মূল কনটেন্টে যান

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬•

টাঙ্গাইলTANGAIL.NET
নোটিশ

ছয় বছরেও শেষ হয়নি জোকারচর সেতু, নতুন দরপত্রে আশার আলো

যোগাযোগ ও অবকাঠামো টাঙ্গাইল ডট নেট ডেস্ক ২ মিনিটে পড়ুন কালিহাতী

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ ঠিকাদারি জটিলতায় ছয় বছরেও মাত্র তিনটি পিলারে আটকে আছে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ ঠিকাদারদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অনিয়মের কারণে দীর্ঘ ছয় বছরেও সম্পন্ন হয়নি। এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি পিলার নির্মাণ করেই প্রায় ১০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেতুটি না হওয়ায় দুটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬৪ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হায়দার কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড, অবনী এন্টারপ্রাইজ ও সৈয়দ মজিবুর রহমান নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কার্যাদেশ পাওয়ার পর দেড় বছর অংশীদারদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে কাজই শুরু হয়নি। পরে যৌথ উদ্যোগের এক অংশীদার সৈয়দ মজিবুর রহমান ২০২১ সালের এপ্রিলে নিজে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কাজ শুরু করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, অপর অংশীদার অবনী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হেকমত আলী সেই কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মামলা-পাল্টামামলাও হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হেকমত আলী অপর দুই অংশীদারের স্বাক্ষর জাল করে গাজিপুরের এক ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের কাছে সেতুর কাজ বিক্রি করে দেন। রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি পাইলিংসহ কাজের জন্য হেকমতকে দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করলে তাঁকে এলেঙ্গা রিসোর্টে আটকে রেখে সব চুক্তিপত্র ফেরত নেওয়া হয় এবং তাঁর কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি কোনো অর্থ ফেরত পাননি বলে জানিয়েছেন। এদিকে হেকমত আলী নদীর দুই তীরে মোট তিনটি পিলার নির্মাণ করেই এলজিইডি থেকে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল তুলে নেন বলে অভিযোগ। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সেতুটি নির্মিত হলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মাহমুদনগর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে বলে স্থানীয়রা জানান। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এলজিইডি চলতি বছরের ৯ মার্চ নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। এবার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৯ টাকা এবং কাজ পেয়েছে চৌধুরী-এলহোজ জয়েন্টভেঞ্চার। নতুন ঠিকাদারকে আগামী ২২ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে।

শেয়ার করুন: ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি