টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বংশাই ও লৌহজং নদীর তীব্র ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও একাধিক স্থাপনা বিলীন হচ্ছে; গৃহহীন হয়ে পড়েছেন দুই শতাধিক পরিবার।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় অসময়ে বংশাই ও লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর, থলপাড়া, হিলড়া আদাবাড়ি, পারদিঘী, চাকলেশ্বর, বৈলানপুর, গোড়াইল ও গাড়াইলসহ একাধিক গ্রামে বন্যার পানি নামার পরপরই এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ভাঙনে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, গাছপালা, হাট-বাজার, মসজিদ-মন্দির, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফতেপুর বাজার সংলগ্ন পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় মির্জাপুর ও বাসাইল উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, মসজিদ, হাট ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন হুমকির মুখে রয়েছে। ফতেপুর পালপাড়া এলাকার শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রাম মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার পথে।
মির্জাপুর পৌরসভার ২, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া, কুমারজানি ও বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় বংশাই নদীর ভাঙনে দুই শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। বান্দরমারা-পাথরঘাটা আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধও তীব্র ভাঙনের কারণে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, ইচাইল, সারুটিয়া, দেওহাটা, বহুরিয়া ও কামারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিএনবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আবাসিক ভবনসহ হোস্টেলের সাত-আটটি ভবন ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রায় সাত-আটটি পাকা সেতু হুমকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ হোসেন জানান, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী আগেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন, তবু স্থায়ী সমাধান হয়নি। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্যও বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন।
কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান — আমরা স্বচ্ছভাবে সংশোধন করি। সম্পাদকীয় নীতি