
টাঙ্গাইল সদরের পোস্ট কোড ১৯০০ (1900)। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের তালিকা অনুযায়ী জেলার ১২ উপজেলার ৪৩টি ডাকঘরের পোস্ট কোড এক জায়গায়।
টাঙ্গাইল সদরের পোস্ট কোড ১৯০০ (1900)। টাঙ্গাইল জেলার সব পোস্ট কোড ১৯০০ থেকে ১৯৯৯-এর মধ্যে, আর প্রতিটি কোড শুরু হয় "১৯" দিয়ে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের তালিকায় জেলার ৪৩টি ডাকঘরের আলাদা কোড আছে; নিচে উপজেলাভিত্তিক পূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো।
তালিকাটি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে (bangladeshpost.gov.bd) প্রকাশিত টাঙ্গাইল জেলার পোস্ট কোড তালিকা থেকে নেওয়া এবং আরেকটি স্বাধীন পোস্ট কোড ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা; দুটিতে ৪৩টি কোডই হুবহু মিলেছে। প্রতিটি ডাকঘরের ইংরেজি নাম ডাক বিভাগের তালিকার বানানেই বন্ধনীতে রাখা হয়েছে, যাতে খাম বা অনলাইন ফর্মে লিখতে সুবিধা হয়।
তালিকার সময়কাল: তালিকাটি ডাক বিভাগের পুরোনো ওয়েবসাইটের সংস্করণ থেকে নেওয়া, যা ২০১৮ সালে সংরক্ষিত (ইন্টারনেট আর্কাইভ)। এর পরে নতুন কোনো ডাকঘর চালু হলে তা এখানে না-ও থাকতে পারে। জরুরি চিঠি বা সরকারি আবেদনে নিশ্চিত হতে নিকটস্থ ডাকঘরে জেনে নিন।
নিজের গ্রাম বা ইউনিয়নের কোড খুঁজুন: টাঙ্গাইলের পোস্ট কোড খোঁজার পাতায় ইউনিয়ন বা গ্রামের নাম লিখলে কোন ডাকঘরের আওতায় পড়ে তা দেখা যায়; প্রতিটি ডাকঘরের আলাদা পাতায় আওতার এলাকা ও ঠিকানা লেখার নমুনা আছে।
বাংলাদেশের পোস্ট কোড কীভাবে কাজ করে
- বাংলাদেশের পোস্ট কোড চার অঙ্কের সংখ্যা। প্রতিটি কোড একটি নির্দিষ্ট ডাকঘরকে চিহ্নিত করে — কোনো গ্রাম বা ইউনিয়নকে নয়।
- প্রথম দুই অঙ্ক মোটামুটি জেলা বোঝায়। যেমন ঢাকা জিপিওর কোড ১০০০ এবং ঢাকা জেলার কোডগুলো ১০ থেকে ১৩ দিয়ে শুরু; টাঙ্গাইলের সব কোড ১৯ দিয়ে, প্রতিবেশী জামালপুরের ২০ দিয়ে আর ময়মনসিংহের ২২ দিয়ে শুরু।
- শেষ দুই অঙ্ক জেলার ভেতরের ডাকঘর আলাদা করে। সাধারণত উপজেলা সদরের ডাকঘর একটি "গোল" সংখ্যা পায় (যেমন কালিহাতী ১৯৭০, ঘাটাইল ১৯৮০, গোপালপুর ১৯৯০), আর ওই উপজেলার অন্য ডাকঘরগুলো পায় তার পরের সংখ্যাগুলো।
- একটি ডাকঘর আশপাশের অনেক গ্রামে চিঠি বিলি করে, তাই একই পোস্ট কোড বহু গ্রামের ঠিকানায় বসে।
আপনার ঠিকানার কোড কীভাবে বের করবেন: আপনার গ্রামের চিঠি যে ডাকঘর থেকে বিলি হয়, সেই ডাকঘরের কোডটিই আপনার কোড। উপজেলার নাম দিয়ে খুঁজলে ভুল হতে পারে, কারণ একই উপজেলায় একাধিক ডাকঘর থাকে। নিশ্চিত না হলে নিকটস্থ ডাকঘরে জিজ্ঞেস করুন।
উপজেলাভিত্তিক পোস্ট কোড তালিকা
টাঙ্গাইল সদর
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| টাঙ্গাইল সদর (Tangail Sadar) | ১৯০০ (1900) |
| কাগমারী (Kagmari) | ১৯০১ (1901) |
| সন্তোষ (Santosh) | ১৯০২ (1902) |
| করটিয়া (Korotia) | ১৯০৩ (1903) |
| পোড়াবাড়ী (Purabari) | ১৯০৪ (1904) |
উপজেলার পরিচিতি: টাঙ্গাইল সদর উপজেলা। সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার এবং করটিয়ায় করটিয়া জমিদার বাড়ি অবস্থিত।
দেলদুয়ার
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| দেলদুয়ার (Delduar) | ১৯১০ (1910) |
| জাঙ্গালিয়া (Jangalia) | ১৯১১ (1911) |
| পাথরাইল (Patharail) | ১৯১২ (1912) |
| এলাসিন (Elasin) | ১৯১৩ (1913) |
| হিঙ্গানগর (Hinga Nagar) | ১৯১৪ (1914) |
| লাউহাটি (Lowhati) | ১৯১৫ (1915) |
উপজেলার পরিচিতি: দেলদুয়ার উপজেলা।
বাসাইল
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| বাসাইল (Basail) | ১৯২০ (1920) |
উপজেলার পরিচিতি: বাসাইল উপজেলা।
নাগরপুর
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| নাগরপুর (Nagarpur) | ১৯৩৬ (1936) |
| ধুবুরিয়া (Dhuburia) | ১৯৩৭ (1937) |
| সলিমাবাদ (Salimabad) | ১৯৩৮ (1938) |
উপজেলার পরিচিতি: নাগরপুর উপজেলা।
মির্জাপুর
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| মির্জাপুর (Mirzapur) | ১৯৪০ (1940) |
| গোড়াই (Gorai) | ১৯৪১ (1941) |
| এম. সি. কলেজ (M.C. College) | ১৯৪২ (1942) |
| ওয়ার্শী পাইকপাড়া (Warri paikpara) | ১৯৪৩ (1943) |
| জামুর্কী (Jarmuki) | ১৯৪৪ (1944) |
| মহেড়া (Mohera) | ১৯৪৫ (1945) |
উপজেলার পরিচিতি: মির্জাপুর উপজেলা। মহেড়ায় রয়েছে মহেড়া জমিদার বাড়ি।
সখিপুর
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| সখিপুর (Sakhipur) | ১৯৫০ (1950) |
| কচুয়া (Kochua) | ১৯৫১ (1951) |
উপজেলার পরিচিতি: সখিপুর উপজেলা।
ভূঞাপুর
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| ভূঞাপুর (Bhuapur) | ১৯৬০ (1960) |
উপজেলার পরিচিতি: ভূঞাপুর উপজেলা।
কালিহাতী
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| কালিহাতী (Kalihati) | ১৯৭০ (1970) |
| রাজাফৈর (Rajafair) | ১৯৭১ (1971) |
| নাগবাড়ী (Nagbari) | ১৯৭২ (1972) |
| বল্লা বাজার (Ballabazar) | ১৯৭৩ (1973) |
| এলেঙ্গা (Elinga) | ১৯৭৪ (1974) |
| পালিশা (Palisha) | ১৯৭৫ (1975) |
| নাগরবাড়ী এসও (Nagarbari SO) | ১৯৭৬ (1976) |
| নাগরবাড়ী (Nagarbari) | ১৯৭৭ (1977) |
উপজেলার পরিচিতি: কালিহাতী উপজেলা। ডাক বিভাগের তালিকায় "Nagarbari" নামে দুটি আলাদা কোড (১৯৭৬ ও ১৯৭৭) আছে; চিঠি পাঠানোর আগে আপনার এলাকা কোন ডাকঘরের অধীনে, তা স্থানীয় ডাকঘর থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
ঘাটাইল
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| ঘাটাইল (Ghatial) | ১৯৮০ (1980) |
| জাহিদগঞ্জ (Zahidganj) | ১৯৮১ (1981) |
| ডি. পাকুটিয়া (D. Pakutia) | ১৯৮২ (1982) |
| ধলাপাড়া (Dhalapara) | ১৯৮৩ (1983) |
| লোহানী (Lohani) | ১৯৮৪ (1984) |
উপজেলার পরিচিতি: ঘাটাইল উপজেলা। ডাক বিভাগের তালিকায় ঘাটাইলের বানান "Ghatial" লেখা আছে।
গোপালপুর
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| গোপালপুর (Gopalpur) | ১৯৯০ (1990) |
| ঝাওয়াইল (Jhowail) | ১৯৯১ (1991) |
| হেমনগর (Hemnagar) | ১৯৯২ (1992) |
উপজেলার পরিচিতি: গোপালপুর উপজেলা। হেমনগরে হেমনগর জমিদার বাড়ি অবস্থিত।
মধুপুর
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| মধুপুর (Madhupur) | ১৯৯৬ (1996) |
উপজেলার পরিচিতি: মধুপুর উপজেলা।
ধনবাড়ী
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| ধনবাড়ী (Dhobari) | ১৯৯৭ (1997) |
উপজেলার পরিচিতি: ধনবাড়ী উপজেলা। ডাক বিভাগের তালিকায় এই ডাকঘরের নাম "Dhobari" বানানে এবং মধুপুর থানার অধীনে লেখা আছে; ধনবাড়ীর কোড ১৯৯৭ অন্য সূত্রেও একই পাওয়া যায়।
উপজেলা নিশ্চিত নয় এমন একটি ডাকঘর
| ডাকঘর | পোস্ট কোড |
|---|---|
| কাশকাওলিয়া (Kashkawlia) | ১৯৩০ (1930) |
ডাক বিভাগের তালিকায় এই ডাকঘরটি "Kashkaolia" নামের আলাদা একটি থানার অধীনে দেখানো আছে, যা জেলার বর্তমান ১২ উপজেলার কোনোটির নামের সঙ্গে মেলে না। ডাকঘরটি কোন উপজেলায় পড়েছে, তা আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হতে পারিনি; বাংলা নামটিও ইংরেজি বানান থেকে প্রতিবর্ণীকৃত। কোডটি ডাক বিভাগের তালিকা অনুযায়ী ঠিক আছে।
এক নজরে উপজেলা সদরের পোস্ট কোড
| উপজেলা | সদর ডাকঘরের পোস্ট কোড |
|---|---|
| টাঙ্গাইল সদর | ১৯০০ |
| দেলদুয়ার | ১৯১০ |
| বাসাইল | ১৯২০ |
| নাগরপুর | ১৯৩৬ |
| মির্জাপুর | ১৯৪০ |
| সখিপুর | ১৯৫০ |
| ভূঞাপুর | ১৯৬০ |
| কালিহাতী | ১৯৭০ |
| ঘাটাইল | ১৯৮০ |
| গোপালপুর | ১৯৯০ |
| মধুপুর | ১৯৯৬ |
| ধনবাড়ী | ১৯৯৭ |
ডাকঘরের তালিকা আর উপজেলার নাম কেন সবসময় মেলে না
ডাক বিভাগের তালিকা সাজানো হয় "থানা" ধরে, আর এই থানাভিত্তিক বিন্যাস প্রশাসনিক উপজেলার সর্বশেষ সীমানার সঙ্গে সবসময় হালনাগাদ থাকে না। এ কারণেই ধনবাড়ীর ডাকঘর তালিকায় মধুপুরের অধীনে দেখা যায়, আর "Kashkaolia" নামে একটি থানাও তালিকায় আছে। আবার কিছু নামের ইংরেজি বানান প্রচলিত বানান থেকে আলাদা — যেমন জামুর্কী "Jarmuki", এলেঙ্গা "Elinga", পোড়াবাড়ী "Purabari"। ঠিকানা লেখার সময় পোস্ট কোডটি ঠিক থাকলে বানানের এই পার্থক্যে চিঠি বিলিতে সাধারণত সমস্যা হয় না। এই তালিকার বাইরে নতুন কোনো ডাকঘর চালু হলে বা কোনো কোড বদলালে তা ডাক বিভাগের সর্বশেষ ঘোষণা থেকে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
ঠিকানায় পোস্ট কোড লেখার নিয়ম
খাম বা পার্সেলের ঠিকানায় সাধারণত শেষ লাইনে ডাকঘরের নাম, তারপর পোস্ট কোড এবং শেষে জেলার নাম লেখা হয়। উদাহরণ:
- গ্রাম: (আপনার গ্রাম), ডাকঘর: পাথরাইল – ১৯১২, উপজেলা: দেলদুয়ার, জেলা: টাঙ্গাইল
অনলাইন কেনাকাটা, ব্যাংক বা সরকারি ফর্মে পোস্ট কোডের ঘরে সাধারণত ইংরেজি অঙ্কে (যেমন 1912) লিখতে হয়। জেলার উপজেলা ও ইউনিয়নের পূর্ণ তালিকা পাবেন টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলা ও ১২০ ইউনিয়ন পাতায়, আর জেলার সামগ্রিক পরিচয় টাঙ্গাইল জেলা পরিচিতি-তে।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ ডাক বিভাগ — SubOffice List of "Tangail" District (bangladeshpost.gov.bd, Internet Archive-এ ২৭ মার্চ ২০১৮-এর সংরক্ষিত কপি) — প্রবেশ 2026-10-16
- বাংলাদেশ ডাক বিভাগ — হোমপেজ (পোস্টকোড অনুসন্ধান লিংক ekdak.com-এ যায়) — প্রবেশ 2026-10-16
- WorldPostalCode — Dhaka Division, Bangladesh (স্বাধীন ক্রস-চেক; টাঙ্গাইলের ৪৩টি কোড হুবহু মেলে) — প্রবেশ 2026-10-16
- Wikipedia — Postal codes in Bangladesh (জেলাভিত্তিক পরিসর মিলিয়ে দেখার জন্য) — প্রবেশ 2026-10-16
- Wikipedia — Dhanbari (পোস্ট কোড ১৯৯৭ মিলিয়ে দেখার জন্য) — প্রবেশ 2026-10-16
সাধারণ প্রশ্ন
টাঙ্গাইল সদরের পোস্ট কোড কত?
টাঙ্গাইল সদর ডাকঘরের পোস্ট কোড ১৯০০ (1900)। শহরের কাগমারী ডাকঘরের কোড ১৯০১ এবং সন্তোষের ১৯০২।
টাঙ্গাইল জেলার পোস্ট কোড কোন সংখ্যা দিয়ে শুরু হয়?
টাঙ্গাইল জেলার সব পোস্ট কোড "১৯" দিয়ে শুরু হয় এবং ১৯০০ থেকে ১৯৯৯-এর মধ্যে থাকে। ডাক বিভাগের তালিকায় জেলায় মোট ৪৩টি ডাকঘরের কোড আছে।
মির্জাপুরের পোস্ট কোড কত?
মির্জাপুর ডাকঘরের পোস্ট কোড ১৯৪০। একই উপজেলায় গোড়াইয়ের কোড ১৯৪১, জামুর্কীর ১৯৪৪ এবং মহেড়ার ১৯৪৫।
কালিহাতী ও এলেঙ্গার পোস্ট কোড কত?
কালিহাতী ডাকঘরের পোস্ট কোড ১৯৭০ এবং এলেঙ্গা ডাকঘরের ১৯৭৪। দুটিই কালিহাতী উপজেলার অধীনে।
মধুপুর ও ধনবাড়ীর পোস্ট কোড কত?
মধুপুর ডাকঘরের পোস্ট কোড ১৯৯৬ এবং ধনবাড়ী ডাকঘরের ১৯৯৭।
ঘাটাইলের পোস্ট কোড কত?
ঘাটাইল ডাকঘরের পোস্ট কোড ১৯৮০। উপজেলার অন্য ডাকঘরগুলোর মধ্যে জাহিদগঞ্জ ১৯৮১, ধলাপাড়া ১৯৮৩ এবং লোহানী ১৯৮৪।
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি