মূল কনটেন্টে যান

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

টাঙ্গাইলের নদ-নদী: যমুনা, ধলেশ্বরী, লৌহজং, বংশী, ঝিনাই ও অন্যান্য নদীর পরিচয়

ভূগোল ও প্রকৃতি ৯ মিনিটে পড়ুন

টাঙ্গাইলের লৌহজং নদী
টাঙ্গাইলের লৌহজং নদী · ছবি: P.K.Niyogi · Public domain · উইকিমিডিয়া কমন্স

টাঙ্গাইলের প্রধান নদী যমুনা, ধলেশ্বরী, লৌহজং, বংশী ও ঝিনাই। কোন নদী কোন উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে, দৈর্ঘ্য, নদীভাঙন ও যমুনার দুই সেতুর তথ্য।

টাঙ্গাইলের প্রধান নদী যমুনা, ধলেশ্বরী, লৌহজং, বংশী (স্থানীয় নাম বংশাই) ও ঝিনাই। জেলার পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া যমুনা থেকে ধলেশ্বরী, লৌহজং ও এলংজানির মতো শাখানদী বেরিয়েছে, আর পূর্ব দিকের উঁচু লালমাটির অঞ্চল ছুঁয়ে দক্ষিণে নেমেছে বংশী। এগুলোর বাইরে পুংলী, বৈরান, নাংলী, তুরাগ, আত্রাইসহ বহু ছোট নদী এবং অসংখ্য খাল-বিল জেলার চাষাবাদ, মাছ ধরা ও যাতায়াতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং স্লোগানেও নদী আছে সবার আগে — "নদী চর খাল বিল গজারির বন"। নিচে সরকারি জেলা তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়ার উপজেলাভিত্তিক তথ্য ও জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন মিলিয়ে প্রতিটি নদীর গতিপথ, কোন উপজেলা দিয়ে গেছে এবং কী কারণে গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরা হলো।

এক নজরে টাঙ্গাইলের নদী

নদীযে উপজেলা দিয়ে প্রবাহিতবৈশিষ্ট্য
যমুনাভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর; গোপালপুরের হেমনগর এলাকাও এর তীরেব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা; জেলার পশ্চিম সীমানা; বিস্তীর্ণ চর ও তীব্র ভাঙন; ওপরে যমুনা সেতু ও যমুনা রেলসেতু
ধলেশ্বরীটাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুরযমুনার শাখা; জেলার উত্তর-পশ্চিমে উৎপত্তি; সরকারি হিসাবে দৈর্ঘ্য ২৯২ কিমি
পুরাতন ধলেশ্বরীনাগরপুর, কালিহাতীসিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের নদী; দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩ কিমি
লৌহজংভূঞাপুর (উৎস এলাকা), কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, বাসাইল, ঘাটাইল, মির্জাপুরটাঙ্গাইল শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত; দৈর্ঘ্য ৮৫ কিমি; এখন প্রায় মৃতপ্রায়
বংশী (বংশাই)মধুপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল, সখিপুর, বাসাইল, কালিহাতী, নাগরপুর, মির্জাপুরপুরাতন ব্রহ্মপুত্রের শাখা; দৈর্ঘ্য ২৩৯ কিমি; বাসাইলের পূর্ব সীমানা
ঝিনাইগোপালপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল, বাসাইলশেরপুর-জামালপুর থেকে আগত; দৈর্ঘ্য ১৩৩ কিমি; একাধিক শাখায় বিভক্ত
এলংজানিটাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, মির্জাপুরধলেশ্বরী থেকে উৎপত্তি, নাংলী নদীতে মিলিত; দৈর্ঘ্য ৩৩ কিমি
তুরাগমির্জাপুরবংশীর ধারাবাহিকতা হিসেবে ঢাকার দিকে প্রবাহিত
বৈরান ও আত্রাইগোপালপুরছোট নদী; বৈরানের দৈর্ঘ্য ৩৬ কিমি
বানারধনবাড়ীবংশীর সঙ্গে মিলিত হয়
পুংলীজেলার ভেতরের নদী (উপজেলা সূত্রে উল্লেখ নেই)দৈর্ঘ্য ৩৯ কিমি, গড় প্রস্থ ১৩০ মিটার

টেবিলের উপজেলা-তালিকা মূলত বাংলাপিডিয়ার উপজেলাভিত্তিক "জলাশয়" অংশ ও জেলা তথ্য বাতায়নের বর্ণনা মিলিয়ে তৈরি। নদীর গতিপথ বছরে বছরে বদলায়, তাই সীমানাঘেঁষা গ্রামগুলোর ক্ষেত্রে বাস্তব অবস্থা ভিন্ন হতে পারে।

যমুনা: পশ্চিম সীমান্তের বিশাল নদী

যমুনা বাংলাদেশের তিন বড় নদীর একটি এবং ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা। জেলা তথ্য বাতায়নের বিবরণ অনুযায়ী, ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যকার ভূমিকম্প ও বড় বন্যার পর ব্রহ্মপুত্র পুরোনো খাত ছেড়ে পশ্চিমের নতুন পথ ধরে, আর সেই নতুন প্রবাহই আজকের যমুনা। বাংলাদেশের ভেতরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৬ কিমি, তার মধ্যে যমুনা অংশ ২০৫ কিমির মতো। নদীটি কোথাও ৩ কিমি, কোথাও ২০ কিমি পর্যন্ত চওড়া; গড়ে প্রায় ১০ কিমি। শেষে গোয়ালন্দের কাছে গিয়ে এটি পদ্মায় মেশে।

টাঙ্গাইলে যমুনা জেলার পশ্চিম সীমা টেনে দিয়েছে; ওপারে সিরাজগঞ্জ। সরকারি বাতায়নে টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও ভূঞাপুর-এর নাম আছে, আর বাংলাপিডিয়া নাগরপুর-এর জলাশয়ের তালিকাতেও যমুনাকে রেখেছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে বহু পরিবার বসবাস ও চাষাবাদ করে।

ধলেশ্বরী ও পুরাতন ধলেশ্বরী

ধলেশ্বরী যমুনার একটি শাখা। জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে যমুনা থেকে বেরিয়ে এটি সর্পিল পথে দক্ষিণ-পূর্বে এগিয়েছে, তারপর মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জের কাছে শীতলক্ষ্যার সঙ্গে মিলে শেষে মেঘনায় পড়েছে। সরকারি বাতায়নে এর দৈর্ঘ্য ২৯২ কিমি এবং গড় প্রস্থ ১৪৪ মিটার বলা হয়েছে। ঝিনাইয়ের বর্ণনায় বাতায়ন ধলেশ্বরীর উৎসমুখকে ভূঞাপুর থানার প্রায় ৭ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, যোকার চরের কাছে চিহ্নিত করেছে।

টাঙ্গাইলের ভেতরে ধলেশ্বরী সদর, দেলদুয়ার ও নাগরপুরের মধ্য দিয়ে গেছে। এর পাশাপাশি "পুরাতন ধলেশ্বরী" নামে আলাদা একটি প্রায় ৬৩ কিমি দীর্ঘ নদীও আছে, যাকে বাংলাপিডিয়া নাগরপুর ও কালিহাতীর নদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

লৌহজং: টাঙ্গাইল শহরের নদী

টাঙ্গাইল শহরকে চেনার একটি উপায় লৌহজং। জেলা শহরের দিঘুলিয়া, কলেজপাড়া, কাগমারী, বেড়াডোমা, আকুরটাকুর পাড়া ও কাজিপুরের পাশ দিয়ে এটি বয়ে গেছে, আর এই নদীর কাছেই শহরের পুরোনো জনপদ গড়ে উঠেছিল। নদীটি যমুনার শাখা; দৈর্ঘ্য ৮৫ কিমি, গড় প্রস্থ ৭৮ মিটার, অববাহিকা প্রায় ১০৪ বর্গকিমি।

উৎস নিয়ে দুটি বিবরণ পাওয়া যায়। জেলা বাতায়নের একটি অংশ বলে, ভূঞাপুর সদরের গাবসারা এলাকা থেকে বেরিয়ে নদীটি পাঁচটিকরীর কাছে ঝিনাইয়ের সঙ্গে মিশেছে; আবার সেখানেই উদ্ধৃত ইতিহাসবিদ কেদারনাথ মজুমদারের লেখায় বৈষ্ণববাড়ী থেকে যমুনার শাখা হিসেবে এর জন্মের কথা আছে। এরপর লৌহজং টাঙ্গাইল শহর, করটিয়া ও বাসাইলের সীমানা ছুঁয়ে মির্জাপুরের জামুর্কীর দিকে গিয়ে বংশীতে মিশেছে। একসময়ের খরস্রোতা এই নদী এখন অনেক জায়গায় প্রায় মৃত।

বংশী বা বংশাই

বংশী পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের শাখানদী; জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলা জুড়ে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩৯ কিমি। জামালপুরের দিক থেকে এসে নদীটি মধুপুর-এ পৌঁছে বানার ও ঝিনাইয়ের শাখার সঙ্গে মেলে, তারপর দক্ষিণে মির্জাপুর হয়ে কালিয়াকৈরের কাছে দুই ভাগ হয়। বড় ধারাটি তুরাগ নামে ঢাকার দিকে গিয়ে বুড়িগঙ্গায় পড়ে, ছোট ধারাটি সাভার হয়ে ধলেশ্বরীতে মেশে। জেমস টেলরের পুরোনো বিবরণে জেলার মাঝারি নদীগুলোর মধ্যে বংশাইকে সবচেয়ে দীর্ঘ বলা হয়েছিল।

বংশী বাসাইল-এর পূর্ব সীমানা নির্ধারণ করেছে। বাংলাপিডিয়া একে মধুপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল, সখিপুর, কালিহাতী, নাগরপুর ও মির্জাপুরের নদী হিসেবেও দেখিয়েছে। এই নদীর আঁকাবাঁকা রূপ দেখতে অনেকে বংশী নদীর বাঁক-এ যান।

ঝিনাই

ঝিনাই শেরপুর ও জামালপুর হয়ে টাঙ্গাইলে ঢুকেছে; দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩৩ কিমি। জামালপুরের বাউশীর কাছে নদীটি ভাগ হয়ে যায়। একটি ধারা ডান দিকে বেঁকে যমুনার পূর্ব পাশ ধরে ভূঞাপুরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ধলেশ্বরীর উৎসমুখের কাছে মেশে। অন্য ধারাটি দক্ষিণ-পূর্বে বাসাইলের ফুলকী হয়ে বংশীতে পড়ে; আরেকটি অংশ ফুলকী-আইসড়া, দেউলী ও দাপনাজোর হয়ে নথখোলা এলাকার দিকে দক্ষিণমুখী হয়েছে। বাসাইলের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ দিয়ে বয়ে যাওয়ায় ঝিনাই এই উপজেলার মানুষের সেচ ও যাতায়াতে বড় ভূমিকা রাখে। বাংলাপিডিয়া গোপালপুর, ধনবাড়ী ও ঘাটাইলের নদী হিসেবেও ঝিনাইয়ের নাম দিয়েছে।

এলংজানি, নাংলী, তুরাগ ও অন্যান্য ছোট নদী

  • এলংজানি: টাঙ্গাইল সদরে ধলেশ্বরী থেকে বেরিয়ে দেলদুয়ারের মাঝ দিয়ে মির্জাপুরে নাংলী নদীতে মিশেছে; দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩ কিমি।
  • নাংলী: জেলার ভেতরের প্রায় ৩৭ কিমি দীর্ঘ নদী।
  • তুরাগ: মির্জাপুরের নদী; বংশীর মূল ধারা পরে এই নামেই ঢাকার দিকে যায়।
  • বৈরান ও আত্রাই: বাংলাপিডিয়া গোপালপুরের নদী হিসেবে এ দুটির নাম দিয়েছে। বৈরানের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬ কিমি। উত্তরবঙ্গের বড় আত্রাই নদীর সঙ্গে এর সম্পর্ক সূত্রে স্পষ্ট নয়।
  • আরও কিছু নাম: পুংলী (৩৯ কিমি), নাঙ্গলা (৩৮ কিমি), গোয়াইল্যা বা বেলতলি (২৪ কিমি, টাঙ্গাইল-গাজীপুর), বোশখালী (১২ কিমি), চাপাই (১১ কিমি), টংকি ও হাই বা হাওয়া (প্রতিটি প্রায় ৭ কিমি)। জেলা বাতায়নের আরেক তালিকায় লাঙ্গুলিয়া, জুগনি, পৌলি ও ফটিকজানির নামও আছে।

বিল ও জলাভূমি

নদীর পাশাপাশি টাঙ্গাইলের বিলগুলোও উল্লেখযোগ্য। জেলা বাতায়নের হিসাবে শুধু বাসাইলেই জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ৪৩০ হেক্টর; সেখানে বালিয়া, কাউলজানী ও ডুবাইল বিল আকারে বড়, আর চাপড়া, দেও, পদ্ম, চাটাই, বারকাটি, বার্থা বিল তুলনামূলক ছোট। চাপড়া বিলের হিজলবন ঘিরে গড়ে ওঠা বাসুলিয়া এখন জনপ্রিয় বেড়ানোর জায়গা। ঘাটাইলে সাধিকা, বড় বিল ও ঘাটাইল বিল এবং নাগরপুরে ভারুয়া বিলের নাম বাংলাপিডিয়ায় পাওয়া যায়।

নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের জীবন

যমুনার ভাঙন টাঙ্গাইলের নদীপাড়ের মানুষের নিত্যসঙ্গী। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও নাগরপুরের বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর ও ফসলি জমি যমুনায় তলিয়ে যাচ্ছিল। একই সময়ে গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া এলাকায় তারাকান্দি-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কে ফাটল দেখা দেয়; সড়কটি বাঁধ হিসেবেও কাজ করে বলে এটি ভাঙলে আশপাশের উপজেলায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। একই প্রতিবেদনে বাসাইল ও মির্জাপুরে ঝিনাই ও বংশীর ভাঙনের কথাও এসেছে। জিও-ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের চেষ্টা হলেও স্থানীয়দের মতে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

ভাঙনের তীব্রতা বছরভেদে বদলায়, তাই নির্দিষ্ট কোনো বছরের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখানে দেওয়া হলো না। তবে বর্ষা এলেই যমুনাপাড়ের চর ও তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর শঙ্কা ফিরে আসে — এটি জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা।

যমুনার ওপর দুই সেতু

টাঙ্গাইলকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছে যমুনার ওপর দুটি সেতু।

  • যমুনা সেতু: প্রায় ৪.৮ কিমি দীর্ঘ সড়কসেতুটি ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন চালু হয়; পূর্ব প্রান্ত টাঙ্গাইলে, পশ্চিম প্রান্ত সিরাজগঞ্জে। আগে এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু সেতু; ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির গেজেটে নাম বদলে যমুনা সেতু রাখা হয়।
  • যমুনা রেলসেতু: সড়কসেতুর সমান্তরালে ৪.৮ কিমি দীর্ঘ ডাবল-ট্র্যাক এই রেলসেতু দেশের দীর্ঘতম রেলসেতু। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। টাঙ্গাইল প্রান্তের স্টেশনের নাম এখন ইব্রাহিমাবাদ।

ঢাকা থেকে সড়ক বা রেলপথে কীভাবে এই সেতু পর্যন্ত যাওয়া যায়, তা জানতে দেখুন ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার উপায়। পুরো জেলার নদী ও উপজেলার অবস্থান একসঙ্গে দেখতে টাঙ্গাইলের ম্যাপ কাজে লাগবে।

তথ্যসূত্র

সাধারণ প্রশ্ন

টাঙ্গাইলের প্রধান নদী কোনগুলো?

টাঙ্গাইলের প্রধান নদী যমুনা, ধলেশ্বরী, লৌহজং, বংশী (বংশাই) ও ঝিনাই। এ ছাড়া তুরাগ, এলংজানি, পুরাতন ধলেশ্বরী, বৈরান, পুংলী, নাংলীসহ আরও অনেক ছোট নদী জেলায় আছে।

টাঙ্গাইল শহর কোন নদীর তীরে?

টাঙ্গাইল শহর লৌহজং নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। যমুনার এই শাখানদী শহরের দিঘুলিয়া, কাগমারী, আকুরটাকুর পাড়াসহ কয়েকটি এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে, যদিও এখন এটি অনেকটাই মৃতপ্রায়।

যমুনা নদী টাঙ্গাইলের কোন কোন উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত?

সরকারি তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী যমুনা টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও ভূঞাপুরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত। বাংলাপিডিয়া নাগরপুরকেও যমুনাতীরের উপজেলা হিসেবে দেখায়, আর গোপালপুরের হেমনগর এলাকাও যমুনার ভাঙনের মুখে পড়ে।

বংশী নদী কোথা থেকে এসেছে?

বংশী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে উৎপন্ন হয়ে জামালপুর হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরে ঢোকে। এরপর দক্ষিণে মির্জাপুর পেরিয়ে কালিয়াকৈরের কাছে দুই ভাগ হয়; মূল ধারা তুরাগ নামে ঢাকার দিকে যায়।

টাঙ্গাইলে নদীভাঙন বেশি হয় কোথায়?

যমুনার ভাঙন সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুরের নদীতীর ও চরাঞ্চলে। গোপালপুরের হেমনগর এলাকায়ও ভাঙন সড়ক ও বাঁধের জন্য হুমকি তৈরি করে।

যমুনা সেতু কত কিলোমিটার লম্বা?

যমুনা সেতু প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন চালু হয়। এর পাশে সমান দৈর্ঘ্যের যমুনা রেলসেতু ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ উদ্বোধন হয়।

মূল সূত্র: টাঙ্গাইল জেলা তথ্য বাতায়ন — খাল বিল নদী

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি