লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে র্যালি, আলোচনা ও বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দিনের বিকেলে শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে একটি র্যালি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে 'জনসেবা চত্বরে' এসে মেলে। র্যালিতে লালনভক্ত ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।
চত্বরে পরে আলোচনা সভা ও লালনগীতির আসর বসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক উপ-মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সেলিম মিয়া স্বাগত জানান উপস্থিতদের। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান তুহীন এবং টাঙ্গাইল ল' কলেজের অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ খালেদসহ স্থানীয় গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরাও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দা সেলিনা আক্তার ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুন হোসাইন।
আব্দুস সালাম পিন্টু তাঁর বক্তব্যে বলেন, লালন সাঁইজির চিন্তা কেবল সুরের জগতে আবদ্ধ নয়, এটি মানুষের ভেতরের মুক্তির সন্ধান দেয়। ধর্ম ও বর্ণের ভেদ না মেনে তিনি যে মানবতার কথা বলে গেছেন, সেই বার্তা আজকের সমাজে সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, লালনের অসাম্প্রদায়িক ভাবনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন লক্ষ্য। তিনি শুধু একজন সাধক ছিলেন না, বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ও বটে।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে একাডেমির শিল্পী ও আমন্ত্রিত বাউল শিল্পীরা একতারা-দোতারায় লালনের গান পরিবেশন করেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বহু লালন অনুরাগী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি