টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চৌধুরী বাড়িতে একই প্রাঙ্গণে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি থেকে প্রায় ছয় দশক ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির নজির রেখে চলেছে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়িতে একই সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি মন্দির। প্রায় ছয় দশক ধরে কোনো বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুই ধর্মের মানুষ এখানে নিজ নিজ উপাসনা চালিয়ে আসছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র প্রথমে ওই চত্বরে দেবী দুর্গার মন্দির স্থাপন করেন। এরপর ১৯৬২ সালে একই প্রাঙ্গণে নির্মিত হয় চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সীমানা প্রাচীরের পশ্চিম দিকে মন্দির এবং পূর্ব দিকে মসজিদ অবস্থিত।
শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালে মন্দির প্রাঙ্গণে ঢাক, আলোকসজ্জা ও ভক্তদের ভিড় থাকলেও মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে এলেই মন্দিরের সব বাদ্যযন্ত্র ও শব্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কোনো প্রশাসনিক নির্দেশ ছাড়াই এই অলিখিত রীতি দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হুমায়ুন কবির জানান, দুই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার নির্বিঘ্নে পালন করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঝন্টু কুমার সাহা বলেন, উৎসবে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে স্থানীয় মুসলমান ভাইয়েরা সজাগ ও সহনশীল থাকেন।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক এবং টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, চৌধুরী বাড়ি বাংলার সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখানে আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনো উদ্বেগ নেই। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় মোট ১,৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি