নাগরপুরে উপেন্দ্র সরোবরের (বারো ঘাটলা দিঘি) পাশে পুরোনো শিব মন্দির; প্রতি বছর শিব চতুর্দশীতে এলাকার হাজারো ভক্ত এখানে পূজা দেন।
পরিচিতি
নাগরপুরের এই শিব মন্দিরটি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পরিচিত দিঘি উপেন্দ্র সরোবরের ঠিক পাশে অবস্থিত। দিঘির শান্ত জল আর চারপাশের সবুজ পরিবেশের মাঝে মন্দিরটির অবস্থান একে আলাদা সৌন্দর্য দিয়েছে। বাংলা উইকিপিডিয়ায় মন্দিরটিকে কাঠুরি শিব মন্দির নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি জীবন্ত উপাসনাস্থল। তাই দর্শনার্থী হিসেবে এখানে আসার সময় মনে রাখা দরকার, জায়গাটি প্রথমত ভক্তদের প্রার্থনার স্থান।
ইতিহাস ও নামকরণ
নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন জানায়, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মন্দির থেকে মূল্যবান ধাতুতে তৈরি শিবলিঙ্গটি চুরি হয়ে যায়। তবু ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে প্রতি বছর শিব চতুর্দশী তিথিতে এলাকার হাজারো ভক্ত কেন্দ্রীয়ভাবে এখানে পূজা-অর্চনা করেন।
পাশের উপেন্দ্র সরোবর স্থানীয়ভাবে ‘বারো ঘাটলা দিঘি’ নামে পরিচিত। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, এলাকার এক জমিদার প্রায় ১১ একর জায়গা জুড়ে দিঘিটি খনন করান; চারদিকে বারোটি প্রশস্ত ঘাট বাঁধানো হয়, পানি পরিষ্কার রাখতে কাটা হয় কয়েকটি গভীর কুয়া, আর পাড়ে লাগানো হয় খেজুর গাছ।
যা যা দেখবেন
শিব মন্দির
দিঘির পাড়ে মন্দিরটির অবস্থান, দিঘির জলে এর প্রতিচ্ছবি দেখার মতো। বাইরে থেকে স্থাপনাটি দেখুন; ভেতরে যেতে চাইলে পুরোহিত বা সেবায়েতের অনুমতি নিন।
উপেন্দ্র সরোবর
মন্দির দেখার পাশাপাশি বারো ঘাটলা দিঘির চারপাশে হাঁটা যায়। দিঘির প্রধান প্রবেশদ্বার পশ্চিম পাড়ে।
ভ্রমণের সেরা সময়
শীতকালে (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) দিঘির পাড়ে হাঁটা আরামদায়ক। শিব চতুর্দশীর দিনে মন্দিরে ভক্তদের বড় সমাগম হয়; তিথিটি পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছর বদলায়। উৎসবের দিনে গেলে ভিড় ও পূজার নিয়ম মেনে চলুন।
থাকার ব্যবস্থা
টাঙ্গাইল শহর থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়। রাতে থাকতে চাইলে নাগরপুর উপজেলা সদর বা টাঙ্গাইল শহরে খোঁজ নিন।
ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
- মন্দিরে ঢোকার আগে জুতা খুলুন এবং শালীন পোশাক পরুন।
- পূজা চলাকালে ছবি তোলা বা কথা বলা থেকে বিরত থাকুন, ভক্তদের পথ আটকাবেন না।
- প্রতিমা, বেদি বা পূজার সামগ্রীতে হাত দেবেন না।
- দিঘির ঘাট বর্ষায় পিচ্ছিল হতে পারে, শিশুদের পানির কাছে একা ছাড়বেন না।
- তথ্য সরকারি বাতায়ন থেকে নেওয়া, সরেজমিনে যাচাই হয়নি; মন্দিরের সময়সূচি স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
শিব মন্দির, নাগরপুর-এ কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে
মহাখালী থেকে সরাসরি নাগরপুরগামী বাসে আসা যায়। আরেকটি পথ হলো গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াগামী বাসে সাটুরিয়া, সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে নাগরপুরের দিকে এসে রিকশায় উপেন্দ্র সরোবর।
টাঙ্গাইল শহর থেকে
শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সরাসরি নাগরপুরের উপেন্দ্র সরোবরে যাওয়া যায়; মন্দিরটি দিঘির পাশেই। নাগরপুর সদর থেকে রিকশা বা অটোরিকশায়ও যাওয়া যায়।
নিজস্ব গাড়িতে
নাগরপুর সদর হয়ে উপেন্দ্র সরোবরের পশ্চিম পাড়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে গাড়ি রাখুন।
শিব মন্দির, নাগরপুর
নাগরপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল
ভাড়া, সময় ও রাস্তার অবস্থা বদলায় — রওনা দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
নাগরপুরের শিব মন্দির কোথায়?
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায়, উপেন্দ্র সরোবরের (বারো ঘাটলা দিঘি) ঠিক পাশে।
এখানে কোন উৎসবে বেশি ভিড় হয়?
প্রতি বছর শিব চতুর্দশী তিথিতে এলাকার হাজারো ভক্ত এখানে পূজা দেন।
মন্দিরের শিবলিঙ্গের কী হয়েছিল?
উপজেলা বাতায়ন অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের পর মূল্যবান ধাতুর শিবলিঙ্গটি চুরি হয়ে যায়।
শিব মন্দির, নাগরপুর কোথায় অবস্থিত?
শিব মন্দির, নাগরপুর টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত।
শিব মন্দির, নাগরপুর-এ কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে: মহাখালী থেকে সরাসরি নাগরপুরগামী বাসে আসা যায়। আরেকটি পথ হলো গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াগামী বাসে সাটুরিয়া, সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে নাগরপুরের দিকে এসে রিকশায় উপেন্দ্র সরোবর। টাঙ্গাইল শহর থেকে: শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সরাসরি নাগরপুরের উপেন্দ্র সরোবরে যাওয়া যায়; মন্দিরটি দিঘির পাশেই। নাগরপুর সদর থেকে রিকশা বা অটোরিকশায়ও যাওয়া যায়। নিজস্ব গাড়িতে: নাগরপুর সদর হয়ে উপেন্দ্র সরোবরের পশ্চিম পাড়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে গাড়ি রাখুন।
শিব মন্দির, নাগরপুর ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি; শিব চতুর্দশীতে উৎসবের পরিবেশ
তথ্যসূত্র
- নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন: শিব মন্দির
- টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন: পর্যটন স্পট (উপেন্দ্র সরোবরের যাতায়াত)
- উইকিপিডিয়া: উপেন্দ্র সরোবর
লেখাটি এসব সূত্রের তথ্য মিলিয়ে আমাদের নিজের ভাষায় লেখা। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান।
সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন (জেলা/উপজেলা পোর্টাল); সরেজমিন যাচাই বাকি· শেষ যাচাই: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

