা আগে ঠিক করুন।
- তথ্যগুলো সরকারি তথ্য বাতায়ন থেকে নেওয়া, সরেজমিন যাচাই বাকি।
ফাইলা পাগলার মাজার ও মেলা-এ কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে এসে বাসাইলগামী যানবাহনে বাসাইল উপজেলা সদরে যান।
টাঙ্গাইল শহর থেকে
প্রথমে বাসাইল সদর। সেখান থেকে অটোরিকশায় প্রায় আট কিলোমিটার — পশ্চিমে গিলাবাড়ি গ্রাম হয়ে গ্রামের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে বংশাই নদী পার হন, তারপর লালমাটির পথ ধরে পূর্ব দিকে কিছুদূর গেলেই দাড়িয়াপুরের মাজার।
ফাইলা পাগলার মাজার ও মেলা
সখিপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল
ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
ফাইলা পাগলার মাজার কোথায়?
সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুরে, বাসাইল–সখিপুর সীমান্তে; বাসাইল সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার।
ফাইলা পাগলা কে ছিলেন?
বাসাইলের কাশিল ইউনিয়নের দেউলী গ্রামে জন্ম নেওয়া এক লোকসাধক, যাঁকে ঘিরে দাড়িয়াপুরে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
ফাইলা পাগলার মেলা কত দিন চলে?
প্রতিবছর মাজার ঘিরে তিন দিনের মেলা বসে।
ফাইলা পাগলার মাজার ও মেলা কোথায় অবস্থিত?
ফাইলা পাগলার মাজার ও মেলা টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলায় অবস্থিত।
ফাইলা পাগলার মাজার ও মেলা-এ কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে এসে বাসাইলগামী যানবাহনে বাসাইল উপজেলা সদরে যান। টাঙ্গাইল শহর থেকে: প্রথমে বাসাইল সদর। সেখান থেকে অটোরিকশায় প্রায় আট কিলোমিটার — পশ্চিমে গিলাবাড়ি গ্রাম হয়ে গ্রামের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে বংশাই নদী পার হন, তারপর লালমাটির পথ ধরে পূর্ব দিকে কিছুদূর গেলেই দাড়িয়াপুরের মাজার।
ফাইলা পাগলার মাজার ও মেলা ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?
মেলার সময় (তারিখ স্থানীয়ভাবে জেনে নিন); শুকনো মৌসুম নভেম্বর–মার্চ
তথ্যসূত্র
- ফাইলা পাগলার মেলা — বাসাইল উপজেলা তথ্য বাতায়ন
- পর্যটন স্পট — বাসাইল উপজেলা তথ্য বাতায়ন
লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।
সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

