টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা ও সেবার মানোন্নয়নে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় বৈঠক মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতির আসনে ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস এবং এই হাসপাতালের সেবার প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে। রাজধানীর বাইরে থেকেও উচ্চমানের চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব — এমন বিশ্বাস মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, যা ইতিবাচক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণে রোগীরা যাতে কোনোভাবে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক মান উন্নীত করা সম্ভব।
বৈঠকে হাসপাতালের জনবল ঘাটতি দ্রুত পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী। রোগীদের অভিযোগ জানানোর সুবিধার্থে একটি স্বচ্ছ বাক্স স্থাপনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। আলোচনায় উঠে আসে চিকিৎসক ও সহায়ক কর্মীর সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও যন্ত্রপাতির প্রাপ্যতা, রোগ নির্ণয়ের মান, ওয়ার্ডের পরিবেশ, খাবারের গুণগত মান এবং নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে থাকার বিষয়টি।
এ ছাড়া হাসপাতাল চত্বরে দালালদের তৎপরতা বন্ধ করা, মূল ফটকের বাইরের অননুমোদিত দোকানপাট সরানো, ভবন ও অবকাঠামোর সমস্যা মেটানো, শৌচাগার পরিষ্কার রাখা, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, ফরেনসিক বিভাগ চালু করা এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নতি নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন অংশ নেন। চিকিৎসক ও বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতারাও সভায় যোগ দেন।
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি