
মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর ফুটপাত স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে মামলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা। দুদক পরিদর্শনে রডের ঘাটতি পেয়েছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাত স্ল্যাব ঢালাইয়ে অনিয়মের অভিযোগে মামলা, বিভাগীয় ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিদর্শন হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ঠিকাদারের লোকজন ফুটপাত স্ল্যাবের কাঠামোয় লোহার রডের জায়গায় বাঁশ বসিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন। বাসিন্দারা আপত্তি জানিয়ে ভিডিও ধারণ করলে কাজ বন্ধ হয়, কিন্তু পরে রাতেই ঢালাই শেষ করা হয়। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন তৎপর হয়। ঠিকাদারপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, বাঁশ কেবল সাটারিংয়ের কাজে ব্যবহার হচ্ছিল।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
- উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর বাসাইল থানায় দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
- দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের একজন প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এলজিইডি।
- জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়েরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিপ্লব হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল সেতুটি পরিদর্শন করে। দলটি ফুটপাত স্ল্যাব ও রেলিংয়ের খুঁটি ভেঙে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে বাঁশ তাঁরা দেখেননি বলে জানান দুদক কর্মকর্তা। কারিগরি বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন কমিশনে পাঠানোর পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী জানিয়েছেন, উপজেলা কার্যালয়কে না জানিয়ে রাতে ঢালাই করা নিয়মবহির্ভূত। পরীক্ষাগারের ফল ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
তথ্যসূত্র
- বাংলা ট্রিবিউন — প্রকাশ 2026-09-22
- বাংলা ট্রিবিউন — প্রকাশ 2026-09-23
- সমকাল — প্রকাশ 2026-09-22
মূল সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি