টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন যুবক নির্মাণকাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর পর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিনটি পরিবার এখন গভীর শোক ও ঋণের বোঝায় দিন কাটাচ্ছে। উপজেলার বীর নলহরা গ্রামের নজরুল ইসলাম, মজিদপুর গ্রামের পবিত্র চন্দ্র সূত্রধর এবং দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৩৫) — এই তিনজন গত ৭ মে নির্মাণকাজের ভিসায় রাশিয়ায় যান। পরিবারগুলোর অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। পরে সহযাত্রীদের মাধ্যমে তিনজনের মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গত ১৪ অক্টোবর জানায়, জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপের মাধ্যমে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের রণাঙ্গনে পাঠানো হয়। এসআরবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে এই বাংলাদেশিদের 'টোপ' হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ওই ৩০ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
নজরুল ইসলামের রাশিয়া যাওয়ার খরচ জোগাতে তার বড় ভাই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অবিভক্ত জমি বন্ধক রেখে ৯ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। নজরুলের ভাতিজার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়, যেখানে নজরুল জানান তাকে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে বন্ধকি টাকা ফেরত দিতে না পারলে জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে পরিবারটি। পবিত্র চন্দ্র সূত্রধর পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। রাশিয়া যেতে স্ত্রীর গহনা বিক্রি ও বেসরকারি সংস্থাসহ স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয় বলে পরিবার জানায়। পবিত্রর বাবা পরেশ চন্দ্র সূত্রধর (৭৫) অভিযোগ করেন, ছেলেকে জোর করে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল। তিনি সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা ও ছেলের মরদেহ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পবিত্রর স্ত্রী জয়া সূত্রধর জানান, পরিবারের সম্বল বলতে পৌনে তিন কাঠা বসতভিটা, আর ঋণদাতাদের চাপে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আমিনুল ইসলামের পরিবার জানায়, আগে ব্যবসায় ক্ষতির কারণে তার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ ছিল, সেই ঋণ শোধের আশায় তিনি রাশিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন।
তিনটি পরিবারই এখন স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি ঋণের চাপ, জমি হারানোর আশঙ্কা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। নিহতদের মরদেহ ফেরত আনা এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি