
১৯৭১ সালে টাঙ্গাইল ১১ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয়। কাদেরিয়া বাহিনী, সিরাজকান্দির জাহাজমারা যুদ্ধ, ছাব্বিশা-বনগ্রামের গণহত্যা ও পুংলির ছত্রীসেনা অবতরণ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল ছিল ঢাকার উত্তরে সবচেয়ে সক্রিয় রণাঙ্গনগুলোর একটি। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা কাদেরিয়া বাহিনী সখিপুরের পাহাড়ি বনাঞ্চলকে ঘাঁটি করে বছরজুড়ে লড়াই চালায়। ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১ টাঙ্গাইল শহর পাকিস্তানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়, আর সেই দিনটি এখন "টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত দিবস" হিসেবে পালিত হয়। একই দিন বিকেলে কালিহাতীর পুংলিতে ভারতীয় ছত্রীসেনারা অবতরণ করেন।
এই লেখায় নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া ঘটনাগুলো সময়ানুক্রমে সাজানো হয়েছে। সূত্রগুলো হলো বাংলাপিডিয়া, জাতীয় দৈনিক এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পোর্টাল। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে যেখানে সূত্রভেদে অমিল আছে, সেখানে প্রতিটি সংখ্যার উৎস আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্চ–মে: প্রতিরোধের শুরু
২৫ মার্চের পর টাঙ্গাইলের বিভিন্ন থানায় প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো:
- ২৮ মার্চ, ভূঞাপুর: সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ ভূঞাপুর কলেজের শহীদ মিনারে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ায়।
- ৩ এপ্রিল, মির্জাপুর: গোড়ান-সাটিয়াচড়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে বড় লড়াই হয়। এতে ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং বেশ কিছু পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়।
- এপ্রিল, গোপালপুর: মুক্তিযোদ্ধারা গোপালপুর থানায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করেন এবং থানা ভবনে আগুন দেন।
- ১৯ এপ্রিল, কালিহাতী: কালিহাতী-তে বড় সংঘর্ষ হয়, যাতে বাংলাপিডিয়ার হিসাবে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
মধুপুর উপজেলা পোর্টাল অনুযায়ী পাকিস্তানি সেনারা ১৩ এপ্রিল মধুপুর দখল করে, আর পরদিন থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
৭ মে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। জেলা পোর্টালের তথ্যমতে, তাঁদের আর কখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
কাদেরিয়া বাহিনী
টাঙ্গাইলের মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই কাদেরিয়া বাহিনীর নাম আসে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার একটি প্রতিবেদনে বাহিনীটির পরিচয় এভাবে পাওয়া যায়:
- গঠন: পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে টাঙ্গাইল অঞ্চলে ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল বাহিনীটি গঠিত হয়।
- নেতৃত্ব: নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল কাদের সিদ্দিকী, যিনি পরে বীর উত্তম খেতাব পান।
- আকার: বাহিনীতে নিয়মিত যোদ্ধা ছিলেন প্রায় ১৭ হাজার (বাংলাপিডিয়াতেও একই সংখ্যা)। এর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন আনুমানিক ৭০ হাজার।
- ঘাঁটি: সদর দপ্তর ছিল সখিপুর-এর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়।
- কাঠামো: বাহিনীর নিজস্ব ফিল্ড হাসপাতাল ছিল। অর্থ, জনসংযোগ, যোগাযোগ, খাদ্য এবং বিচার ও কারা বিভাগও আলাদাভাবে চালু ছিল।
- কর্মএলাকা: টাঙ্গাইল ছাড়াও ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার নানা জায়গায় বাহিনীটি লড়াই করে।
- খেতাব: একই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাহিনীর দুজন সদস্য বীর বিক্রম এবং ১৪ জন বীর প্রতীক খেতাব পান।
সখিপুরের বহেড়াতৈলে যেখানে যোদ্ধারা শপথ নিয়েছিলেন, সেখানে আজ কাদেরিয়া বাহিনীর শপথস্তম্ভ রয়েছে। যুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাহিনীটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে।
এই লেখা শুধু ১৯৭১ সালের ঘটনাবলি নিয়ে। বাহিনীর নেতা ও সদস্যদের পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা এখানে আলোচনার বিষয় নয়।
জাহাজমারা যুদ্ধ: সিরাজকান্দি, ভূঞাপুর
টাঙ্গাইলের মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত অভিযান ভূঞাপুরের সিরাজকান্দি-মাটিকাটায় পাকিস্তানি বাহিনীর রসদবাহী জাহাজে আক্রমণ। এটি "জাহাজমারা যুদ্ধ" নামে পরিচিত। ভূঞাপুর উপজেলা পোর্টালের বিবরণ অনুযায়ী:
- পটভূমি: আগস্টের শুরুতে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি ও রসদবোঝাই সাতটি ছোট-বড় জাহাজ ধলেশ্বরীর তীরে সিরাজকান্দিতে নোঙর করে। এগুলো উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকার পাকিস্তানি ঘাঁটিগুলোতে পাঠানোর কথা ছিল।
- আক্রমণ: হাবিবুর রহমানের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ১০ আগস্ট দুটি জাহাজে আক্রমণ চালান। পরদিন, ১১ আগস্ট, জাহাজ দুটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বাকি পাঁচটি জাহাজ সরে যেতে সক্ষম হয়।
- ফলাফল: মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ হাতে পান। পোর্টালের হিসাবে এতে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও সাতজন আহত হন, আর পাকিস্তানি পক্ষে নিহত হয় ২৫ থেকে ৩০ জন।
- পাল্টা অভিযান: ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনী জল, স্থল ও আকাশপথে পাল্টা অভিযান চালায়। এতে আশপাশের জনপদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বাংলাপিডিয়ায় ঘটনাটির তারিখ ১১ আগস্ট, আর সেখানে নিহত পাকিস্তানি সৈন্যের সংখ্যা প্রায় ৩০ বলা হয়েছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে এটিকে কাদেরিয়া বাহিনীর সবচেয়ে বড় ও সফল লড়াই বলা হয়েছে। সেই জায়গাটি এখন একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে চিহ্নিত।
গণহত্যা ও বধ্যভূমি
যুদ্ধের নয় মাসে টাঙ্গাইলের বহু গ্রামে সাধারণ মানুষ হত্যার শিকার হন। বাংলাপিডিয়া নাগরপুর, মির্জাপুর, গোপালপুর ও ভূঞাপুরে গণকবর এবং মির্জাপুর ও গোপালপুরে বধ্যভূমির কথা উল্লেখ করেছে। কয়েকটি ঘটনা বিশেষভাবে নথিভুক্ত।
পানির ট্যাংক বধ্যভূমি, টাঙ্গাইল শহর
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উত্তর পাশে পানির ট্যাংকের কাছে একটি বধ্যভূমি রয়েছে। প্রথম আলোর নাগরিক সংবাদ বিভাগের একটি লেখায় বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর সেখানে বহু মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়। এখানে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় দিবসগুলোতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বনগ্রাম, নাগরপুর (২৫ অক্টোবর)
গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রাম ছিল জঙ্গলঘেরা, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন একটি গ্রাম। নাগরপুর উপজেলা পোর্টাল অনুযায়ী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছিল।
- স্থানীয় কিছু স্বাধীনতাবিরোধীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ২৫ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামে আক্রমণ চালায়।
- পোর্টালের হিসাবে প্রায় ৭৬ জন সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
- প্রথম আলোর নাগরিক সংবাদের লেখায় নিহতের সংখ্যা ৫৭, আর পুড়িয়ে দেওয়া ঘরের সংখ্যা ১২৯।
- নিহতদের এক জায়গায় দাফন করা হয়। সেখানে এখন বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ রয়েছে।
ছাব্বিশা, ভূঞাপুর (১৭ নভেম্বর)
ভূঞাপুর সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের এই গ্রামটি তখন গোবিন্দাসী ইউনিয়নের অংশ ছিল।
- ১৭ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ থেকে যমুনা পার হয়ে আসা পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের দিনভর গুলিবিনিময় হয়।
- মুক্তিযোদ্ধারা সরে যাওয়ার পর গ্রামে গণহত্যা চালানো হয়।
- বাংলাপিডিয়ার হিসাবে ৩২ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ৩৫০টি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। উপজেলা পোর্টালেও ৩২ জন শহীদের নামের তালিকা আছে।
জায়গাটি এখন ছাব্বিশা গণহত্যা স্মৃতিস্থান হিসেবে সংরক্ষিত।
সারেংপুর, নাগরপুর (১৩ ডিসেম্বর)
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বিজয়ের মাত্র তিন দিন আগে নাগরপুরের সারেংপুরে পাকিস্তানি বাহিনী একই পরিবারের সাতজনকে হত্যা করে।
ডিসেম্বর: পুংলিতে ছত্রীসেনা ও টাঙ্গাইলের মুক্তি
ডিসেম্বরের শুরুতে মিত্রবাহিনী জামালপুর ও ময়মনসিংহের দিকে অগ্রসর হয়। তখন সেখান থেকে পাকিস্তানি সেনারা টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকার দিকে সরে যেতে থাকে। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পশ্চাৎপসরণ ঠেকানোর জন্য টাঙ্গাইল তখন কৌশলগতভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
- ১১ ডিসেম্বর বিকেল: ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি প্যারাশুট ব্যাটালিয়ন (২ প্যারা) টাঙ্গাইলের উত্তরে কালিহাতীর পুংলি সেতুর কাছে অবতরণ করে। তাদের লক্ষ্য ছিল সেতু ও কাছের ফেরিঘাট দখল করে পাকিস্তানি সেনাদের পিছু হটার পথ বন্ধ করা। ভারতের ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশনের জার্নালে লেখা হয়েছে, পরদিন স্থলপথে আসা ভারতীয় বাহিনী তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- কালিহাতীর লড়াই: বাংলাপিডিয়ায় এ সময়ের কালিহাতীর লড়াইয়ের হিসাব আছে। সেখানে প্রায় ৩৭০ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত, শতাধিক আহত এবং প্রায় ৬০০ জন বন্দি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাপিডিয়া ঘটনাটির তারিখ দিয়েছে ১০ ডিসেম্বর।
- ১১ ডিসেম্বর, টাঙ্গাইল শহর: ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী এদিন কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধারা টাঙ্গাইল শহরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিবরণে আছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি দল আগের রাত থেকেই শহরে ঢুকতে শুরু করে।
মধুপুর উপজেলা পোর্টালের তথ্যমতে, ১০ ডিসেম্বর মধুপুর মুক্তাঞ্চলের মর্যাদা পায়। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শেষ হয়।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন
জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী টাঙ্গাইলে মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য স্মারকগুলো হলো:
| স্মারক | অবস্থান |
|---|---|
| পানির ট্যাংক বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ | টাঙ্গাইল শহর |
| শহীদদের নামফলক | পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশে, জেলা সদর |
| "প্রত্যয়-৭১" ভাস্কর্য | মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সন্তোষ |
| কাদেরিয়া বাহিনীর শপথস্তম্ভ | বহেড়াতৈল, সখিপুর |
| সখিপুর স্মৃতিসৌধ | সখিপুর |
| ৫২-৭১ স্মৃতিসৌধ | লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ভূঞাপুর |
| "বিজয়-৭১" স্মারকস্তম্ভ | ঘাটাইল উপজেলা সদর |
| কামুটিয়া স্মৃতিস্তম্ভ | ঝিনাই নদীর তীর, কাশিল ইউনিয়ন, বাসাইল |
| "বিজয় একাত্তর" | টাঙ্গাইল টেক্সটাইল কলেজ, বাঘুটিয়া, কালিহাতী |
| মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ | নাগরপুর উপজেলা সদর |
| বনগ্রাম গণকবর স্মৃতিসৌধ | গয়হাটা, নাগরপুর |
বাসাইলের নথখোলা স্মৃতিসৌধ-ও জেলার পরিচিত স্মারকগুলোর একটি।
তথ্যসূত্র
- Banglapedia — Tangail District — প্রবেশ 2026-10-16
- বাংলাপিডিয়া — টাঙ্গাইল জেলা — প্রবেশ 2026-10-16
- Banglapedia — Tangail Sadar Upazila — প্রবেশ 2026-10-16
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা — কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র সমর্পণের সুবর্ণজয়ন্তী — প্রবেশ 2026-10-16
- প্রথম আলো — পাকিস্তানি ঘাঁটির একে একে দ্রুত পতন — প্রবেশ 2026-10-16
- প্রথম আলো (নাগরিক সংবাদ) — টাঙ্গাইল ও শেরপুরের একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা — প্রবেশ 2026-10-16
- USI of India — Fifty Years after India's First Airborne Operation at Poongli Bridge, Tangail — প্রবেশ 2026-10-16
- দেশ রূপান্তর — টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস আজ — প্রবেশ 2026-10-16
- bdnews24 — টাঙ্গাইলে স্বাধীনতা দিবস (পানির ট্যাংক বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা) — প্রবেশ 2026-10-16
- ভূঞাপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন — ঐতিহাসিক জাহাজমারা — প্রবেশ 2026-10-16
- ভূঞাপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন — ছাব্বিশার গণহত্যা — প্রবেশ 2026-10-16
- নাগরপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন — বনগ্রামের গণকবর — প্রবেশ 2026-10-16
- মধুপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন — উপজেলার পটভূমি — প্রবেশ 2026-10-16
- টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন — এক নজরে জেলা — প্রবেশ 2026-10-16
- টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন — বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব — প্রবেশ 2026-10-16
- সখিপুর উপজেলা তথ্য বাতায়ন — উপজেলার পটভূমি — প্রবেশ 2026-10-16
- Wikipedia — Tangail Airdrop (মিলিয়ে দেখার জন্য) — প্রবেশ 2026-10-16
সাধারণ প্রশ্ন
টাঙ্গাইল কবে হানাদারমুক্ত হয়?
টাঙ্গাইল শহর ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। প্রতিবছর এই দিনটি টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়।
কাদেরিয়া বাহিনী কী?
কাদেরিয়া বাহিনী ছিল মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল অঞ্চলে গড়ে ওঠা একটি বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী। এর নেতা ছিলেন আবদুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম), আর নিয়মিত যোদ্ধা ছিলেন প্রায় ১৭ হাজার। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বাহিনীটি অস্ত্র সমর্পণ করে।
জাহাজমারা যুদ্ধ কোথায় ও কবে হয়েছিল?
জাহাজমারা যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৭১ সালের আগস্টে, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দিতে ধলেশ্বরী নদীর তীরে। উপজেলা পোর্টাল অনুযায়ী ১০ আগস্ট আক্রমণ শুরু হয় এবং ১১ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনীর দুটি অস্ত্রবোঝাই জাহাজ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইলে ছত্রীসেনা অবতরণ কবে হয়?
১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকেলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি প্যারাশুট ব্যাটালিয়ন কালিহাতীর পুংলি সেতুর কাছে অবতরণ করে। উদ্দেশ্য ছিল উত্তর দিক থেকে ঢাকার দিকে পিছু হটা পাকিস্তানি সেনাদের পথ আটকানো।
ছাব্বিশা গণহত্যা কী?
১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর ভূঞাপুরের ছাব্বিশা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামবাসীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে এতে ৩২ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩৫০টি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইলের বধ্যভূমি কোথায়?
টাঙ্গাইল শহরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উত্তর পাশে পানির ট্যাংকের কাছে একটি বধ্যভূমি রয়েছে, যেখানে এখন স্মৃতিস্তম্ভ আছে। এ ছাড়া নাগরপুরের বনগ্রাম ও ভূঞাপুরের ছাব্বিশায় গণকবর ও স্মৃতিস্থান রয়েছে।
মূল সূত্র: Banglapedia — Tangail District
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি