টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার পৈতৃক বাড়িতে ১৯৪২ সাল থেকে চলে আসা দুর্গাপূজা এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ৮৪ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় লৌহজং নদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার পৈতৃক বাড়িতে এবারও দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৪২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পূজা এ বছর ৮৪তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। প্রতিবছর এই মণ্ডপে দেশি-বিদেশি অতিথিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মানুষ আসেন।
জানা গেছে, রণদা প্রসাদ সাহার পূর্বপুরুষেরাও এই বাড়িতে দুর্গাপূজা করতেন। তবে তাঁর বাবা দেবেন্দ্র নাথ পোদ্দারের সময়ে আর্থিক সংকটে পূজা বন্ধ হয়ে যায়। পরে রণদা প্রসাদ সাহা কলকাতায় গিয়ে ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেন এবং ১৯৪২ সালে এলাকাবাসীকে নিয়ে জাঁকজমকভাবে এই পূজার নতুন সূচনা করেন। তাঁর জীবদ্দশায় পূজার চার দিন শত শত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হতো এবং যাত্রাপালা ও নাটকের আয়োজন হতো। দরিদ্রদের মাঝে বস্ত্র বিতরণও করা হতো বলে স্থানীয়রা জানান।
মণ্ডপে তোরণ বা জমকালো আলোকসজ্জা না থাকলেও সাদামাটা এই আয়োজন মির্জাপুর তথা টাঙ্গাইলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। পূজার সময় লৌহজং নদের উত্তর পাড়ে অবস্থিত কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে অতিথিদের নৌকায় করে উৎসব প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। রণদা প্রসাদ সাহার প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার অধীন শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীরা পূজার আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার উপপরিচালক (অপারেশনস) অনিমেষ ভৌমিক জানান, প্রতিদিন আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং রাজনীতিক ও কূটনীতিকসহ দেশ-বিদেশের অতিথিরা প্রতিবছরের মতো এবারও আসছেন। সংস্থার মানবসম্পদ কর্মকর্তা অভিজিত সাহা জানান, বাড়ির সামনে ৬০ ফুট উঁচু নহবতখানা তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে সানাইয়ের সুর বাজানো হয়। ভারতেশ্বরী হোমসের নৃত্য প্রশিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, এবার ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নৃত্য এবং প্রায় ৪০ জন সংগীত পরিবেশন করবেন।
পাশের আন্ধরা গ্রামের ৮২ বছর বয়সী নৃপেন চন্দ্র সূত্রধর জানান, ছোটবেলা থেকেই এই পূজা দেখে আসছেন তিনি। মির্জাপুর সাহাপাড়ার প্রবীণ নারী নুপুর সাহা বলেন, এই পূজার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সব আয়োজনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৭ মে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে যায়, এরপর তাঁরা আর ফিরে আসেননি।
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি