মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ
বাসুলিয়া (চাপড়া বিল)

টাঙ্গাইল ভ্রমণ গাইড

বাসুলিয়া (চাপড়া বিল)

Basulia (Chapra Beel)

ছবি: Robinmkhan 1911 · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

ধরন
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
অবস্থান
বাসাইল, টাঙ্গাইল
সেরা সময়
বর্ষাকাল (জুলাই–সেপ্টেম্বর)
পড়তে লাগবে
৩ মিনিট

বাসাইল–নলুয়া সড়ক চাপড়া বিলের বুক চিরে গেছে; বর্ষায় দুই পাশে থইথই পানি, নৌকাভ্রমণ আর হিজলগাছের জন্য এই 'বাসুলিয়া' জমে ওঠে।

পরিচিতি

বাসুলিয়া টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় চাপড়া বিলের মাঝ দিয়ে যাওয়া বাসাইল–নলুয়া সড়কের একটি অংশ। বাসাইল উপজেলা পোর্টাল একে উপজেলার অন্যতম সুন্দর জায়গা বলে উল্লেখ করেছে। বাসাইল বাজার থেকে নলুয়া সড়ক ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার গেলেই বিল শুরু হয়।

বিলের মাঝখান দিয়ে সড়ক যাওয়ায় দুই পাশে কোনো ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নেই, তাই চোখ মেলে দেখা যায় দিগন্তজোড়া ধানখেত কিংবা বর্ষার জলরাশি। খোলা হাওয়ার জন্য জায়গাটি আশপাশের মানুষের প্রিয় বিকেলের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

ইতিহাস ও নামকরণ

উপজেলা পোর্টাল জানায়, এলজিইডির আরডি-১৪ প্রকল্পের আওতায় বিলের পানি অবাধে চলাচলের জন্য অনেকগুলো সেতুসহ এই সড়ক তৈরি হয়। সড়ক হওয়ার পরই আশপাশের মানুষ বিলের এই অংশের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পান।

ভরা বর্ষায় বিলের রূপ দেখে অনেকে ঢাকার আশুলিয়ার সঙ্গে মিল খুঁজে পান। সেই মিল থেকেই বাসাইলের নাম জুড়ে জায়গাটিকে স্থানীয়রা "বাসুলিয়া" বলে ডাকেন।

যা যা দেখবেন

সেতুবহুল বিলপথ

সড়কে হাঁটলে কিছুদূর পরপর ছোট সেতু চোখে পড়ে, যেগুলোর নিচ দিয়ে বিলের পানি এপার-ওপার হয়। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে দুই দিকের খোলা দৃশ্য দেখা যায়।

নৌকাভ্রমণ

বর্ষায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা দেশি নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে আসেন, যাতে চড়ে বিলে ঘুরে বেড়ানো যায়। ভাড়া মৌসুম ও চাহিদা অনুযায়ী বদলায়, তাই উঠার আগে মাঝির সঙ্গে ঠিক করে নিন।

চাপড়া বিলের হিজলগাছ

মূল সড়ক থেকে সামান্য দূরে বিলের পুরোনো হিজলগাছ দেখা যায়। উপজেলা পোর্টালের ভাষায় গাছটি পৌরাণিক কাহিনিতে সমৃদ্ধ; স্থানীয়দের কাছে সেই গল্প শুনে নিতে পারেন।

ভ্রমণের সেরা সময়

বাসুলিয়ার আসল রূপ বর্ষায়, মোটামুটি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, যখন বিলের দুই পাশ পানিতে ভরে যায়। দর্শনার্থীরা সাধারণত শেষ বিকেলে আসেন। পোর্টালে ভরা বর্ষার পূর্ণিমা রাতের জোছনায় বিলের মোহনীয় রূপের কথাও আছে। শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলে চারপাশ ধানখেতে সবুজ হয়ে থাকে।

খাওয়াদাওয়া

বাসাইল বাজারে সাধারণ খাবারের দোকান পাওয়া যায়। বিলের পাশে খাবার খেলে মোড়ক বা প্লাস্টিক পানিতে ফেলবেন না। ফেরার পথে টাঙ্গাইল শহরে পোড়াবাড়ির চমচম চেখে দেখতে পারেন।

থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইল শহর থেকে বিকেলে ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে ফেরা যায়। থাকার দরকার হলে টাঙ্গাইল শহরে আবাসনের সুযোগ বেশি।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • নৌকায় উঠলে লাইফ জ্যাকেট চেয়ে নিন; সাঁতার না জানলে বাড়তি সতর্ক থাকুন, শিশুদের হাত ধরে রাখুন।
  • অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকায় উঠবেন না, আর আবহাওয়া খারাপ হলে নৌকাভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।
  • সড়কটি চলাচলের পথ; ছবি তুলতে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়াবেন না, গাড়ির দিকে খেয়াল রাখুন।
  • সেতুর রেলিংয়ে বসা বা ঝুঁকে দাঁড়ানো বিপজ্জনক।
  • পূর্ণিমা রাতে গেলে দলবেঁধে যান এবং ফেরার যানবাহন আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
  • বিলের পানি ও হিজলগাছের আশপাশ পরিষ্কার রাখুন।

বাসুলিয়া (চাপড়া বিল)-এ কীভাবে যাবেন

  1. ঢাকা থেকে

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে আসুন। সেখান থেকে বাসাইলের পথ ধরুন।

  2. টাঙ্গাইল শহর থেকে

    সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা অটোরিকশায় বাসাইল বাজারে যান। বাজার থেকে নলুয়া সড়ক ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার এগোলেই চাপড়া বিল; রিকশা বা অটোরিকশায় সহজে পৌঁছানো যায়।

  3. নিজস্ব গাড়িতে

    বাসাইল বাজার পেরিয়ে নলুয়া সড়কে উঠুন। সড়ক সরু হতে পারে, তাই চলাচলে বাধা না দিয়ে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামান।

  4. বাসুলিয়া (চাপড়া বিল)

    বাসাইল উপজেলা, টাঙ্গাইল

ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

বাসুলিয়া কোথায় অবস্থিত?

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায়, বাসাইল বাজার থেকে নলুয়া সড়ক ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চাপড়া বিলের ওপর।

জায়গাটির নাম বাসুলিয়া কেন?

বর্ষায় চাপড়া বিলের দৃশ্য ঢাকার আশুলিয়ার মতো লাগে বলে স্থানীয়রা বাসাইলের সঙ্গে মিলিয়ে এর নাম দিয়েছেন বাসুলিয়া।

বাসুলিয়া যাওয়ার সেরা সময় কখন?

ভরা বর্ষায়, যখন বিলের দুই পাশ পানিতে ভরে থাকে। দিনের মধ্যে শেষ বিকেলটাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

বাসুলিয়া (চাপড়া বিল) কোথায় অবস্থিত?

বাসুলিয়া (চাপড়া বিল) টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলায় অবস্থিত।

বাসুলিয়া (চাপড়া বিল)-এ কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে: ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে টাঙ্গাইল শহরে আসুন। সেখান থেকে বাসাইলের পথ ধরুন। টাঙ্গাইল শহর থেকে: সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা অটোরিকশায় বাসাইল বাজারে যান। বাজার থেকে নলুয়া সড়ক ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার এগোলেই চাপড়া বিল; রিকশা বা অটোরিকশায় সহজে পৌঁছানো যায়। নিজস্ব গাড়িতে: বাসাইল বাজার পেরিয়ে নলুয়া সড়কে উঠুন। সড়ক সরু হতে পারে, তাই চলাচলে বাধা না দিয়ে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামান।

বাসুলিয়া (চাপড়া বিল) ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

বর্ষাকাল (জুলাই–সেপ্টেম্বর); শেষ বিকেল

তথ্যসূত্র

  • বাসুলিয়া — বাসাইল উপজেলা তথ্য বাতায়ন
  • বাসুলিয়া বিল — টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন

লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।

সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কাছের আরও দর্শনীয় স্থান

সব দেখুন
ঐতিহাসিক স্থাপনা•বাসাইল

নথখোলা স্মৃতিসৌধ

বাসাইলের কাশিল ইউনিয়নে ঝিনাই নদীর নথখোলা সেতুর পাদদেশে ১৯৭১ সালের কামুটিয়া প্রতিরোধযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য•বাসাইল

বংশী নদীর বাঁক

বাসাইল–সখিপুর সীমানা ধরে বয়ে চলা বংশী (বংশাই) নদী এত আঁকাবাঁকা যে শুধু বাসাইল অংশেই প্রায় শতাধিক বাঁক; নদীপাড়ের গ্রামীণ দৃশ্যের জন্য সুন্দর।

ধর্মীয় স্থান•বাসাইল

নবেবছ পাগলের মাজার (চাঁদ শহর), বার্থা

বাসাইলের কাউলজানী ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে নওয়াজেশ আলী ওরফে নবেবছ পাগলের মাজার; বাসাইল 'চাঁদ শহর' হবে—তাঁর এই উক্তি লোকমুখে প্রচলিত, মাঘে ওরস হয়।