
মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি জমিতে আগাম ফুলকপি, শিম, লাউসহ নানা সবজির চাষ শুরু। জেলায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্য ২ লাখ ৯৪ হাজার ২২০ মেট্রিক টন।
শীত আসতে এখনো বেশ কিছুদিন বাকি, তবে টাঙ্গাইলের পাহাড়ি এলাকা ও নদীর চরে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ জোরেশোরে শুরু হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য ২ লাখ ৯৪ হাজার ২২০ মেট্রিক টন।
মধুপুর, ঘাটাইল, সখীপুর ও ধনবাড়ীর পাহাড়ি জমি এবং যমুনা-ধলেশ্বরীর চরাঞ্চলে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, গাজর, শালগম, লালশাক ও পালংশাকের চাষ চলছে। সারাবাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগাম লালশাক, মুলা ও লাউ এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। প্রতিদিন ট্রাকে করে এসব সবজি ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, মৌসুমের আগে ফসল তুলতে পারলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ লাভ পাওয়া যায়।
মাঠের চিত্র
মধুপুরের দরিহাসিল গ্রামের এক কৃষক ৭০ শতাংশ জমিতে প্রায় ১৬ হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। এরই মধ্যে তাঁর খরচ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। ভালো ফলন আর ন্যায্য দাম পেলে খরচ বাদে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। ঘাটাইলের সাগরদীঘি ইউনিয়নের ফুলমালির চালা গ্রামের আরেক কৃষক ৪০ শতাংশ জমিতে শিম ও লাউ লাগিয়েছেন, গাছে এরই মধ্যে ফুল আসতে শুরু করেছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রণোদনার আওতায় প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে উপজেলায় দুই হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ফুলকপির চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কৃষকদের সার ও অন্যান্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সোয়েব মাহমুদ জানিয়েছেন, কিছু কৃষক বাড়তি লাভের আশায় আগেভাগে চাষ শুরু করেছেন, অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবাদ চলবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে এবং কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগকেই এই মৌসুমের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন কৃষকেরা।
তথ্যসূত্র
- আলোকিত বাংলাদেশ — প্রকাশ 2026-09-17
- সারাবাংলা — প্রকাশ 2026-09-24
- আমার সংবাদ — প্রকাশ 2026-09-17
মূল সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি