মূল কনটেন্টে যান

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

একই প্রাঙ্গণে মসজিদ-মন্দির, আজানে থামে নাগরপুরের ঢাক

সংস্কৃতি টাঙ্গাইল ডট নেট ডেস্ক ১ মিনিটে পড়ুন নাগরপুর

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চৌধুরী বাড়িতে ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই চত্বরে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করছে।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়িতে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে একই প্রাঙ্গণে একটি দুর্গামন্দির ও একটি মসজিদ পাশাপাশি টিকে আছে। শারদীয় দুর্গাপূজার এই মৌসুমে সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বিশেষ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে — মসজিদ থেকে আজানের শব্দ ভেসে আসামাত্র মন্দিরের ঢাক, বাদ্যযন্ত্র ও আতসবাজি সব থেমে যায়। কোনো নির্দেশনা বা আলোচনা ছাড়াই এই অলিখিত রীতি বছরের পর বছর ধরে মেনে চলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র প্রথমে ওই চত্বরে দেবী দুর্গার মন্দির স্থাপন করেন। পরে ১৯৬২ সালে একই জায়গায় 'চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ' নির্মিত হয়। সীমানাপ্রাচীরের পশ্চিমে মন্দির আর পূর্বে মসজিদ — এভাবেই দুটি উপাসনালয় প্রায় ৫৬ বছর ধরে সহাবস্থান করছে।

মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হুমায়ুন কবির জানান, দুই সম্প্রদায় নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করছেন এবং এত বছরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, কাউকে কোনো বিষয়ে সতর্কও করতে হয়নি। পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঝন্টু কুমার সাহা বলেন, মুসলমান প্রতিবেশীরা তাদের উৎসবে কোনো বিঘ্ন না হয় সে ব্যাপারে সব সময় সচেতন থাকেন এবং এই দৃষ্টান্ত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া উচিত।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বনিক জানান, চৌধুরী বাড়ির এই সহাবস্থান বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি জীবন্ত নিদর্শন এবং এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব চলছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় মোট ১,৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে, যার মধ্যে মির্জাপুরে সর্বোচ্চ ২৭০টি এবং দেলদুয়ারে সর্বনিম্ন ৩৪টি মণ্ডপ রয়েছে। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, জেলাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি