মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইলের জমিদার বাড়ি ও প্রাচীন স্থাপত্য

ইতিহাস ৯ মিনিটে পড়ুন

মহেড়া জমিদার বাড়ির বাগানের পথ
মহেড়া জমিদার বাড়ির বাগানের পথ · ছবি: Tonmoysaha7 · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

আতিয়া মসজিদ থেকে করটিয়া, দেলদুয়ার, মহেড়া, পাকুটিয়া, নাগরপুর, হেমনগর ও ধনবাড়ীর জমিদার বাড়ি—কে গড়েছেন, কোন আমলে, এখন কী অবস্থায়।

টাঙ্গাইলের প্রাচীন স্থাপত্যের সবচেয়ে পুরোনো নিদর্শন সতেরো শতকের শুরুতে নির্মিত দেলদুয়ারের আতিয়া মসজিদ; আর জেলার জমিদার বাড়িগুলোর বেশির ভাগ উনিশ শতক থেকে বিশ শতকের শুরুর মধ্যে গড়া। করটিয়ার পন্নী, দেলদুয়ারের গজনবী, ধনবাড়ীর নওয়াব, মহেড়া ও পাকুটিয়ার সাহা এবং নাগরপুর ও হেমনগরের চৌধুরী পরিবার—এরা প্রাসাদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, দিঘি আর মসজিদ-মন্দিরও রেখে গেছেন। এসব ভবনের অনেকগুলোতে এখন কলেজ, পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা রিসোর্ট চলছে।

সারসংক্ষেপ: কোনটি কোথায়, কার, কোন আমলের

স্থাপনাউপজেলাপরিবার বা নির্মাতাআমল (আনুমানিক)
আতিয়া মসজিদদেলদুয়ারসাঈদ খান পন্নী১৬০৯ (শিলালিপিভেদে ১৬১০–১১)
করটিয়া জমিদার বাড়িটাঙ্গাইল সদরপন্নী পরিবারপরিবারের বসতি সতেরো শতকে; বিদ্যমান ভবনের সাল অজানা
দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি (নর্থ হাউজ)দেলদুয়ারগজনবী পরিবারঔপনিবেশিক আমল; সঠিক সাল অজানা
মহেড়া জমিদার বাড়িমির্জাপুরকালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহাউনিশ শতকের শেষভাগ (১৮৯০ নাগাদ)
পাকুটিয়া জমিদার বাড়িনাগরপুররামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডলের বংশধরজমিদারি উনিশ শতকের শুরুতে
নাগরপুর চৌধুরী বাড়িনাগরপুরযদুনাথ চৌধুরী ও বংশধরউনিশ শতক
হেমনগর জমিদার বাড়ি (পরীর দালান)গোপালপুরহেমচন্দ্র চৌধুরী১৮৯০
ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল ও মসজিদধনবাড়ীনওয়াব পরিবার; সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীজমিদারি মোগল আমলে; প্রাসাদ উনিশ–বিশ শতক
ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ীঘাটাইলচৌধুরী পরিবার১২২৩ বঙ্গাব্দ (প্রায় ১৮১৬–১৭)

আতিয়া মসজিদ: সুলতানি ও মোগল রীতির সন্ধিক্ষণ

আতিয়া মসজিদ দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামে, লৌহজং নদীর পূর্ব তীরে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জাতীয় জাদুঘরে রাখা মূল শিলালিপিতে নির্মাণকাল ১০১৯ হিজরি (১৬১০–১১ খ্রিষ্টাব্দ), আর মাঝের দরজার ওপরে বসানো প্রতিলিপিতে ১০১৮ হিজরি (১৬০৯ খ্রিষ্টাব্দ)। নির্মাতা বায়েজিদ খান পন্নীর ছেলে সাঈদ খান পন্নী, যিনি সুফি সাধক শাহ বাবা আদম কাশ্মিরীর সম্মানে মসজিদটি গড়েন।

  • গড়ন: বর্গাকার মূল নামাজঘরের ওপর একটি বড় গম্বুজ, আর পূর্ব দিকের বারান্দার ওপর তিনটি ছোট গম্বুজ। চার কোণে চারটি মোটা অষ্টভুজ বুরুজ।
  • অলংকরণ: পূর্ব ও উত্তরের দেয়ালে পোড়ামাটির ফুল, গোলাপচক্র ও জ্যামিতিক নকশা।
  • সংস্কার: ১৮৩৭ সালে রওশন খাতুন চৌধুরানী এবং ১৯০৯ সালে আবু আহমদ গজনবী মসজিদটি সংস্কার করেন। এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি।

বাংলাদেশের দশ টাকার নোটে এই মসজিদের ছবি ব্যবহৃত হয়েছে।

করটিয়া জমিদার বাড়ি: পন্নীদের আবাস

বাংলাপিডিয়া জানায়, পন্নী পরিবারের বায়েজিদ খান পন্নী সতেরো শতকের গোড়ায় করটিয়ায় বসতি গড়েন, আর তখন থেকে পরিবারটি করটিয়ার জমিদার নামে পরিচিত। জেলা পোর্টালের বিবরণে এই পারিবারিক ধারার সূচনা সাঈদ খান পন্নী থেকে। পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত সদস্য ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (১৮৭১–১৯৩৬), যিনি "চাঁদ মিয়া" নামে খ্যাত; ১৯২৬ সালে তিনি দাদার নামে সা'দত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৯০১ সালে তাঁর বাবা হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নীর নামে একটি বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয়।

টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পুটিয়া নদীর পাড়ে প্রাচীরঘেরা বিশাল চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে রোকেয়া মহল, দাউদ মহল, লোহার তৈরি একটি কক্ষ, রানির পুকুরঘাট ও পারিবারিক মসজিদ। জেলা পোর্টাল একে মোগল ও চীনা স্থাপত্যরীতির মিশেল বলে বর্ণনা করেছে। দেখুন করটিয়া জমিদার বাড়ি।

দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি (নর্থ হাউজ)

দেলদুয়ার উপজেলা সদরে অবস্থিত এই একতলা, প্রাচীরঘেরা বাড়িটি ঔপনিবেশিক রীতিতে তৈরি। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা ফতেহদাদ খান গজনবী লোহানী, যাঁর পূর্বপুরুষেরা আফগানিস্তানের গজনি থেকে এসেছিলেন; বাড়িটি ঠিক কবে নির্মিত, তা জানা যায় না। এই পরিবারের দুই ভাই ব্রিটিশ আমলের রাজনীতি ও শিক্ষায় সুপরিচিত—স্যার আবদুল করিম গজনবী (১৮৭২–১৯৩৯), যিনি অবিভক্ত বাংলায় মন্ত্রী ছিলেন, এবং স্যার আবদুল হালিম গজনবী (১৮৭৬–১৯৫৩)। তাঁদের মা করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানী ছিলেন বেগম রোকেয়ার বোন।

বাংলাপিডিয়া জানায়, মীর মশাররফ হোসেন ১৮৮৫ সালে দেলদুয়ার এস্টেটে কাজ নেন; জেলা পোর্টালের দাবি, "বিষাদ-সিন্ধু" তিনি এই বাড়িতে বসেই লিখেছিলেন। সামনের দিকে পারিবারিক কবরস্থান, এক কোণে মসজিদ আর পেছনে আমবাগান। দেখুন দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি।

মহেড়া জমিদার বাড়ি

মির্জাপুর উপজেলার মহেড়ায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি নিয়ে উপজেলা পোর্টালের বিবরণে আছে, কালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা নামে দুই ভাই কলকাতায় লবণ ও ডালের ব্যবসায় অর্থ উপার্জন করে মহেড়ায় এসে বাড়িটি গড়েন; পরে তাঁদের ছেলেরা করটিয়ার জমিদারদের কাছ থেকে জমিদারির একটি অংশ কিনে নেন। চত্বরের একটি ফোয়ারা ১৮৯০ সালে নির্মিত বলে জেলা পোর্টালে উল্লেখ আছে।

  • গঠন: তিনটি প্রধান ভবনের সঙ্গে কাছারি ঘর, নায়েবের ঘর, গোমস্তাদের ঘর ও মন্দির; সামনে "বিশাখা সাগর" নামের বড় দিঘি, ভেতরে আরও দুটি পুকুর। প্রবেশের জন্য দুটি সুসজ্জিত ফটক।
  • বর্তমান অবস্থা: ১৯৭২ সালে এখানে পুলিশের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ স্কুল চালু হয়, যা ১৯৯০ সালে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে রূপ নেয়। ভবনগুলো সংস্কার করা হয়েছে।

দেখুন মহেড়া জমিদার বাড়ি।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি (নাগরপুর)

জেলা পোর্টালের কিছু পাতায় ভুল করে ঘাটাইল লেখা থাকলেও পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি আসলে নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নে। পোর্টালের বিস্তারিত বিবরণে, রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডল নদীভাঙনের কারণে কয়েকবার জায়গা বদলে উঁচু জমি পাকুটিয়ায় থিতু হন এবং উনিশ শতকের শুরুতে ইংরেজদের কাছ থেকে কিনে জমিদারি শুরু করেন। তাঁর নাতি ব্রজেন্দ্রমোহন, উপেন্দ্রমোহন ও যোগেন্দ্রমোহনের সূত্রে জমিদারি তিন তরফে ভাগ হয়, তাই এখানে বড়, মেজো ও ছোট—তিনটি আলাদা প্রাসাদ, প্রতিটির সামনে একটি করে নাটমন্দির।

১৯১৬ সালে জমিদারেরা বৃন্দাবন চন্দ্র রাধা গোবিন্দ (বিসিআরজি) উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। দেশভাগের পর সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহণ করে, আর ১৯৬৭ সালে এখানেই গড়ে ওঠে বিসিআরজি ডিগ্রি কলেজ। দেখুন পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি।

নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি

জেলা পোর্টাল অনুযায়ী উনিশ শতকে যদুনাথ চৌধুরী প্রায় ৫৪ একর জমিতে নাগরপুরে এই জমিদারি গড়েন। পরের প্রজন্মে উপেন্দ্রমোহন চৌধুরীর বড় ছেলে সতীশচন্দ্র রায় চৌধুরী জনহিতকর কাজের জন্য ব্রিটিশ সরকারের "রায় বাহাদুর" খেতাব পান; ছোট ছেলে সুরেশচন্দ্র রায় চৌধুরীকে পোর্টাল কলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বলেছে।

পাশ্চাত্য ও মোগল রীতির মিশেলে গড়া মূল ভবনের ভেতরের কাজ সাদা মার্বেলে, ওপরে ছিল নহবতখানা; একসময় বাড়িতে ছোট চিড়িয়াখানাও ছিল। দেশভাগের পর সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহণ করে, এখন মূল ভবনে নাগরপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ চলে। চত্বরের ঝুলন দালান ও ঘোড়ার দালান এবং কাছের বারো ঘাটের উপেন্দ্র সরোবর এই পরিবারের কীর্তি। দেখুন নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি।

হেমনগর জমিদার বাড়ি: পরীর দালান (গোপালপুর)

জেলা পোর্টালের "এক নজরে" পাতায় এটি ধনবাড়ীতে দেখানো হলেও হেমনগর ইউনিয়ন আসলে গোপালপুর উপজেলায়, আর গোপালপুর উপজেলা পোর্টালও তা-ই বলে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী হেমচন্দ্র চৌধুরী (১৮৩৩–১৯১৫) ছিলেন পুখুরিয়া পরগনার এক-ষোলো অংশের জমিদার; হেমনগর নামটি তাঁর নাম থেকেই।

জেলা পোর্টালের বিবরণে, ১৮৮০ সালে তিনি সুবর্ণখালীতে একটি রাজবাড়ি গড়েছিলেন, কিন্তু সেটি যমুনার ভাঙনে হারিয়ে যায়; এরপর ১৮৯০ সালে শিমলাপাড়া মৌজায় নতুন দোতলা প্রাসাদ নির্মাণ করেন। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাসাদে প্রায় ১০০টি কক্ষ, আর প্রবেশপথের ওপর দুটি পরীর মূর্তির জন্য স্থানীয়রা একে "পরীর দালান" বলেন। ১৯৭১ সালে ভবনটি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে জেলা পোর্টাল জানায়। এখন চত্বরে একটি ডিগ্রি কলেজ চলে; রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবন জীর্ণ হয়ে পড়ার খবরও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। দেখুন হেমনগর জমিদার বাড়ি।

ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল ও মসজিদ

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে মোগল সেনাপতি ইস্পিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ স্থানীয় শাসক ধনপতি সিংহকে পরাজিত করে ধনবাড়ীতে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। নওয়াব বাড়ির পাশের তিন গম্বুজ মসজিদে কোনো শিলালিপি নেই; স্থাপত্য দেখে একে জাহাঙ্গীরের আমলের বলে অনুমান করা হয়। বহুবার সংস্কারে এর আয়তাকার রূপ বদলে বর্গাকার হয়েছে, আর নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী (১৮৬৩–১৯২৯) একে সম্প্রসারণ করেন। মসজিদের পাশেই তাঁর সমাধি।

প্রাচীরঘেরা দক্ষিণমুখী প্রাসাদটি লম্বা বারান্দা, প্রহরী-কক্ষসহ বড় তোরণ আর পূর্ব দিকের বিশাল দিঘির জন্য পরিচিত। জেলা পোর্টালের বিবরণে, ১৯১৯ সালে বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড রোনাল্ডশের আগমন উপলক্ষে নওয়াব আলী চৌধুরী এই ভবন ও তোরণ নির্মাণ করেন। বর্তমানে নওয়াবের উত্তরসূরিদের তত্ত্বাবধানে এখানে একটি রিসোর্ট চলে। দেখুন ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিল ও মসজিদ।

ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ী (ঘাটাইল)

ঘাটাইল সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে, বংশাই নদীর কাছে এই চৌধুরীবাড়ীর গোড়াপত্তন ১২২৩ বঙ্গাব্দে। জেলা পোর্টাল জানায়, শুরুতে এখানে ছিল খড়ের চালের ঘর, পরে টিনের, শেষে পাকা দালান; বাড়ির দক্ষিণে আটচালা কাছারি ঘরটি এখনো টিকে আছে। প্রায় একশো বছর পর, ১৩২৩ বঙ্গাব্দে, পরিবারের ছমির উদ্দিন চৌধুরী ও জমির উদ্দিন চৌধুরী কারুকাজ করা ধলাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। দেখুন ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ী ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

জমিদারদের শিক্ষা-অনুদান

টাঙ্গাইলের জমিদার পরিবারগুলোর একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়া। করটিয়ার সা'দত কলেজ (১৯২৬), পাকুটিয়ার বিসিআরজি বিদ্যালয় (১৯১৬), হেমচন্দ্রের মায়ের নামে শশীমুখী ইংলিশ হাইস্কুল ও ১৯০১ সালের দাতব্য চিকিৎসালয়, আর ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশন এর উদাহরণ। সন্তোষের জমিদার পরিবারও শিক্ষানুরাগের জন্য পরিচিত; জেলা পোর্টাল অনুযায়ী জাহ্নবী চৌধুরানী, দিনমনি চৌধুরানী ও বিন্দুবাসিনী চৌধুরানী এই পরিবারের সদস্য।

তথ্যসূত্র

সাধারণ প্রশ্ন

টাঙ্গাইলের সবচেয়ে পুরোনো স্থাপনা কোনটি?

দেলদুয়ারের আতিয়া মসজিদকে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে প্রাচীন টিকে থাকা স্থাপনাগুলোর একটি ধরা হয়। শিলালিপি অনুযায়ী এটি ১৬০৯ বা ১৬১০–১১ খ্রিষ্টাব্দে সাঈদ খান পন্নী নির্মাণ করেন।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি কোন উপজেলায়?

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নে। জেলা পোর্টালের কোনো কোনো তালিকায় ঘাটাইল লেখা থাকলেও সেটি ভুল; উপজেলা পোর্টাল ও পর্যটন তালিকা দুটোই নাগরপুর বলে।

হেমনগর জমিদার বাড়ি কে নির্মাণ করেন?

জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী ১৮৯০ সালে গোপালপুর উপজেলার হেমনগরে দোতলা প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। প্রবেশপথের পরীর মূর্তির জন্য এটি "পরীর দালান" নামে পরিচিত।

মহেড়া জমিদার বাড়িতে এখন কী আছে?

মহেড়া জমিদার বাড়িতে ১৯৭২ সাল থেকে পুলিশের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান চলছে, যা ১৯৯০ সালে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত হয়। ভবনগুলো সংস্কার করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি পুলিশ বিভাগ পরিচালনা করে।

করটিয়ার জমিদার কারা ছিলেন?

করটিয়ার জমিদার ছিলেন পন্নী পরিবার; বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী সতেরো শতকের শুরুতে বায়েজিদ খান পন্নী করটিয়ায় বসতি গড়েন। এই পরিবারের ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (চাঁদ মিয়া) ১৯২৬ সালে সা'দত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি