মূল কনটেন্টে যান

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

কালিহাতীতে নারীদের হাতে ১১ বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন

সংস্কৃতি টাঙ্গাইল ডট নেট ডেস্ক ১ মিনিটে পড়ুন কালিহাতী

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামে 'উজ্জয়িনী' সংগঠনের নারীরা টানা ১১ বছর ধরে নিজেরাই দুর্গাপূজার সব আয়োজন সম্পন্ন করে আসছেন।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে 'উজ্জয়িনী' নামের একটি নারী সংগঠনের উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। এ বছর সেই ধারাবাহিকতায় ১১তম পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চাঁদা সংগ্রহ, বাজারসদাই, এমনকি ঢাক বাজানো পর্যন্ত সব দায়িত্ব পালন করছেন সংগঠনের নারী সদস্যরা। শুধু পুরোহিতের কাজটি একজন পুরুষ করে থাকেন।

পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সীমা কর্মকার (৪২) জানান, গ্রামের হিন্দু নারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কুসংস্কার ও বিধিনিষেধের মধ্যে বৈষম্যের শিকার হতেন। ঘোমটা ছাড়া বাইরে বের হওয়া, সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া বা স্বামীর চেয়ে বেশি পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে নানা বাধা ছিল। ২০০২ সালে নিজেও এ ধরনের সমস্যায় পড়ার পর তিনি নারীদের সংগঠিত করার কথা ভাবেন। সেই ভাবনা থেকেই আরেক সীমা কর্মকার, শিপ্রা পাল ও বুলবুলি কর্মকারকে নিয়ে চারজন মিলে 'উজ্জয়িনী' গড়ে তোলেন। পরে আরও অনেক নারী ও শিক্ষার্থী এতে যুক্ত হন।

পূজা কমিটির সভাপতি সীমা কর্মকার (৪৮) বলেন, শুরুর দিকে অনেকে এই আয়োজনকে ভালোভাবে নেননি, তবে এখন সবাই সহযোগিতা করেন। সদস্যরা নিজেরাই চাঁদা দিয়ে পূজার ব্যয় মেটান।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের কালিহাতী উপজেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাশীনাথ মজুমদার জানান, এ বছর টাঙ্গাইল জেলায় মোট ১ হাজার ৩৫৭টি দুর্গাপূজার মণ্ডপ স্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে মগড়া গ্রামের এই মণ্ডপটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম, কারণ জেলায় এটিই একমাত্র মণ্ডপ যেখানে নারীরা পূজার সম্পূর্ণ আয়োজন করেন। এই বিশেষ উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটিকে পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মগড়া গ্রামের বাসিন্দা তুষার কর্মকার মনে করেন, এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি নারীর সক্ষমতা ও ক্ষমতায়নের একটি দৃষ্টান্তও বটে। এ বছর বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা উজ্জয়িনীর সব সদস্যকে শাড়ি উপহার দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি